ফুলের চারা বিক্রি করে লাভবান নীলফামারীর চাষিরা

তৈয়ব আলী সরকার, নীলফামারী
১৫ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৪২আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৪৬

ফুলের চারা বিক্রি করে লাভবান নীলফামারীর চাষিরা ফুলের চারা বিক্রি করে সফলতা পেয়েছেন নীলফামারীর চাষিরা। শীত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফুলের চারার বেচাকেনা বেড়ে যায়। পাইকারি ও খুচরা মূল্যে এগুলো বিক্রি করে লাভের মুখ দেখছেন তারা।


সরেজমিনে বিভিন্ন নার্সারি ঘুরে দেখা যায়, বাগানে শীতকালীন বিভিন্ন ফুলের চারা বিক্রি করা হচ্ছে। এর মধ্যে লাল গোলাপ, সাদা গোলাপ, ডালিয়া, চন্দ্রমল্লিকা, কসমস, সিলভিয়া, ক্যালেন্ডুলা, সূর্যমুখী, গ্লাডিলাস, দেশি গাদা, রক্তগাদা প্রভৃতি।
জেলা শহরের সৈয়দপুর সড়কের পাশে অবস্থিত প্রান্ত নার্সারির মালিক আফিজার রহমান (৫৫) জানান, এবার এক বিঘা জমিতে প্রায় ১২ প্রজাতির ফুলের চারা বিক্রির জন্য প্রস্তত করা হয়েছিল। বিক্রিত চারার মধ্যে হাইব্রিড জাতের গাদা, রক্তগাদা, কুইন সুপার গাদা ও গোলাপের চারা প্রকার ভেদে প্রতি পিস ৫০-৬০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়াও হাইব্রিড জাতের ডালিয়া খুচরা ১৫ টাকা, চন্দ্রমল্লিকা ১৫, ক্যান্ডুলা ১০, জিনিয়া ১০, দোপাটি ১০, সিলভিয়া ১০, রক্তজবা ৮০, চায়না টগর ২০, কসমস ১০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।
অপরদিকে, হাইব্রিড গোলাপের মধ্যে তাজমহল গোলাপ চারা ১০০, রানি গোলাপ ১০০, বিশ্ব সুন্দরী গোলাপ ১০০ টাকা। প্রকার ভেদে ইরানি গোলাপ ২৫ টাকা থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। এ ছাড়াও দেশি জাতের গোলাপ প্রতি পিস ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
ফুলের চারা বিক্রি করে লাভবান নীলফামারীর চাষিরা আফিজার রহমান আরও জানান, এসব ফুলের চারা ও বীজ রংপুর, বগুড়ার মহাস্থানগড় ও খুলনা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। এবার মোকাম থেকে প্রায় সোয়া লাখ টাকার চারা ও বীজ কেনা হয়েছে।
তিনি বলেন, জুন থেকে জুলাই মাস পর্যন্ত বিভিন্ন প্রজাতির প্রচুর চারা বিক্রি হয়। তবে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে ফুলের চারা বেশি বিক্রি হয়। এ পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ টাকার চারা বিক্রি হয়েছে। আশা করছি, ফেব্রয়ারি পর্যন্ত আরও লক্ষাধিক টাকার ফুলের চারা ও বিভিন্ন প্রজাতির চারা বিক্রি হবে।
একই এলাকার খুলনা নার্সারির মালিক আব্দুল হাকিম জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে প্রায় ১৫ প্রজাতির ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। এসব চারা বাইরে থেকে সংগ্রহ করতে হয়েছে। এরপর চারাগুলো নার্সারিতে রোপণের পর পাইকারি ও খুচরা বিক্রি করা হয়। এ বছর চারার খুবই চাহিদা রয়েছে। বাগানে প্রতিদিন আগাছা পরিষ্কার ও সেচ সার প্রয়োগে ৩-৪ জন শ্রমিক কাজ করেন। তারাও লাভবান হচ্ছে আমরাও হচ্ছি।
নার্সারিতে কথা হয় খুচরা বিক্রেতা আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা নার্সারিতে পাইকারি ফুলের চারা সংগ্রহ করে গ্রামগঞ্জে ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় ভ্যানে করে বিক্রি করি। প্রতিদিন চারা বিক্রি করে ৩০০-৪০০ টাকা পর্যন্ত লাভ হয়। এই ব্যবসা করে ছেলেমেয়ে নিয়ে ভালো আছি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, জেলায় ১১৬ টি নার্সারি রয়েছে। এর মধ্যে সরকারি ছয় ও বেসরকারি ১০০ টি। উপজেলা ভিত্তিক, নীলফামারী সদরে সরকারি ১টি ও বেসরকারি ৩৯টি, সৈয়দপুরে সরকারি ১টি ও বেসরকারি ১০টি, ডোমারে সরকারি ১টি ও বেসরকারি ১৪টি, ডিমলায় সরকারি ১টি ও বেসরকারি ১৭, জলঢাকায় সরকারি ১টি ও বেসরকারি ২০টি, কিশোরগঞ্জ উপজেলায় সরকারি ১টি ও বেসরকারি ১০টি নার্সারি রয়েছে।
ফুলের চারা বিক্রি করে লাভবান নীলফামারীর চাষিরা এসব নার্সারিতে বিভিন্ন ফুলের, ফলদ, বনজ ও ওষুধি চারা উৎপাদন করা হয়। তবে নার্সারির মালিকরা এতে কোনও সরকারি সুযোগ-সুবিধা পান না বলে জানিয়েছেন। তাদের সব কিছুই নিজেদের অর্থায়নেই করতে হয়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) এনামুল হক বলেন, জেলায় সরকারি, বেসরকারি মিলে ১১৬টি নার্সারি রয়েছে। এ চাষিরা সবকিছুই নিজেদের অর্থায়নেই করে থাকেন। আমাদের পক্ষে পোকামাকড় দমনসহ নানা ধরনের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘নার্সারি মালিকরা সরকারি সহযোগিতা পেলে আরও লাভবান হতে পারতো।’

/এআর/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
৩০ হাজারের দেশে ১৬ হাজারেই সংকট, কেন ভেঙে পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
৩০ হাজারের দেশে ১৬ হাজারেই সংকট, কেন ভেঙে পড়ছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা
পুঁজিবাজারে ফিরছে আস্থা, কর ছাড়ের বড় প্যাকেজ আনলেন অর্থমন্ত্রী 
পুঁজিবাজারে ফিরছে আস্থা, কর ছাড়ের বড় প্যাকেজ আনলেন অর্থমন্ত্রী 
ব্যাংক খাতে এস আলমের ফেরার পথ বন্ধ হলো?
ব্যাংক খাতে এস আলমের ফেরার পথ বন্ধ হলো?
বাতিল হচ্ছে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ‘বিতর্কিত’ ধারা 
বাতিল হচ্ছে ব্যাংক রেজল্যুশন আইনের ‘বিতর্কিত’ ধারা 
সর্বাধিক পঠিত
একসঙ্গে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত
একসঙ্গে এক বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৭ শিক্ষক চাকরিচ্যুত
দেশে ভূমিকম্প অনুভূত
দেশে ভূমিকম্প অনুভূত
পে স্কেল কার্যকরের কাউন্টডাউন, অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে কাদের
পে স্কেল কার্যকরের কাউন্টডাউন, অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে কাদের
ভারতীয় ভিসা আবেদন জমার শুরুর দিনে দীর্ঘ লাইন
ভারতীয় ভিসা আবেদন জমার শুরুর দিনে দীর্ঘ লাইন
যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি হারালেন সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা
যে কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি হারালেন সহকারী অধ্যাপক ফাতেমা