রংপুরে পুলিশ ফাঁড়িতে বৃদ্ধকে নির্যাতনে হত্যার অভিযোগ

Send
রংপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৪:১৮, অক্টোবর ১৬, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৫:২৯, অক্টোবর ১৬, ২০১৯

বিক্ষুব্দ এলাকাবাসী

রংপুরের পীরগঞ্জ থানার ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়িতে সামসুল ইসলাম নামে এক বৃদ্ধকে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমিনুল ইসলাম ও পুলিশ সোর্স জিয়ার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতা পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে দায়িদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করে।

এসময় জনতাকে ছত্রভঙ্গ করার জন্য বেশ কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ও লাঠি চার্জ করে পুলিশ। এতে ২৫ জন আহত হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। 

পীরগঞ্জ থানার ওসি সরেশ চন্দ্র জানান, সামসুল ইসলাম একজন মাদক ব্যবসায়ী। ভেণ্ডাবাড়ি পুলিশ তাকে ১৫ লিটার চোলাই মদসহ আটক করেছে। সে বুধবার (১৬ আগস্ট) সকালে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। নিহত ব্যক্তির বাড়ি মিঠাপুকুরি উপজেলার শান্তিপুর গ্রামে।

অপরদিকে রংপুরের পুলিশ সুপার বিপ্লব চন্দ্র রায় জানান, ৩০ লিটার চোলাই মদসহ সামসুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার সকালেও সে সুস্থ ছিল। কিন্তু সকাল ৯টার পর তার পড়নের জামা দিয়ে ফাঁড়ির ভেতরেই ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে। কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি ঘটনাস্থলে যাবেন।

বিক্ষুব্দ জনতা থানা ঘেরাও করেছে

গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যার কথা বলা হলেও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আসার আগেই কেন মৃতদেহ নীচে নামানো হলো তা নিয়ে গ্রামবাসীর বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ।

নিহত সামসুলের মেয়ে সান্তনা বলেন, ‘আমার জন্মের পর থেকে জ্ঞান হওয়া অবধি দেখে আসছি বাবা ছাগল কেনাবেচা করেন। তিনি বৃদ্ধ মানুষ, জীবনে কোনও দিন চোলাই মদের ব্যবসা করেননি বা করার কোনও প্রশ্নই ওঠে না।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘মূলত ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আমিনুল ও পুলিশের সোর্স জিয়া বাবাকে আটক করে ১ লাখ টাকা দাবি করে। তিনি টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে চোলাই মদের ব্যবসায়ী বানিয়ে ফাঁড়িতে নিয়ে সারারাত নির্যাতন করে হত্যা করেছে। ঘটনাটি ধামা চাপা দেওয়ার জন্য আত্মহত্যার কথা বলছে পুলিশ।’

এ ঘটনা জানাজানি হলে শত শত জনতা ভেন্ডাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ি ঘেরাও করে বিক্ষোভ করে। বিক্ষুব্ধ জনতা ভেন্ডাবাড়ি বড়দরগা সড়ক অবরোধ করায় ওই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অব্যাহত বিক্ষোভের মুখে পুলিশ জনতাকে লক্ষ্য করে ফাঁকা গুলি ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ ও লাঠি চার্জ করলে অন্তত ২৫ জন আহত হয়। এরমধ্যে দুজন গুরুতর আহত হয়েছে। তাদের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে একজনের নাম পাওয়া গেছে। তিনি মাইকর গ্রামের আজহারুল ইসলামের ছেলে রবিন (১৮)।  অপরজনের নাম জানা যায়নি।

এদিকে রংপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মারুফ আহাম্মেদের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক দাঙ্গা পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

/জেবি/

লাইভ

টপ