পরিবারকে ভালো রাখার আশায় ২০ বছর আগে সিদ্দিক হোসেন বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেন। দালাল চক্র বিদেশে পাঠানোর কথা বলে তার কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। জমিজমা বিক্রি ও ধারদেনা করে সেই টাকা পরিশোধ করে নিঃস্ব হয়ে যান তিনি। ঋণে জর্জরিত জীবনে হতাশাই ছিল তার সঙ্গী। এক সময় প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি শুরু করেন নার্সারির ব্যবসা। এর কিছুদিন পর ব্যাংক থেকে ঋণ নেন। সেই টাকায় বরই চাষ শুরু করেন। গত ১০ বছর ধরে দেশীয় আগাম জাতের টক বরই চাষ করছেন তিনি। এখন প্রায় ২০ একর জমি লিজ নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে বরই আবাদ করছেন সিদ্দিক।বরই চাষ করে ভাগ্য ফিরেছে তার।
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার কাকড়াজান ইউনিয়নের ইন্দারজানি খুইংগারচালা গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক স্বল্পপুঁজি নিয়ে নার্সারির ব্যবসা ব্যবসা শুরু করেছিলেন। এখন প্রায় ২০ একর জমিতে টক বরই চাষ করে তিনি স্বাবলম্বী হয়েছেন।
সিদ্দিক জানান, তিনি নিজেই এ জাতের বরই গাছে কলম দিয়ে চারা উৎপাদন করে সেই চারা জমিতে লাগান। এছাড়াও সিদ্দিক তার বাড়ির চারপাশে দেশি-বিদেশি নানা প্রজাতির ফল ও ফুলের বাগান তৈরি করেছেন। প্রতিদিন তার বাগানে ১০-১২ জন শ্রমিক কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘স্বল্পপুঁজি নিয়ে প্রথমে নার্সারির ব্যবসা শুরু করি। এখন টক বরই চাষ করে বেশ ভালো আছি। গত মাসে প্রায় ১৪ লাখ টাকার বরই বিক্রি করেছি। আগামী ১৫ দিনে ৭-৮ লাখ টাকার বরই বিক্রি করার সম্ভাবনা রয়েছে। নিজস্ব পিকআপে করে বরই ঢাকার কাওরান বাজার ও যাত্রাবাড়ী নিয়ে বিক্রি করি। এখন প্রতি কেজি বরই বিক্রি হচ্ছে ১০০-১৫০ টাকায় করে। বরই চাষ লাভজনক হওয়ায় এখন অনেকেই চাষ শুরু করেছেন।’
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন,সিদ্দিক হোসেন একজন সফল বরই চাষি। তার সাফল্য দেখে সখীপুরের শতাধিক ব্যক্তি বরই চাষ শুরু করেছেন। তাদের মধ্যে কয়েকজন সফলও হয়েছেন।








