নিজের টাকায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গাছ লাগাতে চান পিয়ারুল

Send
কুদরতে খোদা সবুজ, কুষ্টিয়া
প্রকাশিত : ০৯:৩৪, অক্টোবর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৫১, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

ব্যানার হাতে পিয়ারুল ইসলাম

দেশের স্বার্থে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জীবনের শেষদিন পর্যন্ত গাছ লাগানোর ইচ্ছা পিয়ারুল ইসলামের। কোনও সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতায় নয়, তার ইচ্ছা নিজের টাকায় মৃত্যুর আগ পর্যন্ত গাছ লাগাবেন তিনি।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার কলেজপাড়া এলাকার মৃত আলাউদ্দিন মালিথার ছেলে কৃষক পিয়ারুল ইসলাম। স্ত্রী আর দুই ছেলে নিয়ে তার সংসার। আয়ের উৎস বলতে কেবল নিজের দুই বিঘা জমির চাষাবাদ আর বাড়ি ভাড়া। এ দিয়েই চলে তার সংসারের খরচাপাতি।

গাছ লাগানোর প্রতি পিয়ারুল ইসলামের প্রবল আগ্রহ। মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে বীজ সংগ্রহ করেন তিনি। এছাড়া,নিজের টাকায় বীজ কিনে বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার পাশে, ক্যানেলের ধারে এমনকি রেল লাইনের ধারে বৃক্ষ রোপণ করেন তিনি। মূলত দেশে বজ্রপাত বেড়ে গেছে। এ থেকে মানুষকে বাঁচাতে পিয়ারুল ইসলাম জেলার বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে ঘুরে তাল গাছের বীজ রোপণ করেন। তার এ কাজে এলাকার মানুষেরও সহযোগিতা পান পিয়ারুল।

তালের বীজ রোপণ করছেন পিয়ারুল ইসলামমঙ্গলবার (২৩ অক্টোবর) সকালে সরেজমিনে কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার ধুবইল গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, দুটি বস্তায় প্রায় সাড়ে ৫০০ তালের বীজ নিয়ে এসেছেন সেখানে রোপণ করতে। এরপর স্থানীয় এক কৃষকের সহযোগিতায় এসব তালের বীজ পিয়ারুল নিজেই রোপণ করেন।

কৃষক পিয়ারুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘প্রায় দুই বছর ধরে তালের বীজ রোপণ করছি। গত বছর প্রায় এক হাজার তালের বীজ সংগ্রহ করে নিজেই রোপণ করেছি। এ বছর ইচ্ছা আছে দুই হাজার বীজ রোপণ করা। এপর্যন্ত প্রায় সাড়ে ১৪শ’ তালবীজ রোপণ করেছি। তবে মিরপুর উপজেলায় এবারই প্রথম বীজ রোপণ করছি।’

পিয়ারুল জানান, তালের বীজ বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার পাশে, ক্যানেলের ধারে, রেল লাইনের পাশে রোপণ করে থাকেন। তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ ক্ষেত্রে চেষ্টা করি মাঠের মধ্যে রোপণ করতে। কারণ, ফাঁকা মাঠে বজ্রপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে। এতে অনেক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে। ’

 

পিয়ারুল বাড়ি বাড়ি গিয়ে সংগ্রহ করেন তালের বীজ

তিনি আরও জানান, তালের বীজগুলো মানুষের বাড়ি বাড়ি ঘুরে সংগ্রহ করি। এ ছাড়াও বিভিন্ন ফলের আড়ৎ থেকে পচা তাল সংগ্রহ করে প্রথমে তা সংরক্ষণ করি। এরপর ভাদ্র মাসের শেষ দিক থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত বীজগুলো রোপণ করি। এ বছর তাল বীজ সংগ্রহের পাশাপাশি নিজের টাকায়ও কিছু বীজ কিনে রোপণ করেছি।

পিয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘আমার ইচ্ছা যতদিন বেঁচে আছি, দেশের স্বার্থে ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বৃক্ষ রোপণ করে যাবো। এ কাজে কোনও সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা চাই না। এমনকি এসব গাছ বড় হলে আমার কোনও দাবি থাকবে না। ’
ধুবইল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাহবুর রহমান মামুন বলেন, ‘কৃষক পিয়ারুল ইসলামের এই তালবীজ রোপণ নিঃসন্দেহে একটি মহৎ কাজ। তিনি আমাদের এলাকায়ও তালের বীজ রোপন করেছেন। এটি বেড়ে উঠলে একদিকে যেমন পরিবেশের উপকার হবে। অন্যদিকে বজ্রপাত নিরোধে কাজে লাগবে।’ 

এ বিষয়ে মিরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রমেশ চন্ত্র ঘোষ বলেন, ‘আমাদের বজ্র নিরোধক যে যন্ত্র ছিল সেটি উঠিয়ে নেওয়ায় বজ্রপাত বেড়ে গেছে। বজ্রপাত থেকে বাঁচতে তালগাছের বিশেষ প্রয়োজন। তাই বেশি করে তাল বীজ রোপণ করতে কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।’ 

তিনি আরও জানান,কৃষি সম্প্রসারণ থেকে উপজেলার প্রতিটি ব্লকে ৩০টি তাল বীজ রোপর করেছি। এবং উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে প্রায় ৯শ’ করে তালবীজ রোপণ করা হচ্ছে। 

 

 

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ