‘তদন্তের আগেই এর ফল বলে দিচ্ছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী’

Send
জাবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৩:৪২, নভেম্বর ০৯, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:৪৪, নভেম্বর ০৯, ২০১৯

সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষা উপমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানালেন জাবিতে আন্দোলনরতরা (ছবি– প্রতিনিধি)

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) উপাচার্য অপসারণের দাবিতে চলা আন্দোলনের ব্যাপারে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের দেওয়া বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ নিয়ে নিজেদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন আন্দোলনকারী শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, শিক্ষা উপমন্ত্রী পরিস্থিতি সম্পর্কে যথাযথভাবে অবহিত নন।

শনিবার (৯ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। এর আগে শুক্রবার (৮ নভেম্বর) রাতে জাবির চার শিক্ষক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির একান্ত সচিব ড. আবদুল আলীমের বাসায় গিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। এরপর শিক্ষা উপমন্ত্রী ওই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সেখানে তিনি আন্দোলন নিয়ে প্রশ্ন তোলার পাশাপাশি অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন।

শিক্ষা উপমন্ত্রীর বক্তব্যের ব্যাপারে প্রতিক্রিয়া জানাতে শনিবার রাত ৮টার দিকে জাবির নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবনের সামনে সংবাদ সম্মেলন ডাকেন ‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে জাহাঙ্গীরনগর’ ব্যানারে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জাহাঙ্গীরনগর সাংস্কৃতিক জোটের সাধারণ সম্পাদক ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম পাপ্পু।

তদন্তের ব্যাপারে শিক্ষা উপমন্ত্রীর সদিচ্ছাকে সাধুবাদ জানিয়ে শহীদুল ইসলাম পাপ্পু বলেন, ‘প্রকল্পের টাকা ছাড় না হওয়ায় দুর্নীতি হয়নি—এমন দাবি করেছেন শিক্ষা উপমন্ত্রী। তদন্তের আগেই এমন বক্তব্য দেওয়া তদন্তের ফলাফল বলে দেওয়ার নামান্তর।’ স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘দুর্নীতি কেবল অর্থ ছাড়ের প্রেক্ষিতেই ঘটতে পারে—এমন নয়। আমরা বিশ্বাস করি, তদন্তের আগেই কোনোপক্ষের বিরুদ্ধে বিরূপ মন্তব্য না করে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন হলে উপাচার্য দোষী প্রমাণিত হবেন।’

শিক্ষা উপমন্ত্রী অভিযোগ দায়েরে কালক্ষেপণের যে অভিযোগ তুলেছেন সে বিষয়ে শহীদুল ইসলাম পাপ্পু বলেন, ‘গত ৩ নভেম্বর শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষক প্রতিনিধির সভা হয়। সেখানে মন্ত্রী উপাচার্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগসহ অন্যান্য অভিযোগের সুস্পষ্ট তথ্য লিখিতভাবে জমা দেওয়ার জন্য ৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন। এতে স্পষ্ট হয়, শিক্ষামন্ত্রী দেশের বাইরে থাকায় সময় বেঁধে দেওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে শিক্ষা উপমন্ত্রী অবগত নন।’

গত ৭ নভেম্বর উপাচার্যের বাসভবনের সামনে হওয়া প্রতিবাদী কনসার্টের অর্থের যোগান নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শিক্ষা উপমন্ত্রী। এ বিষয়ে শহীদুল ইসলাম পাপ্পু বলেন, ‘কনসার্টে আমরা কোনও ধরনের সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করিনি। শিল্পীরা শুধু একটি হ্যান্ড-মাইক ব্যবহার করে গান গেয়েছেন। আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করে তারা কোনও পারিশ্রমিকও নেননি।’ আন্দোলনকারীদের কাছ থেকে তোলা গণচাঁদার মাধ্যমে আন্দোলনের সব কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

শহীদুল ইসলাম পাপ্পু দাবি করেন, ‘আন্দোলনকারীরা মনে করেন, ছাত্রলীগের টেন্ডার শিডিউল ছিনতাই ও এর বিচার না করা, ই-টেন্ডার না করে ম্যানুয়াল পদ্ধতি অনুসরণ, গণমাধ্যমে ছাত্রলীগের নেতাদের টাকা পাওয়ার স্বীকারোক্তি ও দুই ছাত্রলীগ নেতার মুঠোফোন কথোপকথন ফাঁস এবং ছাত্রলীগের সঙ্গে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দেন-দরবার নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে উপাচার্যের বক্তব্যসহ সংবাদ হওয়া ইত্যাদি নানা ঘটনায় প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হয়।’

পাপ্পু বলেন, ‘আমরা প্রথমেই উপচার্যের পদত্যাগ চাইনি, বরং উন্নয়ন পরিকল্পনার দুর্নীতির তদন্তের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলাম। আমরা কোনও ধরনের অরাজকতা, সহিংসতা ও বিশৃঙ্খলা এড়িয়ে শৈল্পিকভাবে আন্দোলনকে এগিয়ে নিয়েছি।’ বর্তমান পরিস্থিতির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এবং সরকারের নির্লিপ্ততাকে দায়ী করেন তিনি। আন্দোলনকারীদের পক্ষে অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় ও আবাসিক হল খুলে দিয়ে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিতের দাবিও জানান তিনি।   

সংবাদ সম্মেলনে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন আন্দোলনের সমন্বয়ক ও মুখপাত্র রায়হান রাইন। তিনি বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের জন্য দুইদিন স্থগিত শেষে ১২ নভেম্বর সকাল ১১টায় পটচিত্র প্রদর্শনী, বিকাল ৩টায় সংহতি সমাবেশ, সন্ধ্যা ৬টায় গানে গানে সংহতি এবং সাড়ে ৭টায় পথ-নাটক হবে। পরদিন সকাল ১১টায় বিক্ষোভ মিছিল করবো।’ 

এদিকে, উপাচার্যের অপসারণ দাবিতে শনিবার বিকালেও নতুন কলা ও মানবিকী অনুষদ ভবন থেকে প্রতিবাদী পটচিত্র নিয়ে প্রধান ফটকের সামনে প্রদর্শন করেন আন্দোলনরতরা।

 

/এমএ/

লাইভ

টপ