হনুমান দলের থানা ঘেরাও

Send
যশোর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২২:৪৩, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:৫৩, সেপ্টেম্বর ২২, ২০১৯

থানার সামনে হনুমানের দলআপনার হয়তো বিশ্বাস হচ্ছে না। এটাও কি সম্ভব? কিন্তু, এমন ঘটনাই ঘটেছে। শিশু হনুমানকে মারধর করে আহত করায় থানা ঘেরাও করে প্রতিবাদ জানিয়েছে কালোমুখ হনুমানের দল। রবিবার (২২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কেশবপুরের ঐতিহ্য বিরল প্রজাতির কালোমুখ হনুমান দল কেশবপুর থানার প্রধান ফটকে অবস্থান নেয়। কেশবপুর থানার ওসি মো. শাহিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয়রা জানান, রবিবার দুপুরে একদল হনুমান কেশবপুর থানায় ঢুকে পড়ে। তারা গেটের সামনে অবস্থান নেয়। এরপর তারা ডিউটি অফিসারের কক্ষে ঢুকে পড়ে। তাদের উপস্থিতিতে থানা চত্বরসহ পুলিশ অফিসাররা হতচকিত হয়ে পড়েন।

কেশবপুর থানার ওসি মো. শাহিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘থানায় হনুমানের উপস্থিতির খবর পেয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে দেখি, দুটি মেয়ে হনুমান দেয়ালের একপাশে আলাদা বসে আছে। তাদের একজনের কোলে একটি আহত শিশু হনুমান। বুঝতে পারি, বাচ্চাটিকে মারধর করে আহত করা হয়েছে। ওপাশে তখন ২০ থেকে ২৫টি হনুমান দলবদ্ধভাবে থানার প্রধান ফটকের সামনে ও ডিউটি অফিসারের কক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আমি বাচ্চার ওপর হামলাকারীদের বিষয়ে দেখবো বলে আশ্বাস দেই। এরপর কিছু খাবার দিলে ঘণ্টাখানেক অবস্থানের পর তারা চলে যায়।’

থানার সামনে হনুমানের দল
ওসি আরও বলেন, ‘আমার সময়কালে থানা চত্বরে দলবদ্ধভাবে হনুমানের আসার ঘটনা দ্বিতীয়বারের মতো ঘটলো। মাস তিনেক আগে তারা একবার থানায় আসে। তাদের অবস্থা দেখে বুঝতে পারি, তাদের খাবারে সমস্যা হয়েছে। পরে জানতে পারি, আগের দিন তাদের খাবার দেওয়া হয়নি। আমি তাদের খাবারের বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো, এমন আশ্বাস দিলে তারা চলে যায়।’

কেশবপুর উপজেলা বন কর্মকর্তা আব্দুল মোনায়েম হোসেন জানান, শহর ও শহরতলীতে প্রায় ৫ শতাধিক হনুমান রয়েছে। তাদের জন্য প্রতিদিন মাত্র ৩৫ কেজি কলা, ২ কেজি বাদাম ও ২ কেজি পাউরুটি দেওয়া হয়। যা প্রয়োজনের তুলনায় খুব কম। খাবার না পেয়ে হনুমান মানুষের বসতবাড়ি ও অফিসে ঢুকে পড়ে। তাছাড়া হনুমান অত্যন্ত স্পর্শকাতর প্রাণী। তাদের ওপর হামলা করা হলে তারা দলবদ্ধভাবে এভাবে থানায় যায়। ইতোপূর্বে এরকম একাধিক ঘটনা ঘটেছে।

 

/এনআই/

লাইভ

টপ