রাবিতে শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাতের প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ

Send
রাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০১:০৬, অক্টোবর ১৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৬, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) ফিরোজ নামে এক শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করেছে ছিনতাইকারীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা। শুক্রবার (১৮ অক্টোবর) রাত সাড়ে নয়টা থেকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করে। রাত সোয়া ১২টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় আন্দোলন চলছিল।
শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো হলো- ফিরোজকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বাদী হয়ে মামলা করতে হবে এবং মামলার ১২ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা, বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগতদের নিষিদ্ধ করা, ক্যাম্পাসে যানবাহন চলাচলে নিয়ন্ত্রণ আনা, বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠগুলোতে বহিরাগতদের নিষিদ্ধ করা এবং ক্যাম্পাসের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সিসি ক্যামরা স্থাপন করা।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, রাত পৌনে আটটার দিকে অর্থনীতি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ফিরোজ তার বান্ধবীকে নিয়ে স্টেডিয়ামের পাশের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন। তখন কয়েকজন দুর্বৃত্ত তাদের পথরোধ করে পাশেই হবিবুর হলের মাঠে নিয়ে যায়। এ সময় তাদের কাছে থাকা ফোন ও টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে দুর্বৃত্তরা। চিৎকার করলে ফিরোজকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। পরে আশেপাশের লোকজন ফিরোজকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সে বর্তমানে রামেক হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন। অন্যদিকে অভিযুক্তদের সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, ছিনতাইকারীরা বহিরাগত।
ছুরিকাঘাতের বিষয়টি জানাজানি হলে রাত সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনের নেতারা। পরে তাদের সঙ্গে যোগ দেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে উল্লেখ করে আন্দোলনর শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি জানিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। রাত সোয়া দশটার দিকে ঘটনাস্থলে আসেন প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন। তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলতে চাইলেও শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া’‘ ভুয়া’ স্লোগান দিতে থাকেন।
এদিকে মহাসড়ক অবরোধে ফলে যানচলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় রাস্তায় আটকা পড়া যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েন। অনেককে হেঁটে শহরের দিকে যেতে দেখা গেছে।
ভোগান্তিতে আটকা পড়া রাজশাহী জর্জ কোর্টের অ্যাডভোকেট মাহমুব বলেন, গ্রামের বাড়ি থেকে বালিয়া পুকুর যাচ্ছিলাম। কিন্তু আন্দোলনের কারণে রাস্তায় আটকা পড়ে আছি।

রাবির প্রক্টোর অধ্যাপক লুৎফর রহমান এখনই এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হননি।  এদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে লাঞ্ছিত হয়েছেন সহকারী প্রক্টর হুমায়ুন কবীর।  

/এআর/

লাইভ

টপ