বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অবহেলায় বিদেশি ছাত্রীর মৃত্যুর অভিযোগে আন্দোলন

Send
ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ০৬:৫৮, নভেম্বর ১১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:১৩, নভেম্বর ১১, ২০১৯

বাকৃবিময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেটেরিনারি অনুষদের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী হারানি জানাকি রামানের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে আন্দোলনে নেমেছে সহপাঠী শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আন্দোলনকারীরা। তারা তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। রবিবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা পর্যন্ত উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি অনুযায়ী সোমবারের ভেটেরিনারি এবং ফিসারিজ অনুষদের পরীক্ষা স্থগিতের ঘোষণা দেয় প্রশাসন। এদিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আলোচনায় বসার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ সমাবেশ স্থগিত করে হলে ফিরে যান।  পরীক্ষা স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান।

আন্দোলনকারীরা জানান, হারানি বাকৃবির ভেটেরিনারি অনুষদের ছাত্রী ও মালয়েশিয়ার নাগরিক। শুক্রবার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় শ্বাসকষ্ট শুরু হলে তাকে বাকৃবির বেগম রোকেয়া হল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় হেলথ সেন্টারে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। সে সময় অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হওয়ায় সহপাঠীরা তাকে সিএনজি অটোরিকশাযোগে রাত ৮টায় হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত ২টায় হারানি মারা যান।  অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে যথাসময়ে হাসপাতালে নিতে না পারায় হারানির মৃত্যু হয়েছে। কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়টি জানানোর পরও অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করেনি।  

হারানির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলনে নামে শিক্ষার্থীরা।  তারা ভেটেরিনারি অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দিন আহমেদ, বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ড. জিয়াউল হক এবং হেলথ সেন্টারের চিফ মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফয়েজ আহমেদের পদত্যাগ এবং সোমবারের পরীক্ষা স্থগিতের দাবি জানান। 

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘হারানি অসুস্থ হয়ে পড়লে বেগম রোকেয়া হলের প্রভোস্ট ড. জিয়াউল হক স্যারকে জানানোর পরও তিনি কোনও ব্যবস্থা নেননি। তিনি কখনোই হলে কোনও সমস্যা হলে ফোন ধরেন না।’ 

উপাচার্য প্রফেসর ড. লুৎফুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, হারানি অসুস্থ হয়ে হেলথ সেন্টারে যাওয়ার আগেই অ্যাম্বুলেন্স অন্য একজন রোগীকে নিয়ে বাইরে চলে যায়। অ্যাম্বুলেন্স ফিরে আসার আগেই সহপাঠী শিক্ষার্থীরা তাকে অটোরিকশায় নিয়ে ময়মনমসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করেছে। হারানির মৃত্যুতে কারও কোনও গাফিলতি ছিল কিনা এ বিষয়টি নিয়ে সোমবার বসে প্রয়োজনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

তিনি আরও বলেন, ‘হারানির পরিবারের সদস্যরা বাংলাদেশে এসেছেন এবং ক্যাম্পাসে এসে আমার সঙ্গে দেখা করেছেন।  এ নিয়ে পরিবারের কোনও অভিযোগ নেই। ছোটবেলা থেকেই হারানির শ্বাসকষ্ট সমস্যা ছিল এবং সে নিয়মিত ওষুধ সেবন করতো বলে জানিয়েছে পরিবারের সদস্যরা।’ 

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

      

 

 

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ