দাফনের ৪ মাস পর পরিচয় শনাক্ত, বন্ধুরা খুন করে লাশ ফেলে দিয়েছিল ঝিলে

Send
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১০:৩৫, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৯, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯

নিহত তাসিন৯  বন্ধু একসঙ্গে বেড়াতে যায় নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরের রঘুরামপুর ঝিলে। এক পর্যায়ের এক বন্ধুকে হত্যা করে লাশ ঝিলে ফেলে বাকিরা ফিরে যায় যে যার বাড়ি। পরে পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে। তবে পরিচয় না পাওয়ায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করে লাশটি। এ ঘটনার ৪ মাস পর ফেসবুকে লাশের ছবি দেখে নিহতের ছোট ভাই তার পরিচয় শনাক্ত করে। এছাড়া হত্যার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চার জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তারা হত্যার কথা স্বীকার করে আলাদতে জবানবন্দিও দিয়েছে।

ভোলাব পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (এসআই) শফিকুল ইসলাম জানান, ৩ মে উপজেলার পূর্বাচলের ১৯ নং সেক্টরের রঘুরামপুর ঝিলে এক তরুণের মৃতদেহ ভাসতে দেখে এলাকাবাসী পুলিশে খবর দেয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের পাশাপাশি পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চালানো হয়। ৪ দিন পরও পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় পুলিশ নিজ উদ্যোগে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কালনী সামাজিক কবরস্থানে তাকে দাফন করে। পরিচয় শনাক্তের জন্য লাশ উদ্ধারের পর ছবি তুলে তিনি নিজের ফেসবুকে পোস্ট করেন। চলতি মাসে সেই ছবি চোখে পড়ে নিহতের ছোট ভাই তৌহিদুল ইসলাম রবিনের। পরে নিহতের মা হালিমা বেগম ছেলের কাপড়-চোপড় আর লাশের ছবি দেখে নিশ্চিত হন যে এটা  তার নিখোঁজ ছেলে তাসিন (১৭)। গত সপ্তাহে তাসিনের মা ভোলাব ফাঁড়িতে এসে বিষয়টি জানান।

আটক চার জনতাসিনের বাড়ি মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার বাখরকান্দি এলাকায়। বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে রাজধানীর খিলগাঁও তিলপাপাড়া এলাকায় বসবাস করেন। তাসিন খিলগাঁও তালতলা এলাকায় একটি কাপড়ের দোকানে চাকরি করতো। ২ মে তাসিন বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর তাকে  আর খুঁজে পাওয়া যায়নি।

এসআইস আরও জানান, পরিবারের কাছ থেকে তাসিনের ঘনিষ্ঠ কয়েকজন বন্ধুদের নাম সংগ্রহ করে সোমবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে খিলগাঁও তিলপাড়া এলাকার মান্নান মিয়ার ছেলে সিএনজি চালক ইমরানকে আটক করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানায়, ২ মে তারা ৯ বন্ধু পূর্বাচলের ১৯ নং সেক্টরের রঘুরামপুর  এলাকায় ঘুরতে গিয়ে ঝিলে গোসলে নামে। তাসিন সাঁতার না জানায় ডুবে মারা যায়। তার কথা সন্দেহজনক হওয়ায়  তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী পুলিশ শাওন,আব্বাস ও শামীম নামে আরও তিন জনকে আটক করে। তারাও পুলিশকে একই কথা বলে। কিন্তু ময়নাতদন্তে লাশের পেটে পানির আলামত না থাকায় পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ২ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তারা জানায়, পূর্বশত্রুতার জেরে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর থেকেই তাসিনকে হত্যার পরিকল্পনা শুরু করে ইমরান। অন্যান্যাদের যোগসাজশে ২ মে পূর্বাচলে এনে তাকে নির্যাতনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে ঝিলে ফেলে দেয়। আটক চার জনই বৃহস্পতিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) নারায়ণগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড মাহমুদুল মোহসিনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

 

/এসটি/

লাইভ

টপ