গাইবান্ধায় তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে স্থানীয়রা দিশেহারা

জিল্লুর রহমান পলাশ, গাইবান্ধা
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:২২আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ১৩:৪১

গাইবান্ধায় ভাঙন কবলিত এলাকা

তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে নদী ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার লালচামাড়ার, হরিপুর, চন্ডিপুর, তারাপুর ও কাপাসিয়া ইউনিয়নে তিস্তার ভাঙনের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। এরইমধ্যে কয়েকটি গ্রামের সাত শতাধিক বাড়িঘর নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। ভাঙনে বিলীন হয়েছে অন্তত এক হাজার একর ফসলি জমি। এছাড়াও নিশ্চিহ্ন হয়েছে গাছপালা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ নানা ধরণে স্থাপনা। অন্যদিকে ভাঙন কবলিত এলাকায় জিওব্যাগ ফেলছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। কিন্তু তাতে কোনও কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

গাইবান্ধায় তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে প্রতি বছরই নিঃস্ব হচ্ছে অনেক পারিবার। গেল মাসেও সদর, সুন্দরগঞ্জ, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলার অন্তত ২ হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো কে কোথায় আশ্রয় নিয়েছে ক্ষতিগ্রস্তদের তা জানা নেই।ভাঙন আতঙ্কে দিশেহারা নদীর তীরবর্তী মানুষ। এছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে বসতঘর, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাট-বাজার ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা।

লালচামাড় ঘাটের বাসিন্দা আয়তাল হক বলেন,‘বন্যার আগেও নদী ভাঙনে বাড়িঘর, ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। এখন পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বেড়েছে। দফায় দফায় ভাঙনের ফলে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। ভাঙনের শিকার অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধসহ অন্যের জমিতে। খেয়ে না খেয়ে তাদের দিন কাটছে।’

গাইবান্ধায় ভাঙনের মিকার পরিববারগুলো আশ্রয় নিয়ে চিন্তিত

হরিপুর ঘাটের বাসিন্দা আবদুর ছালাম বলেন,‘ভাঙনের কারণে প্রতিনিয়ত বাড়িঘর সড়িয়ে নিতে হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত আমরা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো জানি না। বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে না উঠতেই আবার ভাঙন। আমাদের মতো অনেকেই এখন দিশেহারা।’ 

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফজলুর রহমান নান্নু বলেন,‘তিস্তার ভাঙনে দিশেহারা হয়ে পড়েছে নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষ। গত ১৫ দিন হরিপুরসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের ৭ শতাধিক বসতভিটা ও ১ হাজার আবাদি জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে আরও বাড়িঘর, ফসলি জমি, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। সেই সঙ্গে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়াও ভাঙনে ঘরবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হাজার-হাজার পরিবার বাঁধসহ অন্যর জায়গায় কোনও রকমে বসবাস করছে। ক্ষতিগ্রস্ত এসব পরিবারকে সহায়তা ও পূনর্বাসণের জন্য বারবার দাবি জানানো হলেও কোন ব্যবস্থা নেয়নি সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

তিস্তা নদী ভাঙনের শিকার একটি গ্রাম

সম্প্রতি ভাঙনে দিশেহারা এলাকার মানুষ তিস্তা নদীর পাড়ে পুঠিমারী এলাকায়  একসঙ্গে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায়সহ বিশেষ মোনাজাত করেছে। এছাড়াও এলাকাবাসী ২১ সেপ্টেম্বর দুপুরে কচিমবাজার এলাকায় নদী পাড়ে দাঁড়িয়ে মানববন্ধন করেছেন।

এ বিষয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-সহকারী প্রকৌশলী এটিএম মোনায়েম হোসেন বলেন,‘প্রাথমিকভাবে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে জিওব্যাগ ফেলে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ভাঙন রোধে ও তীর রক্ষায় মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে। অনুমোদন হলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

অব্যহত নদীর ভাঙনে উদ্বিগ্ন গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী। তিনি বলেন,‘ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড তৎপর রয়েছে। বরাবরই ভাঙন রোধে নদী তীরবর্তী এলাকায় শুধু অস্থায়ীভাবে বালুর বস্তা ফেলা হয়েছে। তবে এবার ৬টি পয়েন্টে ৪১২ কোটি টাকার প্রকল্পে একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই প্রকল্প অনুমোদন হলে স্থায়ীবাঁধ নির্মাণসহ পুরো এলাকাকে সুরক্ষা করা সম্ভব হবে।’

শুধু আশ্বাসই নয়, ভাঙন রোধে মজবুত বাঁধ নির্মাণসহ ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণবাসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি, নদী তীরবর্তী এলাকার মানুষের।

 

/জেবি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বাংলাদেশে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হচ্ছে এলপিপি
বাংলাদেশে ‘কালো তালিকাভুক্ত’ হচ্ছে এলপিপি
মস্কোতে রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৩, আহত ২১
মস্কোতে রেস্তোরাঁয় বোমা বিস্ফোরণে নিহত ৩, আহত ২১
রোগী বললেন ১ হাজার টাকায় ভ্যাকসিন কিনেছি, শুনে দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
রোগী বললেন ১ হাজার টাকায় ভ্যাকসিন কিনেছি, শুনে দুই কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী
জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার
জুলাইয়ে রেমিট্যান্স এলো ২৮৫ কোটি ৯০ লাখ ডলার
সর্বাধিক পঠিত
২০ বছর ধরে মৃত মহিউদ্দিনের বেতন তুলে নিচ্ছেন জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন
২০ বছর ধরে মৃত মহিউদ্দিনের বেতন তুলে নিচ্ছেন জামায়াত নেতা মহিউদ্দিন
ইসরায়েল অথবা যুক্তরাষ্ট্র, যেকোনও একটিকে বেছে নিতে হবে বললেন মার্কিন জেনারেল
ইসরায়েল অথবা যুক্তরাষ্ট্র, যেকোনও একটিকে বেছে নিতে হবে বললেন মার্কিন জেনারেল
বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন: বস্তাভর্তি উত্তরপত্রসহ ধরা পড়লেন শিক্ষক
বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন: বস্তাভর্তি উত্তরপত্রসহ ধরা পড়লেন শিক্ষক
দেশের একমাত্র আইকনিক রেলস্টেশনটি বেসরকারি খাতে দেওয়া হচ্ছে
দেশের একমাত্র আইকনিক রেলস্টেশনটি বেসরকারি খাতে দেওয়া হচ্ছে
আসিয়ানে যোগ দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশের, কারণ জানালেন মহাসচিব
আসিয়ানে যোগ দেওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশের, কারণ জানালেন মহাসচিব