চাঁদা না দিলে জাল ফেলা যায় না মেঘনায়!

Send
মনির হোসেন, শরীয়তপুর
প্রকাশিত : ০৭:৪৫, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:৩৬, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

শরীয়তপুরের গোঁসাইরহাট এলাকায় মেঘনা নদীতে মাছ ধরতে গেলে চাঁদা দিতে হয় দরিদ্র জেলেদের। চাঁদা না দিলে এ নদীতে জাল ফেলতে দেওয়া হয় না তাদের। গত মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মেঘনা নদীতে গেলে এই প্রতিবেদকের কাছে এ অভিযোগ করেন কয়েকজন জেলে।

গোঁসাইরহাটের আলাওলপুর ইউনিয়ন থেকে নলমুড়ি ইউনিয়ন পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এলাকা দিয়ে মেঘনা নদী প্রবাহিত হয়েছে। এই ২০ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ২৫টির মতো ছোট-বড় চর রয়েছে। এসব চরের আশেপাশের নদীতে ৭শ’ থেকে ৮শ’ জেলে ছোট নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন বলে জানিয়েছে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র।

ভুক্তভোগী জেলেদের অভিযোগ, স্থানীয় নুরুল ইসলাম বেপারির নেতৃত্বে সুফিয়ান গাজী, মতিউর রহমান, জয়নাল মৃধা, মতি ছৈয়াল, আনোয়ার হোসেন, খোকন বেপারি ও আহসান মালত প্রতি তিন মাস পরপর জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেন। নদীতে মাছ ধরার জন্য প্রতি জেলেকে পাঁচ হাজার টাকা করে দিতে হয়। চাঁদা না দিয়ে কোনও জেলে নদীতে মাছ ধরতে পারেন না। প্রতিবাদ করলে জাল ও নৌকা আটকে রাখে চাঁদাবাজ চক্রের লোকজন। 

গোঁসাইরহাট উপজেলার দক্ষিণ কোদালপুর এলাকার জেলে সাখাওয়াত গাজী বলেন, ‘নদীতে মাছ ধরতে হলে এককালীন টাকা দিতে হয়। প্রতি তিন মাস পরপর পাঁচ হাজার টাকা করে দিই।’ একই কথা জানান শাহজালাল গাজী নামে আরও এক জেলে।

গোঁসাইরহাটের বারেকের চর এলাকার জেলে মানিক হাওলাদার ও সুমন সরদার জানান, চরের জায়গা নিজেদের বলে দাবি করেন স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা। তারা জেলেদের কাছ থেকে চর সংলগ্ন নদীতে মাছ ধরার জন্য টাকা নেন। ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে জেলেরা নদীতেই নামতে পারেন না। তাই বাধ্য হয়ে জেলেরা চাঁদা দিয়েই নদীতে জাল ফেলেন।

জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেছেন গোঁসাইরহাটের কোদালপুর এলাকার নুরুল ইসলাম বেপারি। তিনি বলেন, ‘মেঘনার বিভিন্ন চরের জমির মালিক যারা, তাদের ৬০ জনের সঙ্গে আমার চুক্তি রয়েছে। পাঁচ বছর ধরে জমি ভাড়া নিয়ে জেলেদের নদীতে মাছ শিকার করতে দিচ্ছি। এজন্য জেলেরা খুশি হয়ে যা দেন, তাই নিয়ে সন্তুষ্ট থাকি। টাকার জন্য কোনও জেলেকে আমি চাপ দেই না।’

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বৈরাগী বলেন, ‘নদী কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। দেশের সব প্রাকৃতিক জলাধারের মালিক সরকার। সেখানে সব জেলেই নির্বিঘ্নে মাছ ধরতে পারবেন। নদীতে মাছ ধরার জন্য কোনও জেলের কাছ থেকে যদি কোনও চক্র চাঁদা নেয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

/এমএ/টিএন/এমএমজে/

লাইভ

টপ