বাঁশের খুঁটিতে বিদ্যুতের লাইন, জীবনের ঝুঁকিতে হাজার হাজার মানুষ

লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর
১৩ আগস্ট ২০২০, ১১:৩৯আপডেট : ১৩ আগস্ট ২০২০, ১১:৪৪

এভাবে শত শত বাড়িতে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে রংপুর সিটি করপোরেশনের দুটি ওয়ার্ডের শত শত বাড়ি, স্থাপনা, কারখানাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বাঁশের খুঁটির মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে জীবনের ঝুঁকিতে রয়েছে হাজার হাজার মানুষ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিদ্যুতের খুঁটি বসানোর দাবি জানিয়ে আসছেন তারা, কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। এর ফলে যেকোনও সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা।

সরেজমিন দেখা গেছে, রংপুর নগরীর ৪ ও ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংযোগস্থল খটখটিয়ার টাইগারপাড়া লালপুল ব্রিজ মোড় এলাকায় অনেক বাড়িতেই এমন ঝুঁকিপূর্ণভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছে নেসকো। বৈদ্যুতিক খুঁটি না বসিয়ে বাঁশ দিয়ে বিদ্যুতের তার টানিয়ে দেওয়া হয়েছে। অনেক স্থানে তারের ভারে বাঁশগুলো হেলে পড়েছে। কোথাও বা হেলে থাকা বাঁশ আরও একটা বাঁশ দিয়ে ঠেকনা দেওয়া হয়েছে। রাস্তার আশেপাশে খাল ও পুকুরের পানির কাছ দিয়ে দেওয়া হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগ। কোথাও তারে লতাপাতা জড়িয়ে বৈদ্যুতিক তারগুলোকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ফেলেছে। এক কিলোমিটারের কিছু বেশি রাস্তা জুড়ে বসানো বাঁশের খুঁটিতে ভরসা করেই প্রায় ৩শ’ বাড়িতে বিদ্যুতের সংযোগ দেওয়া হয়েছে। মূল লাইনটি যেখানে গিয়ে শেষ, সেখানে ঝোলানো হয়েছে বিদ্যুৎ সংযোগের ১০টি মিটার। বাকি মিটারগুলো বসানো হয়েছে গ্রাহকদের বাড়িতে। সিটি করপোরেশনের ওই এলাকায় বিদ্যুৎ লাইন দক্ষিণে প্রায় ৫০০ গজ গিয়ে থেমে গেছে।  দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুতের খুঁটির জন্য চেষ্টা করছিলেন ওই এলাকার বাসিন্দারা। কিন্তু খুঁটির ব্যবস্থা না করে কর্তৃপক্ষ বাঁশ বসিয়ে সংযোগ দিয়েছে। গত পাঁচ-ছয় বছর এভাবেই চলছে।

টাইগারপাড়া এলাকার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রামের কিছু বাড়িতে বিদ্যুৎ আছে, কিছু বাড়িতে নেই, এটা ভাবাই যায় না। এলাকার সবাই বিদ্যুৎ পাওয়ার চেষ্টা করেছে। কর্তৃপক্ষ অপেক্ষা করতে বলেছে। জানিয়েছে, দ্রুতই খুঁটি স্থাপন করা হবে। কিন্তু আজও হয়নি।’

গত পাঁচ-ছয় বছর এভাবেই চলছে খটখটিয়া এলাকার আশরাফুল ইসলাম, আব্দুর রশিদ, আনিছুর রহমান, ফরহাদ হোসেন, আইয়ুব আলীসহ কয়েকজন জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেনেও ‍নিরুপায় হয়ে এভাবে ঝুঁকি নিয়েই বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হচ্ছে। যেকোনও দুর্ঘটনা ঘটার আগেই এই সংযোগগুলোর নিরাপদ ব্যবস্থা প্রয়োজন।

এলাকাবাসী সাইফুল ইসলাম, রমজান আলী, জাহাঙ্গীর আলম বলেন, এই এলাকায় তিন-চার মাস পর পর বিদ্যুৎ বিল একসঙ্গে দেওয়া হয়। এতে অনেকের বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে। নেসকোর লোকজন বিদ্যুতের মিটার দেখে বিল দেয় না। তারা অফিসে বসে থেকে মনগড়া বিল তৈরি করে দেয়। এসব নিয়ে অভিযোগ করতে করতে তারা নিজেরাই বিরক্ত হয়ে গেছে বলে জানালেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ১০০ গজের বেশি দূরত্বে সার্ভিস লাইন দেওয়ার কোনও নিয়ম নেই। ১০০ গজের অতিরিক্ত দূরত্ব হলে অবশ্যই খুঁটি দিতে হবে, অন্যথায় সংযোগ দেওয়া যাবে না। অথচ এ এলাকায় এক কিলোমিটারের বেশি দূরে গিয়ে খুঁটি বসানো হয়েছে। মাঝের স্থানগুলোতে বসানো হয়েছে বাঁশের খুঁটি। এছাড়াও এই এলাকায় ২শ’ কেভি ট্রান্সফরমার দেওয়া হয়েছে। যেখানে একশটি মিটার চলার কথা সেখানে ওই ২শ’ কেভি ট্রান্সফরমার দিয়ে ৩শ’টি মিটারে বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় প্রতিনিয়ত লোডশেডিং হয়ে থাকে। অনেক সময় লো-ভোল্টেজের কারণে ফ্রিজ, এসি, ইলেকট্রিকের দামি জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

এলাকাটির  ওই দুই ওয়ার্ডের ৫ শতাধিক পরিবারে বিদ্যুতের সংযোগের চাহিদা থাকলেও এভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করায় ঝুঁকির কথা বিবেচনায় অনেকেই সংযোগ নেননি। তাই ৩ শতাধিক বাড়িতে রয়েছে বিদ্যুতের সংযোগ। বছরের পর বছর বাকি পরিবারগুলো বঞ্চিত হয়ে চললেও খুঁটি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে নেসকোর নির্বাহী প্রকৌশলী-৩ আশরাফুল ইসলাম  বলেন, ‘সংযোগগুলো নানা সময় দেওয়া হয়েছে। এলাকার মানুষের তদবিরে সংযোগগুলো দেওয়া হয়ে থাকতে পারে।’ তবে ঝুঁকিমুক্ত করতে তারা ওই স্থানে দ্রুত খুঁটি বসানোর পদক্ষেপ নেবেন বলে জানান তিনি।

 

/এমএএ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে ভাইরাল ২ যুবকের পরিচয় মিললো
বিএনপির দুই গ্রুপের সংঘর্ষে অস্ত্র হাতে ভাইরাল ২ যুবকের পরিচয় মিললো
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় 
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময় 
তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ
তারেক রহমানের ১৯তম কারামুক্তি দিবস আজ
আইনজীবীর বিরুদ্ধে কললিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ
আইনজীবীর বিরুদ্ধে কললিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ
সর্বাধিক পঠিত
যানজট কমাতে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো দুই নতুন সেতু
যানজট কমাতে উন্মুক্ত করে দেওয়া হলো দুই নতুন সেতু
একসঙ্গে আসছে ৫ হাজার মার্কিন সৈন্য, বড় বিপদে যৌনকর্মীরা
একসঙ্গে আসছে ৫ হাজার মার্কিন সৈন্য, বড় বিপদে যৌনকর্মীরা
কওমি বোর্ডের সনদে সরকারি মাদ্রাসার দুই পদে নিয়োগের স্বীকৃতি
কওমি বোর্ডের সনদে সরকারি মাদ্রাসার দুই পদে নিয়োগের স্বীকৃতি
রুফটপ সোলারে বাড়িওয়ালারা কী সুবিধা পাবেন জানালেন প্রধানমন্ত্রী
রুফটপ সোলারে বাড়িওয়ালারা কী সুবিধা পাবেন জানালেন প্রধানমন্ত্রী
কমলো এলপিজির দাম
কমলো এলপিজির দাম