দেশপ্রেম না থাকলে, মরণ নেশা ইয়াবা বন্ধ করা সম্ভব হবে না বলে জানিয়েছেন টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়ন (বিজিবির) অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান। তিনি বলেন, ‘সীমান্ত ঘেঁষা মিয়ানমার থেকে আসা ইয়াবা দেশ ও যুব-সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। ইয়াবার কারণে একটা প্রজন্ম ধ্বংস হতে পারে না। ইতোমধ্যে মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্তায় বিজিবির কিছু সদস্যকে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।’
সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে টেকনাফ উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিজিবির উদ্যোগে আয়োজিত মাদক রোধে জনসচেতনতামূলক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভা পরিচালনা করেন টেকনাফ-২ বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অপারেশন মেজর রুবায়াৎ কবির।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্ধৃতি দিয়ে মোহাম্মদ ফয়সল হাসান খান বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি বাংলাদেশ একদিন সোনার বাংলায় রূপান্তরিত হবে। সেভাবে সরকার প্রধান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তবে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মানুষ মারা গেলেও ইয়াবা বন্ধ হবে না। ইয়াবা বন্ধ করতে হলে সবার সহযোগিতা দরকার। সামাজিকভাবে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বয়কট করতে হবে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ জনগণ এগিয়ে আসলে মাদকরোধ সম্ভব হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকপাচারে শুধু রোহিঙ্গাদের ওপর দায় চাপিয়ে দিলে হবে না। প্রকৃতপক্ষে রোহিঙ্গাদের কারা এসব কাজে আশ্রয়-পশ্রয় দিচ্ছে তাদের আইনের হাতে তুলে দিন। কক্সবাজারের টেকনাফের কিছু রোহিঙ্গা ক্যাম্প নাফ নদী ও পাহাড়ের কাছাকাছি হওয়ায় খুব সহজে সেখানে ইয়াবা চালান ঢুকে পড়ছে। ফলে নাফ নদীতে বিজিবির টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। নানা প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি সীমান্তে বিজিবি নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। আশা করছি সফলতা আসবে।’
সভায় বক্তারা বলেন, ‘মাদক বন্ধে শুধু টেকনাফকে টার্গেট করলে হবে না। কারণ মাদক এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, র্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরসহ এত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনের পরও এই ইয়াবা কেন বন্ধ হচ্ছে না? নিশ্চয়ই এখানে কোনও গাফিলতি রয়েছে। তাই মাদক নির্মূলে সরকারের পক্ষে থেকে সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ‘সমন্বয় সেল’ গঠন করা জরুরি।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- টেকনাফ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নুরুল আলম, সাবেক সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী, উখিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হামিদুল হক চৌধুরী, কোস্ট গার্ড টেকনাফ স্টেশন কমান্ডার লে. কমান্ডার এম সোহেল রানা, টেকনাফ ২৪ ও ২৫ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্প ইনর্চাজ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নানসহ অনেকে।








