নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ, ডিঙি নৌকাও চলে না ডাকাতিয়ায়

Send
সাইফুল ইসলাম স্বপন, লক্ষ্মীপুর
প্রকাশিত : ১০:৩৭, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০৮, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

নদীতে বাঁধ দেওয়ায় কচুরিপানা আটকে আছে দখল আর দূষণে লক্ষ্মীপুরের ডাকাতিয়া নদী হারাতে বসেছে ঐতিহ্য। এক সময়ের খরস্রোতা এই নদীতে এখন নেই স্রোত। লঞ্চ, কার্গো তো দূরের কথা ডিঙি নৌকাও চলে না। অথচ এক সময় ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন বন্দর থেকে যাত্রীবাহী লঞ্চ ও মালবাহী কার্গো আসতো এ নদী দিয়ে। তবে কর্তৃপক্ষ কার্যত কোনও পদক্ষেপ না নিলেও নদী দখলমুক্ত করার আশ্বাস দিয়েছে।

জানা গেছে, রায়পুর পৌরসভা কাঞ্চনপুর এলাকার ভূইয়া ট্রেডাসের নামে বদিউল আলমকে ডাকাতিয়া নদীর ৯ একর জমি দু’বছরের জন্য লিজ দিয়েছে। লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক বলছেন, নদীর জমি পৌরসভার লিজ দেওয়ার সুয়োগ নেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডাকাতিয়া নদীর ৯ একর রায়পুর পৌরসভাসহ ৭৭ একর জমি প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে। তারা নদীতে ২০-২৫টি বাঁশের বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করছে। এছাড়া অবৈধভাবে ঘরবাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করেছে। বাঁধের কারণে কচুরিপানাসহ বিভিন্ন ময়লা-আবর্জনা জমে দূষিত হচ্ছে নদীর পানি।

নদীতে বাঁধ দেওয়ায় ময়লা-আবর্জনা জমে আছে সাবেক পৌর মেয়র রফিকুল হায়দার বাবুল পাঠান জানান, ডাকাতিয়া নদীর মহিলা কলেজ থেকে হায়দরগঞ্জ সড়ক পর্যন্ত একসময় বিএনপি নেতা বদরুল আলম জিন্নাসহ অনেকে এবং পরে আরও কয়েকজন দখল করে। এবার রায়পুর পৌরসভা থেকে ভূইয়া ট্রেডার্স লিজ নিয়েছে। এছাড়া কিছু অংশে বর্তমান মেয়র মাছ চাষ করছেন। হায়দরগঞ্জ রোড থেকে উত্তরে দুই অংশে একটিতে শিশির, আরেক অংশে সিরাজ সর্দার মাছ চাষ করছেন।

রায়পুর পৌর মেয়র ইসমাইল হোসেন খোকন বলেন, ‘পৌরসভার মধ্যে কোনও বদ্ধ জলমহাল বা পুকুর ২০ একরের নিচে হলে পৌরসভা তত্ত্বাবধান করবে এমন সরকারি গেজেটের রয়েছে। তাই নদীর ৯ একর জায়গা ৫ লাখ টাকায় লিজ দিয়েছি।’

নদী দখল করে মাছ চাষ করার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘আমি পৌর মেয়র। এজন্য আমার নাম আসতেই পারে।’

রায়পুরের নতুন বাজারে ডাকাতিয়া নদীতে এক সময় লঞ্চ ঘাট ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও ঘাট থেকে লঞ্চে করে ঢাকা গেছি। ডাকাতিয়া নদীর চাঁদপুর অংশে  স্লুইসগেট নির্মাণের কারণে এখন আর এখানে লঞ্চ আসছে না।’

নদীর পারের বাসিন্দা রহিম সওদাগর জানান, পানি আটকে থাকায় কচুরিপানা, কুকুর, বিড়াল মরার গন্ধে আশপাশের মানুষ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

ডাকাতিয়া সুরক্ষা আন্দোলন কমিটির সচিব জিলু রহমান জানান, অবৈধ দখলে ডাকাতিয়ার দু’পাশেই অবৈধভাবে দোকানঘর, বাসাবাড়ি নির্মাণসহ দখল করা হচ্ছে নদী। সরকারিভাবে দখলদারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় নদী লুটে খাচ্ছে দখলদাররা। বাঁধে ময়লা-আবর্জনা আটকে জলাবদ্ধ হয়ে থাকছে রায়পুরের আশপাশ।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু মুসা বলেন, ডাকাতিয়া নদীর কোনও অংশই ইজারা দেওয়া হয়নি। যারা মাছ চাষ করছেন তারা অবৈধ।

জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, ‘কয়েক দিনের মধ্যে ডাকাতিয়া নদীর অবস্থা দেখতে যাবো। ডাকাতিয়া নদীকে দখলমুক্ত করতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া সরকারিভাবে পৌরসভা লিজ দেওয়ার সুয়োগ নেই। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদের উদ্যোগসহ নদীর স্রোত প্রবাহ ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

 

 

/এসটি/

লাইভ

টপ