আবরার হত্যায় গ্রেফতার সাদাতকে চেনে না গ্রামবাসী

Send
জয়পুরহাট প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:১৩, অক্টোবর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৪, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

নাজমুস সাদাতবুয়েট শিক্ষার্থী আবরার হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া জয়পুরহাট সদর উপজেলার কড়ই উত্তর পাড়ার হাফিজুর রহমানের ছেলে নাজমুস সাদাতকে চেনে না গ্রামবাসী। তার জন্মও হয়নি গ্রামে। তবে বাবা-মা’র সঙ্গে কয়েকবার গ্রামে এসেছেন। বর্তমানে সাদাতের মা-বাবা থাকেন রাজশাহীতে।
বুয়েট শিক্ষার্থী আবরারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত আসামি সাদাতকে মঙ্গলবার (১৫ অক্টোবর) ভোর রাত সাড়ে তিনটার দিকে দিনাজপুর জেলার বিরামপুর থানার কাঠলা বাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
জানা গেছে, সাদাতের বাবা রাজশাহীর হাজী মহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন। তার দাদা মওলানা আছির উদ্দিন স্থানীয় কড়ই নুরুল হুদা কামিল মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। দাদাসহ সাদাতের দুই চাচা গ্রামে থাকেন। মেঝ চাচা আমিনুল ইসলাম ক্ষেতলাল উপজেলার হোপপীরহাট মাদ্রাসার শিক্ষক এবং ছোট চাচা ওবায়দুর রহমান কমিউনিটি ক্লিনিকে চাকরি করেন।
কড়ই নুরুল হুদা কামিল মাদ্রাসার ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষক আব্দুল মতিন জানান, সাদাতের বাবা হাফিজুর সম্পর্কে তার আপন চাচাতো ভাই। হাফিজুর রাজশাহীতে সরকারি স্কুলের শিক্ষকতা করেন। এর আগে তিনি জয়পুরহাট রামদেও বাজলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। চাকরির কারণে হাফিজুর প্রথমে জয়পুরহাট শহরে এবং বর্তমানে রাজশাহীতে বসাবাস করছেন। গ্রামে সবাই তাকে চিনলেও তার ছেলে সাদাতকে সেভাবে কেউ চেনে না। সাদাত দাদার বাড়ি খুব কম আসত। গ্রামের মানুষ তাকে চিনত সজিব নামে। গ্রেফতার হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর দেখে তারা আবরার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সাদাতের জড়িত থাকার বিষয়টি জানতে পেরেছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন প্রতিবেশী জানান, সাদাতের বাবা হাফিজুর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময় শিবিরের রাজনীতি করতেন। জয়পুরহাট জেলার মধ্যে কড়ই গ্রাম জামায়াত-শিবিরের জন্য উর্বর এলাকা বলেও তারা জানান।
উল্লেখ্য, গত ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষ থেকে ডেকে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বুয়েটের ১৭তম ব্যাচের ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আবরার ফাহাদ রাব্বীকে। রাত ৩টার দিকে হলের দ্বিতীয় তলা থেকে আবরারের মরদেহ উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষ। পুলিশ জানিয়েছে, তাকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় একাধিক ভিডিও ফুটেজ পাওয়া যায়। আবরারকে হত্যার ঘটনায় তার বাবা বরকত উল্লাহ বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। পরে হত্যায় সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে বুয়েট ছাত্রলীগের ১৩ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের ইতোমধ্যে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

/এআর/

লাইভ

টপ