প্রতারণা ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে রংপুর মেডিক্যাল কলেজে নিম্নমানের যন্ত্রপাতি সরবরাহের মাধ্যমে সরকারের সাড়ে চার কোটি টাকা আত্নসাতের মামলায় ডা. সরোয়াত হোসেন চন্দনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছে আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর পক্ষ থেকে মামলাটি দায়ের করা হয়েছিল।
বুধবার (১ জানুয়ারি) বিকালে রংপুর মেডিক্যাল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. সরোয়াত হোসেন চন্দন জেলা ও দায়রা জজ রাশেদা সুলতানার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। এসময় শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর আইনজীবী অ্যাডভোকেট হারুনর রশীদ এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, প্রধান আসামি মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ নুর ইসলামের অন্যতম সহযোগী ছিলেন আসামি ডা. সরোয়াত হোসেন চন্দন। ডা. চন্দন ওই মালামাল ক্রয় কমিটি, দরপত্র কমিটি, বাজারদর যাচাই কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন। দুর্নীতির সঙ্গে তিনিও সম্পৃক্ত ছিলেন। ফলে মামলায় তাকেও আসামি করেছে দুদক। তিনি বুধবার আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। তার বিরুদ্ধে সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা হয়েছে। জামিনের আপত্তি প্রদান করার পর বিজ্ঞ বিচারক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
উল্লেখ্য, মামলার প্রধান আসামি মেডিক্যাল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক নুর ইসলাম এখন কারাগারে আটক রয়েছেন। তিনি গত ২৬ নভেম্বর আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করলে বিচারক তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, রংপুর মেডিক্যাল কলেজে ভারী যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জামাদির প্রয়োজন না থাকার পরও স্বাস্থ্য অধিদফতরের পূর্বানুমোদন ছাড়াই সেগুলো কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এজন্য অধ্যক্ষ ডা. মো. নুর ইসলাম কর্তৃক বিধিবহির্ভূতভাবে বিভিন্ন কমিটি গঠন করা হয়। তিনি যথাযথ চাহিদা ও স্পেসিফিকেশন ছাড়াই দরপত্র আহ্বান করেন এবং পছন্দের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘বেঙ্গল সায়েন্টিফিক অ্যান্ড সার্জিক্যাল কোম্পানি’কে কার্যাদেশ প্রদান করেন। তিনি অসৎ উদ্দ্যেশে ২১/০৬/১৮ইং তারিখে দরপত্র মূল্যায়ন করে একই তারিখে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নোটিফিকেশন অব অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন এবং চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করেন। ২৩/৬/২০১৮ ইং তারিখে কার্যাদেশ প্রদান করেন। কার্যাদেশ প্রাপ্ত হয়ে শর্তানুযায়ী যন্ত্রপাতি সরবরাহ না করে অপ্রয়োজনীয় ও নিম্নমানের ব্যবহার অনুপযোগী যন্ত্রপাতি সরবরাহ করে সরকারের চার কোটি আট চল্লিশ লাখ ঊননব্বই হাজার তিনশ’ টাকা উত্তোলন করে আত্নসাৎ করা হয়েছে।








