পাত্রী দেখানোর কথা বলে এনে আটক করা হলো ভুয়া চিকিৎসককে

Send
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৩:১৯, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৫০, সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৯

আটক ভুয়া চিকিৎসব মাসুদ ইকবালসিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জনের পাতানো ফাঁদে পা দিয়ে আটক হলেন ভুয়া চিকিৎসক মাসুদ ইকবাল (২৫)। জেলার বেলকুচির ইউনাইটেড হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসকের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। পাত্রী দেখানোর কথা বলে বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) তাকে কার্যালয়ে ডেকে আনেন সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ভুয়া চিকিৎসক প্রমাণিত হলে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।

মাসুদ নিজেকে অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ বলে পরিচয় দেন। তার দাবি, তিনি টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ থেকে পাস করেছেন। এছাড়া তিনি বিএমডিসি’র কিছু কাগজপত্রও প্রমাণ হিসেবে দেখান। ওই কাগজপত্রে  ‘শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ টাঙ্গাইল’র পরিবর্তে শুধু ‘টাঙ্গাইল মেডিক্যাল কলেজ’ লেখা রয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজ টাঙ্গাইল থেকে এ পর্যন্ত কোনও ব্যাচের শিক্ষার্থীই ফাইনাল পরীক্ষা দেয়নি। অথচ বেলকুচি উপজেলা সদরের ইউনাইটেড হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া ও আলট্রাসনোগ্রাফি চিকিৎসকের দায়িত্বে ছিলেন মাসুদ।

জেলা অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়ে সিভিল সার্জন ফাঁদ পেতে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেন।

সিভিল সার্জন বলেন, ‘টাঙ্গাইলের একটি সংঘবদ্ধ চক্র ভুয়া অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বেলকুচি, এনায়েতপুর, শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, হাটিকুমরুল মোড়সহ জেলার বিভিন্ন  বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রোগীদের চিকিৎসা করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দুর্ঘটনা ঘটছে। কতিপয় অসাধু ক্লিনিক ও হাসপাতাল মালিক ঠিকমতো খোঁজ-খবর না নিয়েই তাদের নিয়োগ দিচ্ছেন। সম্প্রতি দু’একজন প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় গণমাধ্যমকর্মী ও অ্যানেস্থেসিস্ট চিকিৎসক সংগঠন থেকে অভিযোগ পেয়ে আমরা তৎপর হই। এ চক্রের সদস্য মাসুদ ইকবালকে ফাঁদ পেতে কৌশলে আটক করা হয়। বাকিদেরও খোঁজা হচ্ছে।’

বেলকুচির ইউনাইটেড হাসপাতালের মালিক শামীম আহম্মেদ বলেন, ‘নিজেকে চিকিৎসক পরিচয় দিয়ে বিএমডিসির কাগজপত্র দেখালে অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞ হিসেবে তাকে আমি নিয়োগ দেই।’

সদর থানার উপ-পরিদর্শক সৌরভ কুমার দত্ত বলেন, আটক ভুয়া চিকিৎসক মাসুদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

/এসটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ