খুলনায় মদপানে আট জনের মৃত্যু, তদন্তে নামছে প্রশাসন

Send
খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৮:২৩, অক্টোবর ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৫০, অক্টোবর ১০, ২০১৯

খুলনাখুলনায় মদপানে আটজনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নামছে প্রশাসন। খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর থেকে জানা গেছে, যারা মদপানে মারা গেছেন তাদের কোনও পারমিট ছিল না। তাছাড়া কোন জায়াগা থেকে এবং কার মাধ্যমে এই মদ এসেছে সেটি তদন্ত করে দেখা হবে। এছাড়া মদের মধ্যে বিষাক্ত কিছু ছিল কিনা তাও তদন্ত করে বের করা হবে।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সূত্রমতে, মহানগরীতে দেশি মদের লাইসেন্সপ্রাপ্ত দোকান ছয়টি, ফুলতলা ও চালনায় রয়েছে একটি করে। এছাড়া বিদেশী (ফরেইন) মদের দোকান (অপসপ) রয়েছে একটি। ক্লাব (বার) রয়েছে দুটি। তার একটি খুলনা ক্লাব ও অপরটি হোটেল ক্যাসল সালাম।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, দেশি মদ খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা তেমন ঘটে না। ভারতীয় ও চোলাই মদ খেয়ে এ ধরনের মৃত্যু হতে পারে।
খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডের সহকারী রেজিস্ট্রার ডা. খালেদ মাহমুদ বলেন, ‘মদপানেই এ সব লোকের মৃত্যু হয়েছে। সেটি হতে পারে অতিরিক্ত অথবা ভেজাল মদপানের কারণে। সবকিছুই পাওয়া যাবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর।’
নিহত অমিত শীলের স্বজন রমেশচন্দ্র শীল জানান, পূজার দিন বন্ধু-বান্ধবকে নিয়ে বাংলা মদ পান করে অমিত। অতিরিক্ত মদপান করায় অমিতসহ তিন জনই অসুস্থ হয়ে পড়েন। অমিতকে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে ভর্তি নেন এবং আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে আইসিসিইউতে রাখেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান অমিত।
খুলনার পুলিশ সুপার এসএম শফিউল্লাহ বলেন, ‘মূলত দুটি কারণে মানুষ মদ খেয়ে মারা যায়। প্রথমত অতিরিক্ত মদপান দ্বিতীয়ত ভেজাল মদ। হতে পারে সাম্প্রতিক পুলিশি তৎপরতার কারণে চাহিদামত মদ না পেয়ে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী বিভিন্ন ড্রিংকসের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে ভেজাল মদ তৈরি করে বিক্রি করছে। এর ফলে সেগুলো খেয়েই তাদের মৃত্যু হতে পারে। কিন্তু ঠিক কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে সেটি নিশ্চিত হওয়া যাবে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর।
খুলনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. রাশেদুজ্জামান বলেন, ‘যারা মদপান করেছে তাদের কোনও পারমিট ছিল না। এই মদ কোন জায়াগা থেকে কিনেছে, কার মাধ্যমে এনেছে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। নিহতদের বাড়ির ঠিকানা ম্যানেজ করে তাদের বাসায় গিছে বিষয়টি খোঁজ খবর নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যারা মদপান করেছে ওই মদের মধ্যে বিষাক্ত কিছু ছিল কিনা, তা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।’
উল্লেখ্য, বিজয়া দশমীতে খুলনা মহানগরী ও রূপসা উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথকভাবে মদপানের কারণে আট জন নিহত হন। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এছাড়া অতিরিক্ত মদপানে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ইমরান ও হৃদয় নামে দুই যুবক।

/এআর/

লাইভ

টপ