পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীতে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি (ভিডিও)

Send
মনির হোসেন, শরীয়তপুর
প্রকাশিত : ১৭:৫১, অক্টোবর ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৫, অক্টোবর ১০, ২০১৯

পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীতে ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদীতে চলাচলকারী নৌযান থেকে প্রকাশ্যে চলছে চাঁদা আদায়। শরীয়তপুরের ভোজেশ্বর কীর্তিনাশা নদী থেকে নড়িয়ার সুরেশ্বর পদ্মা নদী পর্যন্ত মাত্র পাঁচ কিলোমিটার নদীপথের মধ্যেই তিনটি পয়েন্টে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। চাঁদা না দিলে মারধরসহ বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে নৌযান শ্রমিকদের। স্থানীয় প্রভাবশালীদের পাশাপাশি চাঁদা আদায়ে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে পুলিশের বিরুদ্ধেও।

সরজমিনে গিয়ে নৌযান শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বরিশাল অঞ্চল থেকে ঢাকায় নৌ যোগাযোগের জন্য শরীয়তপুরের ওপর দিয়ে বয়ে চলা পদ্মা ও কীর্তিনাশা নদী একটি গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প রুট। সময় কম লাগায় এবং বড় নদী থেকে ঝুঁকি কম থাকায় প্রতিদিন ছোট বড় মিলিয়ে প্রায় শতাধিক পণ্যবাহী জাহাজ এই পথে চলাচল করে।

নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর কীর্তিনাশা নদীর রমেশ মাঝির ঘাট এলাকায় প্রতিটি মালবাহী নৌযান থেকে ২শ’ টাকা করে আদায় করেন সাজন মগদম নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, টাকা দিতে না চাইলে তিনি মারধর ও জাহাজ আটকে রাখাসহ শাস্তি হিসেবে অতিরিক্ত টাকাও আদায় করেন।

নড়িয়া কীর্তিনাশা নদীর গোলাম মাওলা সেতু এলাকায় প্রতিটি নৌযান থেকে ৫শ’ টাকা করে আদায় করেন স্থানীয় মোখলেস শেখ, নুরুজ্জামান শেখ, মনির শেখ ও লতিফ শেখ চক্র। সর্বশেষ নড়িয়ার সুরেশ্বর এলাকায় পদ্মা নদীতে ট্রলার চালক বাদল মাঝিকে দিয়ে ২শ’ টাকা আদায় করে সুরেশ্বর নৌ-পুলিশ।

বরিশাল থেকে ঢাকার নবীনগরের উদ্দেশে যাত্রা করা এমভি রাকিব খান জাহাজের শ্রমিক মো.কাইউম বলেন, শরীয়তপুরের ভোজেশ্বরে ২শ’ টাকা, নড়িয়ায় ৫শ’ টাকা এবং সুরেশ্বরে পুলিশকে ২শ’ টাকা দিতে হয়। এছাড়া কাঁচিকাটা এলাকায় মাঝে মাঝে কয়েক যুবক এসে টাকা দাবি করে।

এমভি আল্লাহ ভরসার সারেং মানিক মিয়া, এমভি ফারদিনের নাসির উদ্দীন, এমভি প্রিন্স অব বাহাদুরের শহিদুল ইসলাম ও এমভি মক্কা মদিনার আব্বাস মিয়া বলেন, ভোজেশ্বরে সাজন মগদম নামে এক ব্যক্তি ২শ’ টাকা করে চাঁদা নেন। নড়িয়ায় মোখলেস শেখ ও তার লোকজন সন্ধ্যার পরে জাহাজে এসে ৫শ’ টাকা করে নিয়ে যায়। আর সুরেশ্বরে ২শ’ টাকা করে নেয় পুলিশ। টাকা না দিলে জাহাজ আটকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়।

ভোজেশ্বর কীর্তিনাশা নদীতে চাঁদা আদায়কারী সাজন মগদমের কাছে টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে, তিনি ট্রলার নিয়ে দ্রুত মাঝ নদীতে সটকে পড়েন।

সুরেশ্বর নৌ-পুলিশের পক্ষে চাঁদা আদায়কারী ট্রলার চালক বাদল ছৈয়াল বলেন, ‘আমার ট্রলারটি সুরেশ্বর নৌ-পুলিশ তাদের কাজে ব্যবহার করে। আমি তাদের ভাড়া খাটি। প্রতিদিন যা কালেকশন হয়, সেখান থেকে আমার ট্রলারের তেল খরচ ও ভাড়া দিয়ে বাকিটা তারা নিয়ে যায়। তারা কখনও যেতে না পারলে আমি গিয়ে কালেকশন করি।’

তবে পুলিশের চাঁদা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সুরেশ্বর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপ-পরিদর্শক নীল রতন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন,‘সুরেশ্বর এলাকায় কোনও পুলিশ চাঁদা আদায় করে না। পুলিশের নাম করে কেউ যদি চাঁদা নিয়ে থাকে তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক কাজী আবু তাহের বলেন,‘চাঁদাবাজ যেই হোক, ছাড় দেওয়া হবে না। নদীতে চাঁদাবাজি বন্ধে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

/এআর/

লাইভ

টপ