সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া পর্যটকরা ‘আতঙ্কে’

Send
টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫:২৬, নভেম্বর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:৪৮, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

 

সেন্টমার্টিনে সাগর উত্তালঅতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ এর প্রভাবে কক্সবাজারের থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। বেড়েছে বাতাসের গতিও। এতে সেন্টমার্টিনে বেড়াতে এসে আটকে পড়া পর্যটকরা আতঙ্কে রয়েছেন। শনিবার সকাল থেকে দ্বীপে বৃষ্টি ও বাতাসের গতি বাড়তে থাকায় ভয় কাজ করছে তাদের মধ্যে। দুই দিন ধরে বৈরী আবহাওয়া ও ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত থাকায় টেকনাফ ও সেন্টমার্টিনের মধ্যে জাহাজসহ কোনও নৌযান চলাচল করেনি। ফলে প্রায় দেড় হাজার পর্যটক দ্বীপে আটকে পড়েছেন।

শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে দ্বীপে আটকাপড়া বেশ কয়েকজন পর্যটকদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা হয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মোহাম্মদ আদিল বলেন, ‘প্রথম বারের মতো বন্ধুদের সঙ্গে প্রবাল দ্বীপ বেড়াতে এসেছি। কিন্তু ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে দ্বীপে আটকে পড়েছি। শুক্রবার দিনের বেলায় তেমন একটা ভয় কাজ করেনি। রাত থেকে যখন বৃষ্টি ও বাতাসের গতি বাড়তে শুরু করে, তখন থেকেই ভয় কাজ করছে। আমরা সবাই একদিনের টাকা নিয়ে এখানে ভ্রমণে আসি। এখন টাকাও শেষ। তবে সবচেয়ে বেশি ভয় কাজ করছে বৃষ্টি ও বাতাসের গতি নিয়ে।’সেন্টমার্টিনে সাগর উত্তাল  

একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মোহাম্মদ রিয়াদ বলেন, ‘সাগরে বুকে জেগে উঠা সেন্টমর্টিন দেখতে অনেক সুন্দর। তবে যখন বৈরী আবহাওয়া হয়, তখন সাগর ভয়ানক হয়ে উঠে। মনে হয় দ্বীপটি এক মুহূর্তে তলিয়ে নিয়ে যাবে। এর আগে দ্বীপে ভ্রমণে আসা হয়নি। এই প্রথম দ্বীপে বেড়াতে এসেই এই অভিজ্ঞতা হলো। বাসা থেকে পরিবারের লোকজন খোঁজ খবর রাখছেন, খুব ভয় কাজ করছে।’
সেন্টমার্টিনে আটকে পড়া ঢাকার বাসিন্দা সুমন মুঠোফোনে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে ১৭ জন বন্ধু মিলে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে আসি। শুক্রবার জানতে পারি বৈরী আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ থেকে কোনও জাহাজ সেন্টমার্টিন যাচ্ছে না। ফলে দ্বীপে আটকা পড়েছি সবাই। আমাদের মতো দ্বীপে আরও শত শত পর্যটক আটকা পড়েছে। তাদের মাঝে হতাশা তৈরি হয়েছে।’ঘুর্ণিঝড়ের কারণে সাগরের পানির উচ্চতা বেড়েছে সেন্টমার্টিনে

তবে দ্বীপে আটকা পড়া পর্যটকদের হোটেল ও খাবার বিল ডিসকাউন্ট দিতে সব হোটেল-মোটেলকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূর আহম্মদ। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার রাত থেকে দ্বীপে বৃষ্টি ও বাতাস বেড়েছে। এজন্য রুম থেকে বের হতে পর্যটকদের নিষেধ করা হয়েছে। এছাড়া দ্বীপের চারদিকে সমুদ্র সৈকতে যাতে কোনও পর্যটক না নামেন, সেজন্য পরিষদের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। যারা প্রথমবারের মতো সেন্টমার্টিনে ভ্রমণে এসেছেন, তাদের মধ্যে কিছু লোকজন ভয়ে আছেন বলে শুনেছি। তবে পর্যটকদের সার্বক্ষণিক খোঁজ খবর নেওয়া হচ্ছে।’   
সমুদ্র উত্তাল থাকায় শুক্রবার সকাল থেকে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল বন্ধ রয়েছে। এ কারণে এক হাজারের বেশি পর্যটক টেকনাফে এসেও সেন্টমার্টিন দ্বীপে যেতে পারেননি। তবে এর আগে সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণে এসে আটকা পড়েছেন দেড় হাজার পর্যটক। এদিকে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কায় কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ৪ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেওয়া হয়েছে। এ কারণে জাহাজ চলাচল বন্ধের এ সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসক।সেন্টমার্টিনে সৈকতে না নামতে মাইকিং
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) টেকনাফ অঞ্চলের সমন্বয় কর্মকর্তা আমজাদ হোসেন জানান, ‘৪ নম্বর সতর্ক সংকেতের কারণে দুর্ঘটনা এড়াতে এই রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দ্বীপে বেড়াতে এসে আটকা পড়া পর্যটকদের খোঁজ-খবর নেওয়া হচ্ছে।’
সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক আজমীর ইলাহি বলেন, ‘দ্বীপে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছে।’
সেন্টমার্টিন হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি মুজিবুর রহমান বলেন, ‘ইউএনও’র নির্দেশে দ্বীপের আটকা পড়া পর্যটকদের ডিসকাউন্ট দেওয়ার সিন্ধান্ত হয়েছে। সে অনুযায়ী সবার কাছ থেকে ভাড়া নেওয়া হবে। তবে বৈরী আবহাওয়ার কারণে দ্বীপের পর্যটন ব্যবসায়ীদের দেড় কোটি টাকার বেশি লোকসান হয়েছে।’
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দ্বীপের আটকা পড়া পর্যটকরা যাতে কোনোভাবে হয়রানির শিকার না হন, সেজন্য সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখা হচ্ছে। পর্যটকরা যাতে নিরাপদে থাকে সেজন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্তক অবস্থানে রয়েছেন। ফের জাহাজ চলাচল শুরু হলে আটকা পড়া পর্যটকদের টেকনাফ নিয়ে আসা হবে। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় সেন্টমার্টিনের পাচঁটিসহ টেকনাফে মোট ৬৫টি সাইক্লোন সেন্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।’

 

/এফএস/

লাইভ

টপ