তেঁতুলিয়ায় উদ্ধার গলাকাটা লাশের পরিচয় মিলেছে

Send
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০০:১২, অক্টোবর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০০:১৬, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

পঞ্চগড়পঞ্চগড়ের তেতুঁলিয়ার তীরনইহাট ইউনিয়নের রণচণ্ডী ব্রর্ম্মতল এলাকায় উদ্ধার হওয়া গলাকাটা লাশের পরিচয় মিলেছে। ওই ব্যক্তির নাম মো. আবদুর রব (৪৮)। তার বাড়ি নোয়াখালী জেলার বেগমগঞ্জ উপজেলার লক্ষীনারায়ণপুর গ্রামের মৃত আলী করিমের ছেলে। তিনি মরিচের ব্যবসায়ী ছিলেন। ব্যবসায়িক লেনদেনের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তাকে খুন করা হতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ ও স্থানীয়রা।

ঘটনার চার দিন পর মঙ্গলবার (২২ অক্টোবর) বিকালে তীরনইহাট ইউনিয়নের পাশে তেঁতুলিয়া সদর ইউনিয়নের আজিজনগর গ্রামের নূরুল ইসলাম নূরুর চা বাগানে আবদুর রবের মাথাটি পাওয়া যায়। পুলিশ সেটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠিয়েছে। রবের ভাই বাচ্চু লাশটি বেগমগঞ্জ নিয়ে গেছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর গলাকাটা মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ তেঁতুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। পরে মামলাটি গোয়েন্দা পুলিশে (ডিবি) হস্তান্তর করা হয়। ডিবি পুলিশ ১৯ অক্টোবর হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে যুগীগছ গ্রামের আজিজার রহমানের ছেলে মো. রুবেল (৩২) এবং ২০ অক্টোবর নিজামউদ্দিনের ছেলে আবদুল বারেককে (৫০) গ্রেফতার করে। তবে মূল সন্দেহভাজন অভিযুক্ত তিনজন বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে।

ডিবি পুলিশ পরিদর্শক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম গ্রেফতারকৃতদের রবিবার ও সোমবার আদালতে হাজির করে রুবেলকে পাঁচ দিন এবং বারেককে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। মঙ্গলবার রিমান্ড আবেদন শুনানি শেষে পঞ্চগড় আমলি আদালতের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম কামরুল ইসলাম প্রত্যেককে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গছে, আবদুর রব দীর্ঘদিন ধরে মরিচ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এজন্য তিনি এ এলাকায় মরিচ কিনতে আসতেন। ওই ব্যক্তির লাশ পাওয়ার দুই দিন আগে বুধবার ছিল তেঁতুলিয়া উপজেলার শালাবাহন হাট। তীরনইহাট ইউনিয়নের মরিচ ব্যবসায়ী মানিকের সঙ্গে রবের ব্যবসায়িক লেনদেন ছিল। মানিকের ম্যানেজার ছিল আবদুল বারেক। দুজন গ্রেফতার হওয়ার পর মূল অভিযুক্ত সন্দেহভাজন মানিক, তার ভাই দুলাল ও ছেলে মো. আমান পালিয়ে যায়। আবদুর রব ও মানিকের ব্যবসা দেখভাল করতো তীরনইহাট ইউনিয়নের শংকর পাড়া গ্রামের মো. রুহুল আমিন রঞ্জু ও তার বাবা মো. আলতাফ হোসেন। তারাও বর্তমানে পলাতক রয়েছে।

স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রব খুন হওয়ার আগে মরিচ কেনা-বেচার জন্য রঞ্জুর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টিটির মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা পাঠান আবদুর রব। সেই টাকা মানিককে তুলে দেয় রঞ্জু। রব নগদ ১০ লাখ টাকাও নিয়ে এসেছিলেন বলে জানা গেছে।

ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাফফর রহমান বলেন, ‘১০ লাখ টাকা টিটি করে পাঠানোর বিষয়টি শুনেছি। তদন্তের স্বার্থে এখন অনেক কিছুই বলা যাচ্ছে না। আশা করছি, শিগগিরই খুনের সঙ্গে কারা জড়িত, কেন এ হত্যাকাণ্ড এসব বেরিয়ে আসবে।’

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী জানান, চা বাগানের মালিক গন্ধ পেয়ে মাথা দেখতে পায়। পুলিশে খবর দিলে এই মাথা উদ্ধার করা হয়। এ হত্যার পেছনে কারা জড়িত এবং কারণ শনাক্ত করা হয়েছে। শিগগিরই বিস্তারিত জানানো হবে।

 

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ