সংঘবদ্ধ ধর্ষণ খুলনার জিআরপি থানার ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১১:৪০, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪০, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

খুলনা জিআরপি থানা (ফাইল ফটো)খুলনার জিআরপি থানার ওসি উছমান গনিসহ পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে আদালতে গণধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৩ এ অভিযোগটি দায়ের করা হয়। ভিকটিম নিজেই বাদী হয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ আদালতে দাখিল করেন। ভিকটিমের পক্ষে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা মানবাধিকার খুলনার সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট মো. মোমিনুল ইসলাম আদালতে অভিযোগ জমা দেন।
অ্যাডভোকেট মো. মমিনুল ইসলাম বলেন, ‘জিআরপি থানায় ধর্ষণের শিকার ভিকটিমের মেডিক্যাল রিপোর্ট পাওয়া গেছে। সেখানে ভিকটিমকে ধর্ষণের সব ধরনের আলামত পাওয়ার কথা ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ঘটনাটি পুরনো হয়ে যাওয়ায় কোনও মন্তব্য করা হয়নি। এখন ডিএনএ পরীক্ষার দিকেই আমরা অগ্রসর হবো। যেহেতু মেডিক্যাল রিপোর্টে ধর্ষণের আলামত রয়েছে, তাই আমরা আগেই আদালতে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ দায়ের করেছি। রবিবার বেলা সাড়ে ১২টায় আদালতে এ অভিযোগের শুনানি হবে।’
উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে কমিউটার ট্রেনে খুলনায় আসার পথে রাতে ফুলতলা রেলস্টেশনে কর্তব্যরত জিআরপি পুলিশের সদস্যরা ওই গৃবধূকে মোবাইল চুরির অভিযোগে আটক করে। পরে ওই রাতে তাকে খুলনা জিআরপি থানা হাজতে রাখা হয়। পরদিন ৩ আগস্ট তার কাছ থেকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার দেখিয়ে একটি মামলা দিয়ে তাকে খুলনার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত ফুলতলার মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। ৪ আগস্ট আদালতে জামিন শুনানির জন্য তাকে হাজির করা হয়। এ সময় জিআরপি থানায় রাতভর সংঘবদ্ধ ধর্ষণের বিষয়টি আদালতের সামনে তুলে ধরেন ভিকটিম।
ভিকটিম বলেন, ওসি উছমান গনি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এরপর আদালতের নির্দেশে ৫ আগস্ট খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। এরপর পাকশি রেলওয়ে জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলামের নির্দেশে ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তের জন্য তিন সদস্যের কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন, কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ এবং সদস্যরা হলেন কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের ডিআইও-১ পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শ.ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. বাহারুল ইসলাম।
এ কমিটি ৬ আগস্ট থেকে তদন্ত শুরু করেন। ৭ আগস্ট ওসি উছমান গণি এবং এসআই নাজমুলকে ক্লোজড করে পাকশি নেওয়া হয়। ৮ আগস্ট পাকশি ও ঢাকা থেকে গঠিত পৃথক দুটি তদন্ত টিমের সদস্যরা আদালতের অনুমতি নিয়ে জেল গেটে ভিকটিমের জবানবন্দি নেন। এরপর আদালতের নির্দেশে ৯ আগস্ট ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে জিআরপি থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
এ মামলার তদন্তকারী অফিসার হিসেবে ফিরোজ আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পাকশি থেকে গঠিত কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়। ওই সাত দিন সময় শেষে ১৩ আগস্ট আরও ১৫ দিনের সময় চেয়ে আবেদন করা হলে তা অনুমোদন হয়। এদিকে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ১৪ আগস্ট ভিকটিমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে আবেদন করেন। আদালতে ১৯ আগস্ট শুনানি শেষে ১০ দিনের মধ্যে ভিকটিমকে জেল গেটে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অনুমতি দেয়।

/এআর/

লাইভ

টপ