কুমিল্লার যে বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন সম্রাট (ভিডিও)

Send
রফিকুল ইসলাম, ফেনী
প্রকাশিত : ২০:০২, অক্টোবর ০৭, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৩, অক্টোবর ০৮, ২০১৯

কুমিল্লার যে বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন সম্রাটক্যাসিনোকাণ্ডে গ্রেফতারের আগে সদ্য বহিষ্কৃত ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল হোসেন চৌধুরী ওরফে সম্রাট কুমিল্লায় এক জামায়াত নেতার বাড়িতে আত্মগোপনে ছিলেন। ওই বাড়িটি সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, ভারতে পালিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন। বাড়ির দোতলা থেকে র‍্যাব সদস্যরা সম্রাট ও তার সহযোগী আরমান আলীকে আটক করেন। বাড়ির মালিক ওই জামায়াত নেতার নাম মনির চৌধুরী। তিনি কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের মৃত সোনা মিয়া চৌধুরীর ছেলে। চৌদ্দগ্রাম আলকরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হেলাল এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দা জামিল উদ্দিন , নাইমুল হক, কমল উদ্দিনসহ বেশ কয়েকজন গ্রামবাসী বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, সম্রাটকে আটকের সময় মনির চৌধুরী ও তার শ্যালক ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের মেয়র আলাউদ্দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় সম্রাট ও তার সহযোগী দরজার বাইরে তালা দিয়ে ভেতরে লাইট জ্বালিয়ে থাকতেন। সন্ধ্যার আগে পুকুর পাড়ে গিয়ে বসে থাকতেন। মানুষের সামনে যেতেন না।

স্থানীয়রা আরও জানান, শনিবার (৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে র‍্যাবের কয়েকটি গাড়ি মনির চৌধুরীর বাড়ি ঘিরে ফেলে। পরে আরও কিছু গাড়িতে আসা প্রায় অর্ধশতাধিক কালো পোশাকধারী র‍্যাব সদস্য বাড়িটি ঘিরে ফেলেন। রাত ১১টার দিকে দোতলার একটি কক্ষ থেকে সম্রাট ও আরমান আলীকে বের করে আনে র‍্যাব সদস্যরা। পরে রাত সোয়া ১টার দিকে তাদের নিয়ে ওই বাড়ি ত্যাগ করে র‍্যাবের গাড়ি।

কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন,ওই বাড়িতে চারটি পরিবার ছিল। এখন তারা এসব পরিবারের কোনও সদস্যই সেই বাড়িতে থাকেন না। সবাই পরিবার নিয়ে শহরে থাকেন। মনির চৌধুরীর পরিবার ঢাকায় থাকে, তিনি থাকেন ফেনীতে। তবে তার স্টার লাইন পরিবহন ব্যবসা এবং ব্রিকফিল্ড রয়েছে ফেনীতে।

চৌদ্দগ্রাম আলকরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হেলাল জানান, র‍্যাবের অভিযানে সম্রাট ও তার সহযোগী গ্রেফতারের পর পদুয়া ও কাছুড়ি সীমান্তবর্তি এলাকার লোকজন জানিয়েছিলেন, গত শনিবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যায় পাচারকারী একটি চক্রের সঙ্গে দামি গাড়িতে আসা বেশ কয়েকজন অপরিচিত লোককে দেখা গেছে সেখানে। তাদের গতিবিধি দেখে সন্দেহ হয়েছে তারা সীমান্ত ফাঁড়ির পথ খুঁজছে। চেয়ারম্যান গোলাম ফারুক হেলাল বলেন, ‘বাড়ির মালিক মনির চৌধুরী ছাত্রশিবিরের নেতা ছিলেন। পরে তিনি জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। তিনি ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের মেয়র আলাউদ্দিনের বোনকে বিয়ে করেন। ফেনীতে থেকে ব্যবসা-বাণিজ্য করেন। ২০১৩-১৪ সময়ে তার ভাতিজা নাজিম চট্টগ্রামে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড চালাতে গিয়ে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। এছাড়া তার আরেক ভাতিজা তসলিম কুঞ্জুশ্রীপুর গ্রামের চৌধুরী বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ককটেলসহ আটক হয়। পরে ফেনীর এই মেয়রের মধ্যস্থতায় তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ। মনির চৌধুরী এবং তার বাড়ির সবাই জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন তাদের সহযোগিতা করে আসছেন।’

তবে ফেনী পৌরসভার মেয়র হাজি আলাউদ্দিন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্রাট ও আরমান গ্রেফতার হওয়ার সময় তিনি একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় ছিলেন। ঢাকা থেকে কখন ফ্লাইওভার ও দাউদকান্দি ব্রিজ পার হয়েছেন চাইলে তিনি বলেন, ‘ব্রিজের কাছে যে সিসিটিভি ক্যামেরা আছে সেগুলো চেক করলেই যে কেউ এসব তথ্য জোগাড় করে নিতে পারবেন।’

তার বোনজামাই জামায়াত নেতা মনির চৌধুরীর বাড়িতে কোন সূত্র ধরে সম্রাট আত্মগোপনে ছিলেন-জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মনিরের সঙ্গে আত্মীয়তার সুবাদে সম্রাট সেই বাড়িতে আত্মগোপন করেছিল বলে শুনেছি।’

আরও পড়ুন- 

জামায়াত নেতার বাড়িতে লুকিয়ে সীমান্ত পাড়ি দেওয়ার প্রস্তুতি ছিল সম্রাটের!

সম্রাটের উত্থান যেভাবে 

সম্রাটের পতন (ভিডিও)

ক্যাসিনোর টাকা কোথায় রেখেছেন সম্রাট?

অবশেষে সম্রাট গ্রেফতার

 

 

 

/এফএস/টিএন/

লাইভ

টপ