কথা কাটাকাটির জেরে ট্রাকচাপায় খুন!

Send
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৫:৪৬, অক্টোবর ১৮, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৪৮, অক্টোবর ১৮, ২০১৯

ওভারটেক নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে পঞ্চগড়ে সোহেল রানা মামুন (৩৫) নামের একজনকে ট্রাকচাপায় খুনের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বুধবার তেঁতুলিয়া মডেল থানায় ওই ট্রাকের চালকসহ দুইজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন নিহতের বড় ভাই রমজান আলী। খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মামলায় ঘাতক ট্রাকের চালক টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার মাইদার চালা এলাকার আব্দুল কুদ্দুস (২৫) এবং পোড়াবাড়ি এলাকার সাগরকে (২৩) আসামি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ট্রাক চালক আব্দুল কুদ্দুসকে স্থানীয় লোকজন আটক করে গণধোলাই দিয়ে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে। তবে অপর ট্রাক চালক সাগর পালিয়ে যায়।

বৃহস্পতিবার আব্দুল কুদ্দুসকে এ ঘটনায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। ঘাতক ঢাকা মেট্রো-ট-১৮-৭৫৮৪ নম্বরের ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতো গত বুধবার সকালে মামুন বাড়ি থেকে কাজের উদ্দেশে বের হন। পরে ট্রাক নিয়ে বাংলাবান্ধায় পাথর লোড করতে রওনা হন। যাওয়ার পথে ওভারটেক নিয়ে টাঙ্গাইলের ট্রাক চালক আব্দুল কুদ্দুস ও সাগরের সঙ্গে মামুনের কথা কাটাকাটি হয়। বাংলাবান্ধা ইউনিয়নের সিপাইপাড়া এলাকায় উভয় চালক ট্রাক থামিয়ে নিচে নেমে কথা কাটাকাটি শুরু করে। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। এক পর্যায়ে স্থানীয়রা তাদের নিবৃত্ত করে। পরে মামুন সড়ক পার হয়ে নিজ ট্রাকে উঠতে যাওয়ার সময় আব্দুল কুদ্দুস তার ট্রাকটি মামুনের ওপর দিয়ে চালিয়ে দেয়। এতে ট্রাকের চাকায় মামুনের শরীরের বিভিন্ন অংশ থেঁতলে যায়। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সোহেল রানা মামুন পঞ্চগড় পৌরসভার কায়েতপাড়া এলাকার মৃত আজিজুল হকের ছেলে। মামুনের বড় দুই ভাইও ট্রাক চালক। তার মা, স্ত্রী ও দুই মেয়ে রয়েছে। নৃশংস এ খুনের ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহতের মা আমিনা খাতুন এবং স্ত্রী শেফালী আক্তার বলেন, মামুনকে হত্যা করা হয়েছে। আমরা সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে আসামিদের ফাঁসি চাই।

মামলার বাদী মামুনের বড় ভাই রমজান আলী জানান, ওভারটেক নিয়ে কথা কাটাকাটির জের ধরে ইচ্ছাকৃতভাবে আমার ভাইকে ট্রাক চাপা দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। খুনিদের এমন শাস্তি চাই যেন আর কেউ এমন ঘটনা ঘটনোর সাহস না পায়।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার উপপরিদর্শক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন জানান, মূল আসামি ট্রাক চালক আব্দুল কুদ্দুসকে স্থানীয়রা আটক করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে। পরে তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। অপর আসামি সাগরকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে।

/এমপি/

লাইভ

টপ