বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার শঙ্কায় উপকূলবাসী

Send
আসাদুজ্জামান সরদার
প্রকাশিত : ১৯:৪৮, নভেম্বর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:৫২, নভেম্বর ০৯, ২০১৯



আশ্রয় কেন্দ্রের দিকে ছুটছে কায়েকজনঘূর্ণিঝড় বুলবুলের প্রভাবে সাতক্ষীরায় শনিবার (৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা পর থেকে বৃষ্টির সঙ্গে হালকা ও মাঝারি আকারে বাতাস বইছে। বুলবুল আঘাত হানার সময় জোয়ার থাকবে বলে জলোচ্ছ্বাসের মাত্রা তীব্র হতে পারে বলে আগেই সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস। স্থানীয়রা বলছেন, উপকূল রক্ষা বাঁধ দুর্বল। তীব্র জলোচ্ছ্বাসে তা ভেঙে যেতে পারে। এমতাবস্থায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

জানা যায়, শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা, হরিশখালী, নাপিতখালী, জেলেখালী, বুড়িগোয়ালীনির দুর্গাবটি পোড়াকাটলা, ভামিয়া ও দুর্গাবাটি এলাকার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এছাড়া কৈখালীর বিভিন্ন অংশ এবং কাশিমাড়ী ও দাতিনাখালীসহ পদ্মপুকুরের কয়েকটি অংশের বাঁধের অবস্থাও বেশ খারাপ। বুলবুল আঘাত করলে এসব বাঁধ ভেঙে উপকূল প্লাবিত হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া এলাকার আব্দুল হালিম বলেন,‘আইলার কথা এখনও আমার চোখে ভাসে। মুহূর্তের মধ্যে বাঁধ ভেঙে এলাকা প্লাবিত হয়। ঘূর্ণিঝড় বুলবুল উপলক্ষে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে লাল পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছে। আমাদের বাঁধের যে অবস্থা তাতে জলোচ্ছ্বাস হলে কী হবে আল্লাহ জানে। সারাদিন হালকা বৃষ্টি থাকায় আমরা কেউ জিনিসপত্র রেখে বাড়িঘর ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যায়নি। তবে প্রতিবেশীদের অনেকে গিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় ফণীর পর আমাদের বলা হয়েছিল টেকসই বাঁধ নির্মাণ ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ করে দেওয়া হবে, কিন্তু সেটা করা হয়নি।’

পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আতাউর রহমান বলেন, ‘বুলবুলের প্রভাবে সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমার এলাকায় ৩৮ হাজারের মধ্যে ১৩ হাজার মানুষের জন্য সাইক্লোন শেল্টারে থাকার ব্যবস্থা আছে। বাকিরা নিজেদের বাড়িতে থাকবেন। আমাদের এখানে বেড়িবাঁধগুলোর অবস্থা খুবই নাজুক। অনেক এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এমনিতেই আকাশে মেঘ হলে এখানকার মানুষ বেড়িবাঁধ ভাঙার আতঙ্কে থাকে।’

শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুজ্জামান বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলার অংশ হিসেবে শনিবার (৯ নভেম্বর) সকাল থেকে শ্যামনগর উপজেলা প্রশাসন সব ইউপি চেয়ারম্যান এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে কাজ করছি। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে নেওয়ার ব্যাপারে উৎসাহী করার পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের বিষয়ে সতর্ক থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গাবুরা ইউনিয়নে ৪২ হাজার মানুষের বাস, কিন্তু সেখানে যে সাইক্লোন শেল্টার আছে, তাতে ৩০ হাজার মানুষ ধারতে পারে। বাকিদের সরিয়ে নিতে জেলা প্রশাসকসহ আমরা কাজ করছি। নীলডুমুর এলাকায় চারটি বাস দেওয়া হয়েছে।’

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান বলেন, ‘সুন্দরবন সংলগ্ন নদীতে জোয়ার চলছে। আমাদের আওতাধীন ৮শ’ ৫৬ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ৭০টি পয়েন্ট ঝুঁকিপূর্ণ। আমরা সব সময় পর্যবেক্ষণ করছি। সব ধরনের প্রস্তুতি আছে।’

সিপিপি মুন্সীগঞ্জ ইউনিটের ওয়ার্ড সভাপতি আব্দুস সামাদ, কদমতলা গ্রামের এশার আলী ও দাতিনাখালী গ্রামের রিয়াজসহ অনেকে জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকে নদীতে জোয়ারের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ভর করছে। শনিবার সকাল থেকে ১০ নম্বর সংকেত দেখানোর পর অনেকে সাইক্লোন শেল্টারে উঠেছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, শনিবার সকালের পর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকায় ১০ নম্বর সতর্ক সংকেত জানিয়ে উপকূলবাসীকে নিরাপদ স্থানসহ নিকটস্থ সাইক্লোন শেল্টারে আশ্রয় নিতে বলা হয়। শনিবার দুপুর একটা পর্যন্ত জেলার চার উপজেলার ঝুঁকিপূর্ণ সাড়ে তিন লাখ মানু‌ষের মধ্যে ৮৫ হাজার মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে আনা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক মোস্তফা কামাল বলেন,‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুল মোকাবিলায় আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। দুর্গতদের জন্য ১০ মেট্রিক টন খাবার, ৫ লাখ ৪২ হাজার টাকা ও এক লাখ শিশুর জন্য খাদ্য ও এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।’

আরও পড়ুন..
উপকূলে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত

যে কারণে এবারও ৯১ সালের মতো ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের শঙ্কা

‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সরকার ও দল সর্বোচ্চ প্রস্তুত: ওবায়দুল কাদের

আশ্রয়কেন্দ্রে যাচ্ছেন উপকূলবাসী

‘বুলবুল’ মোকাবিলায় সাতক্ষীরায় সেনা মোতায়েন

স্বাস্থ্য বিভাগের ছুটি বাতিল, দুর্যোগ মোকাবিলায় ৮ নির্দেশনা

ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ মোকাবিলায় প্রস্তুত সরকার: নৌ প্রতিমন্ত্রী

দুর্গতদের যেকোনও প্রয়োজনে ৯৯৯-এ কল করার অনুরোধ

 



/আইএ/

লাইভ

টপ