সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪ হাজার পরিবার (ভিডিও)

হিমাদ্রি শেখর ভদ্র, সুনামগঞ্জ
২৮ জুন ২০২০, ০৭:০৬আপডেট : ২৮ জুন ২০২০, ১৮:২০

 

সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪ হাজার পরিবার (ভিডিও) অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জের ৪৪ হাজারের বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ পৌরসভার ৮০ ভাগ ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়েছে। শহরের নবীনগর, ধোপাখালী, ষোলঘর, কাজীরপয়েন্ট, তেঘরিয়া, সাববাড়িরঘাট, হোসেনবখত চত্বর, পশ্চিম হাজীপাড়া, জগন্নাথবাড়ি, জেলরোড, লঞ্চঘাট, সুরমা মার্কেট, হাছননগর, মল্লিকপুর, কালীপুর, রায়পাড়া, সোমপাড়া, আরপিননগর, বড়পাড়াসহ সবকটি আবাসিক এলাকার সড়ক ঢলের পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। নিচু এলাকার শতাধিক বাড়িঘরে ঢলের পানি প্রবেশ করেছে। পৌর এলাকার সড়কগুলো পানিতে নিমজ্জিত থাকায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। শহরের লোকজন পায়ে হেঁটে পানি মাড়িয়ে বাসাবাড়িতে চলাচল করছেন।

তবে শনিবার (২৭ জুন) বিকাল থেকে বৃষ্টি না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবিবুর রহমান বলেন, সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত বৃষ্টি না হওয়ায় পানি ২ সেন্টিমিটার কমেছে। উজানে বৃষ্টিপাত না হলে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে। তবে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে আরও বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সুনামগঞ্জে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত ৪৪ হাজার পরিবার (ভিডিও) জেলা বন্যা নিয়ন্ত্রণ কক্ষ সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের ওপাড় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েকদিনের ভারী বর্ষণে সুনামগঞ্জ সদর, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, দোয়ারাবাজার, জগন্নাথপুর, ছাতক, শাল্লাসহ ৯টি উপজেলার ২৯টি ইউনিয়নের ৪৪ হাজার ১১০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সদর উপজেলার গৌরারং, সুরমা, জাহাঙ্গীরনগর, রঙ্গারচর ইউনিয়ন ও সুনামগঞ্জ পৌর এলাকার পাঁচ হাজার পরিবার; বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেহপুর, ধানপুর, সলুকাবাদ, পলাশ দক্ষিণ বাদাঘাট ইউনিয়নের পাঁচ হাজার পরিবার; জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ও ফেনারবাক ইউনিয়নের ৪০০ পরিবার; ধর্মপাশা উপজেলার চামরদানী ও দক্ষিণ বংশীকুন্ডা ইউনিয়নের ২৫০টি পরিবার; শাল্লা উপজেলার বাহারা ও হবিবপুর ইউনিয়নের ১৪টি পরিবার। এছাড়া তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট, বড়দল উত্তর, বড়দল দক্ষিণ, শ্রীপুর উত্তর ও শ্রীপুর দক্ষিণ, বালিজুরি ও তাহিরপুর সদর ইউনিয়নের তিন হাজার পরিবার; দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ও সদর ইউনিয়নের ১১ হাজার পরিবার; ছাতক উপজেলার ইসলামপুর, নোয়ারাই, কালারুকা, দোলারবাজার ইউনিয়ন ও ছাতক পৌর এলাকার ১৯ হাজার ৩৯৬টি পরিবার এবং জগন্নাথপুর উপজেলার ৫০টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

 অন্যদিকে সদর উপজেলার ২৫টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ১০০টি, ছাতক উপজেলার ৫০টি, দোয়ারাবাজার উপজেলার ৯টি, ধর্মপাশা উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারসহ মোট ১৯৭টি পরিবার এখন পর্যন্ত আশ্রয়কেন্দ্রে এসে ওঠেছেন।

এদিকে পাহাড়ি ঢলে ও বৃষ্টিতে হঠাৎ বন্যায় জেলার বিভিন্ন ফসল ও সবজির আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢলের পানিতে ডুবে গেছে বীজতলা। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, তিন হাজার ৭৬৫ হেক্টর আউশ ধানের জমি ও ১৮৮ হেক্টর বর্ষাকালীন সবজি ক্ষেত ঢলের পানিতে ডুবে গেছে। অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. সফর উদ্দিন বলেন, আউশ ধানের জমি ও সবজি ক্ষেতের পানি নেমে গেলে কোনও ক্ষয়ক্ষতি হবে না। তবে জমিগুলো যদি ৩-৪দিন পানিতে ডুবে থাকে তাহলে ক্ষতি হবে।

ঢলের পানিতে ভেসে গেছে জেলার বিভিন্ন এলাকার মাছের ঘের ও পুকুর। জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, কতোগুলো পুকুরের মাছ ঢলের পানিতে ভেসে গেছে তা এখনো জানা যায়নি। উপজেলা থেকে প্রতিবেদন আসলে জানা যাবে।

 জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলোতে ৪১০ মেট্রিক টন চাল এবং ২৯ লাখ ৭০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া উপজেলাসমূহে চার হাজার ৭৫২টি পরিবারের মধ্যে শিশু খাদ্য বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি ও পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট প্রস্তুত করা ও প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ করা হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্রগুলোর তালিকা প্রস্তুত, যোগাযোগের নম্বর এবং আশ্রয়কেন্দ্র ভিত্তিক কমিটি করে দেওয়া হয়েছে। জেলায় ৭৮টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে নৌ যান ও মাঝির ব্যাবস্থা করা এবং তাদের যোগাযোগের নম্বর প্রচার করা হয়েছে। ত্রাণ ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য স্থানীয় পর্যায়ে স্পিডবোটের ব্যাবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে কারোও করোনা উপসর্গ থাকলে তাকে আলাদা স্থানে রাখার ব্যাবস্থা করা হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে সাবান, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ও মাস্ক সরবরাহ করা হয়েছে। চিকিৎসা ব্যাবস্থা নিশ্চিত করার জন্য মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে। জেলা দুর্যোগ ব্যাবস্থাপনা কমিটির মিটিং করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

 সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন বলেন, সরকার ও দল সব সময় দুর্গতদের পাশে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে প্রয়োজন অনুযায়ী সহযোগিতা করা হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন হলে আরও ত্রাণের ব্যবস্থা করা হবে।

 সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধী দলীয় হুইপ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিগণ সব সময় দুর্গত মানুষের পাশে রয়েছেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কঠোরভাবে পরিস্থিতি মনিটরিং করা হচ্ছে। কোথাও কোনও সমস্যা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বন্যার পাশাপাশি করোনা সংক্রমণের হাত থেকে মানুষকে রক্ষার জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

ভিডিও দেখুন:

/টিটি/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
আফগানিস্তানের সঙ্গে ড্র করলো বাংলাদেশ 
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি