রংপুর-৩: এরশাদের উত্তরসূরি ছেলে না ভাতিজা?

Send
লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
প্রকাশিত : ২০:০০, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৫৮, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

70709156_1108554162866444_637196430297006080_nরংপুর-৩ (সদর) আসনের উপনির্বাচন প্রয়াত জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন  ‍মুহম্মদ এরশাদের পরিবারের দুই সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ আসনে দলীয় প্রার্থী হয়েছেন এরশাদের ছেলে শাদ এরশাদ, অন্যদিকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এরশাদের ভাতিজা আসিফ শাহারিয়ার। তাই এ নির্বাচন এরশাদ পরিবারের দুই সদস্যের লড়াইয়ে জমে উঠেছে। দুই চাচাতো ভাই ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন, দোয়া আর ভোট চাইছেন। 

এ উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রয়াত এরশাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের প্রার্থী রেজাউল করিম রাজুকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এছাড়া, বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান নির্বাচনে অংশ নিলেও তার প্রচারণা তেমন জোরালো নয়।  

আসনটি দীর্ঘ ২৫ বছর দখলে ছিল এরশাদের। তাই এটি ধরে রাখতে মরিয়া জাতীয় পার্টি। সে কারণেই প্রার্থিতা দেওয়া হয়েছে এরশাদপুত্র শাদকে। কিন্তু এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন এরশাদের প্রয়াত ছোট ভাই মোজাম্মেল হক লালুর ছেলে আসিফ শাহারিয়ার। তিনি ভোটারদের কাছে বলছেন, শাদ বহিরাগত। তিনি কোনোদিন রংপুরে আসেননি। এমনকি এরশাদও কখনোই তাকে সঙ্গে নিয়ে রংপুরে আসেননি। তিনি জাতীয় পার্টির কেউ নন। ভোট শেষে আবারও বিদেশে চলে যাবেন। তাই শাদকে ভোট না দিতে বলছেন তিনি।

শাদ এরশাদএ ব্যাপারে আসিফের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি রংপুরে সপরিবারে থাকেন। তাদের পৈত্রিক বাড়ি স্কাইভিউ। নগরবাসীসহ সাধারণ মানুষের সঙ্গে তার রয়েছে নিবিড় সম্পর্ক। জনগণ শাদকে চেনে না। সে যে জাতীয় পার্টির প্রার্থী সেটা জনগণ বিশ্বাস করতে চায় না। শাদকে বহিরাগত আখ্যায়িত করে তিনি জানান, জনগণ তাকে আগে কখনও দেখেনি। তাকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী বলে মনে করে না ভোটাররা। তাই বিপুল ভোটে তিনি বিজয়ী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।  তিনি বলেন, ‘লাঙ্গল প্রতীকের মর্যাদা নষ্ট হয়েছে একজন বহিরাগত প্রার্থীকে মনোনয়ন দিয়ে। সে কারণে ভোটাররা এরশাদ পরিবারের সন্তান হিসেবে মোটরগাড়িতেই ভোট দেবে।’

অন্যদিকে, জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাদ এরশাদ জানান, আসিফ তার ভাই। তিনি নির্বাচন করতেই পারেন। এ বিষয়ে তার বলার কিছু নেই। শুধু বড় ভাই আসিফ নয়, সব প্রার্থীকেই তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী মনে করেন। এ ব্যাপারে আর কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

single pic template-1 copy (2)-Recoveredএদিকে, রংপুর মহানগর জাপা সভাপতি সিটি মেয়র মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা, সাধারণ সম্পাদক এসএম ইয়াসিরসহ মহানগর জাপার অধিকাংশ নেতাকর্মী এখন পর্যন্ত শাদের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না। সিটি মেয়র মোস্তফা অনেক আগেই ঘোষণা দিয়েছিলেন, শাদকে মনোনয়ন দিলে তিনি তার পক্ষে কাজ করবেন না। তিনি আগের সিদ্ধান্তেই অনড় আছেন কিনা জানতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে মহানগর জাপার যুগ্ম সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, সিটি মেয়র ও মহানগর সভাপতি মোস্তফা যে ঘোষণা দিয়েছেন তার প্রতি একমত হয়ে তারা শাদের পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না।

তবে এ ব্যাপারে শাদ জানান, সিটি মেয়রের সঙ্গে তার কথা হচ্ছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।

এদিকে, বিএনপি প্রার্থী রিটা রহমান বৃহস্পতিবার নগরীর ধাপ এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে। তার মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে। পরে মাইক ফেরত দেওয়া হলেও মেমোরি কার্ড ফেরত দেওয়া হয়নি। তিনি এ ঘটনায় অভিযোগের তীর ছুড়েছেন আওয়ামী লীগের দিকে।

ভোটারের কাছে রিটা রহমানরিটা রহমানের অভিযোগের  ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসার জিএম শাহাতাব উদ্দিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবেন।

তবে, রিটা রহমানের পক্ষে জেলা ও মহানগর বিএনপির অধিকাংশ নেতাকর্মী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছেন না বলে জানা গেছে। শুধু মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামসুজ্জামান শামু, যুগ্ম সম্পাদক লাকুসহ দু-চারজন নেতাকে তার সঙ্গে মাঝে মাঝে দেখা গেছে। তবে রিটা রহমানের দাবি, সবাই তার সঙ্গে আছেন।

উল্লেখ্য, আগামী ৫ অক্টোবর রংপুর-৩ (সদর) আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ নির্বাচনে ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ