নওগাঁয় সংস্কারের অভাবে রাস্তার বেহাল দশা, চরম ভোগান্তিতে শহরবাসী

Send
আব্দুর রউফ পাভেল, নওগাঁ
প্রকাশিত : ১১:৩৪, অক্টোবর ২৩, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪২, অক্টোবর ২৩, ২০১৯

খানাখন্দে ভরা সড়ক

ছোট যমুনা নদীর দুই তীরজুড়ে অবস্থিত শহর নওগাঁ। পৌরসভাকে ঘিরে গড়ে উঠেছে মূল। নওগাঁ পৌরসভা প্রথম শ্রেণির হলেও দীর্ঘদিন ধরে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন পৌরবাসী। বর্তমানে শহরের পালপাড়া-ঘোষপাড়া রাস্তাসহ বেশির ভাগ গুরুত্বপূর্ণ রাস্তারই বেহাল দশা। দীর্ঘদিন ধরে মেরামত বা সংস্কার করায় রাস্তাঘাটে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন শহরবাসী। সড়কের উন্নয়নে পৌর কর্তৃপক্ষের দৃশ্যমান কোনও উদ্যোগও নেই।

জানা যায়, ১৯৬৩ সালে স্থাপিত নওগাঁ পৌরসভার বর্তমান আয়তন ৩৮ দশমিক ৬৪ বর্গ কিলোমিটার।শহরের প্রধান সড়ক ছাড়া বেশির ভাগ রাস্তাই ভাঙা ও খানাখন্দে ভরা। পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের সবগুলো রাস্তা বছরের পর বছর মেরামত না করায় বর্তমানে তা ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। পালপাড়া ব্রিজের মোড় থেকে ঘোষপাড়া হয়ে শহরের মধ্যে আসার একমাত্র রাস্তাটির অবস্থা আরও বিপজ্জনক। বিভিন্ন জায়গায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। শুকনো মৌসুমে তেমন  সমস্যা না হলেও বর্ষায়  দুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করে। এই ওয়ার্ডে  প্রায় ১০ হাজার মানুষ বসবাস করেন। প্রতিনিয়তই গর্তে ছোট-বড় যানবাহন উল্টে গিয়ে ঘটছে দুর্ঘটনা। স্কুলের শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। শুধু স্থানীয়রাই নয়, এই রাস্তা দিয়েই রাণীনগর ও  আত্রাই উপজেলার মানুষেরা শহরে যাতায়াত করেন।

এছাড়া, শহরের প্রধান অংশে অবস্থিত কাঁচাবাজার, চুড়িপট্টি, হাসপাতাল, ডাবপট্টি, সোনারপট্টি, শিবপুর, হলদিবাড়ি রাস্তাসহ পৌরসভার বেশির ভাগ রাস্তার অবস্থা খুবই নাজুক।

শহরের কালিতলা এলাকার বাসিন্দা সুমন কুমার বলেন, ‘শহরের এসব রাস্তা দেখে মনে হয় যে, এখনও আমরা আদিযুগে বসবাস করছি,যে যুগে রাস্তা-ঘাট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা তেমন উন্নত ছিল না। কিন্তু কোনও দেশের রাস্তা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ছাড়া সামগ্রিক উন্নয়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয়।’ তিনি বলেন, ‘৪-৫বছর ধরে শহরের পালপাড়া ব্রিজের মোড় থেকে ঘোষপাড়া হয়ে শহরে প্রবেশের একমাত্র রাস্তাটি যেন মরণফাঁদ।  এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই শিক্ষার্থীদের যানবাহন উল্টে পড়ে যায়, রাস্তার কাঁদায় নষ্ট হয় তাদের পোশাক।’

নওগাঁ শহরের একটি সড়কের বর্তমান অবস্থা

হলদিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা স্কুলছাত্রী নওশিন বলেন, ‘আমদের রাস্তা দিয়ে স্কুলে যেতে খুর সমস্যায় পড়তে হয়। স্কুলে যেতে প্রতিদিন জামাকাপড় কাঁদায় মেখে যায়। ’

নওগাঁ পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার শেখ মোজাম্মেল হক মজনু বলেন, ‘একজন কমিশনার হিসেবে আমি সব সময় আমার এলাকাকে আধুনিকায়ন করা চেষ্টা করেছি। কিন্তু সামগ্রিক উন্নয়ন, রাস্তা-ঘাটের উন্নয়নসহ অন্যান্য বড় ধরনের উন্নয়ন করা আমার একার পক্ষে সম্ভব নয়। এই উন্নয়নগুলো সরকার ও পৌর মেয়রের সার্বিক সহযোগিতা নিয়েই করা সম্ভব। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে ও পৌরসভার সহযোগিতা নিয়ে রাস্তার যেসব স্থানের অবস্থা খুবই বেহাল, সেই অংশগুলোতে আপাতত চলাচলের জন্য সংস্কার কাজ শুরু করেছি।  আশা রাখি, এরপর পথচারী ও স্থানীয়রা স্বস্তিতে চলাচল করতে পারবেন।’

নওগাঁ পৌরসভার মেয়র আলহাজ মো. নজমুল হক সনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এরইমধ্যে নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় দুই ধাপের কাজ শুরু হয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতাল রাস্তার সংস্কার কাজ চলমান রয়েছে।  এছাড়াও পালপাড়া, হলদিবাড়ি রাস্তাসহ অন্যান্য রাস্তার সংস্কার কাজের পরিকল্পনা ওপর মহলে দেওয়া আছে। সরকারের অনুমোদন ও বরাদ্দ পেলে পৌরসভার সব রাস্তার সংস্কার কাজ দ্রুত শুরু করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আরও কয়েকটি রাস্তার সংস্কার কাজের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ঠিকাদার চূড়ান্ত হলেই সেসব রাস্তার কাজ শুরু করা হবে। আমি আশা রাখি, কোনও বাধা না এলে আগামী এক বছরের মধ্যে পৌরসভার সব রাস্তার আধুনিকায়নের কাজ শেষ হয়ে যাবে। তখন পৌরবাসীর চলাচলে আর  সমস্যা হবে না।’

/এপিএইচ/

লাইভ

টপ