চট্টগ্রামে বাবা-মেয়ে খুন, স্ত্রী হাসিনা গ্রেফতার

Send
নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
প্রকাশিত : ১৪:৩১, অক্টোবর ২০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:৩৫, অক্টোবর ২০, ২০১৯

সংবাদ সম্মেলনচট্টগ্রামে বাবা ও মেয়েকে (৪) গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের স্ত্রী হাসিনা আক্তার ও তার প্রেমিক মইন উদ্দিন এ ঘটনা ঘটিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। রবিবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আমেনা বেগম। নগরীর দামপাড়ার পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তিনি জানান, শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকাল ১১টার দিকে বন্দর থানাধীন নিমতলা মোড়ে অবস্থিত শাহ আলমের ৫ তলা ভবনের নিচতলার একটি কক্ষ থেকে আবু তাহের ও তার চার বছর বয়সী মেয়ে বিবি ফাতেমার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তাহেরের গ্রামের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানার চরকাঁকড়া এলাকায়। ৪-৫ বছর ধরে তাহের তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে শাহ আলমের বাসায় থাকেন।

আমেনা বেগম বলেন,‘শনিবার (১৯ অক্টোবর) সকালে মাইন উদ্দিন সঙ্গে অবৈধ শারীরিক সম্পর্কের সময় হাসিনা আক্তারের মেয়ে ফাতেমা খাতুন তাদের দেখে ফেলে। এ সময় ফাতেমা বিষয়টি তার বাবাকে বলে দেওয়ার কথা বলায় হাসিনা ও মাইন উদ্দিন মিলে ফাতেমাকে হত্যা করে। মাইন উদ্দিন ফাতেমার হাত-পা চেপে ধরে, হাসিনা গলায় ছুরি দিয়ে আঘাত করে। ফাতেমাকে হত্যার পর লাশ খাটের ওপর কাপড় দিয়ে ডেকে রাখে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এর কিছুক্ষণ পর আবু তাহের রুমে ঢুকলে কিছু বুঝে ওঠার আগেই মাইন উদ্দিন ও হাসিনা বেগম তাকে জাপটে ধরে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপরও পেট, গলা ও মাথায় ছুরিকাঘাত করার পর গলা কেটে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন। হত্যার পরপরই মইন উদ্দিন পালিয়ে যায়।’

আমেনা বেগম বলেন, ‘ঘটনার পর পুলিশ হাসিনা আক্তারকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। রাত পর্যন্ত সে কোনও তথ্য দেয়নি। সে বারবারই বলতে চেয়েছিল মেয়েটির বাবাই মেয়েকে হত্যা করেছে। তার মেয়েকে সে নিজে কেন হত্যা করবে। ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতে সে বিষয়টি স্বীকার করে। সে এবং মাইন উদ্দিন মিলে তাদের হত্যা করেছে বলে পুলিশকে নিশ্চিত করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মাইন উদ্দিন শ্রমিকের কাজ করতো। মইন উদ্দিন আবু তাহেরের পাশের কক্ষে থাকতো। মাইন উদ্দিনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে হাসিনার অবৈধ সম্পর্ক ছিল। মইন উদ্দিনের পরিবার গ্রামের বাড়িতে থাকে। তাকে এখনও গ্রেফতার করা যায়নি। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (বন্দর জোন) হামিদুল আলম।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সকালে আবু তাহের ও তার মেয়ে দোকানে নাশতা করতে যায়। হাসিনা তখন ভবনের মালিকের বাসায় কাজ করতে গিয়েছিল। ওই বাসার কাজের ফাঁকে সে কলস নিয়ে নিচ থেকে পানি নিতে গেলে মইন উদ্দিন তাকে ইশারা দিয়ে রুমে নিয়ে যায়। পরে মেয়ে এসে দেখে ফেলায় তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ঘটনা অন্য খাতে নেওয়ার জন্য সে বাড়িওলার বাসায় পানি দিয়ে নিচে এসে চিৎকার করে বিষয়টি সবাইকে জানান দেয়।’

/জেবি/এমওএফ/

লাইভ

টপ