Vision  ad on bangla Tribune

একান্ত সাক্ষাৎকারে মেয়র আনোয়ার হোসেন আকননেই পৌরভবন, তবুও আধুনিক পৌরসভা উপহার দেওয়ার আশা

তরিকুল রিয়াজ, বরগুনা১১:০৯, ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৬


পাথরঘাটার মেয়র

বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভাটি দ্বিতীয় শ্রেণি পৌরসভায় উন্নীত হলেও নেই নিজস্ব পৌরভবন। সিডর, আইলা, মহাসেনের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিধ্বস্ত বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভাকে আধুনিক পৌরসভা হিসেবে উপহার দিতে চাই। সাগর তীরবর্তী পাথরঘাটা পৌরসভায় গত পাঁচ বছরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সবার সহযোগিতায় সব ধরনের উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিক পৌরসভা গড়া হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন পাথরঘাটা পৌরসভার নতুন মেয়র মো. আনোয়ার হোসেন আকন।

৩০ ডিসেম্বর পৌরসভা নির্বাচনে তৃতীয়বারের মত মেয়র নির্বাচিত হন তিনি। নির্বাচনে দেওয়া ইশতেহার অনুযায়ী, কাউন্সিলরদের নিয়ে উন্নয়ন কাজ শুরু করতে চান পাথরঘাটা পৌর মেয়র। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, পাথরঘাটা পৌরসভার নিজস্ব ভবনের কাজের মাধ্যমেই শুরু হবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড।

১৯৯১ সালে পাথরঘাটা পৌরসভা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ২৬ বছরেও আশানুরূপ উন্নয়ন হয়নি এই পৌরসভার। সাগর তীরবর্তী হওয়ায় প্রত্যেকটা প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানে এই পৌরশহরে। কয়েক কিলোমিটার স্থান রয়েছে বিষখালী নদীর তীরে যা প্রতিদিন ভাঙছে আর পৌরবাসীকে আতঙ্কে রাখছে। একইসঙ্গে বেড়িবাঁধের বাইরে থাকা লোকজন বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায়। তলিয়ে যায় পৌরসভার বেশ কিছু এলাকা। পৌরসভার ৫০ ভাগ রাস্তা এখনও কাঁচা রয়েছে। সাগরের কাছে হওয়ায় নেই সুপেয় পানির ব্যবস্থা তাই ১১ কিলোমিটার দূর থেকে খাবার পানি সরবরাহ করা হয় যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম। এমনকি পৌরসভার নিজস্ব ভবন না থাকায় পাবলিক লাইব্রেরিকে পৌরভবন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। পৌরবাসী এখানে এসে বসতেও পারে না। এখন পর্যন্ত ৫০ ভাগ মানুষ বিদ্যুতের সুবিধা পায়নি। নেই গাড়ি রাখার মতো নিজস্ব কোনও স্ট্যান্ড। পৌরসভার মধ্য দিয়ে বয়ে গেছে বেশ কয়েকটি খাল যাতে নেই পর্যাপ্ত ব্রিজ। ফলে প্রতিদিন সাঁকো দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হচ্ছে মানুষ।

পাঁচ বছর আগের পাকা রাস্তা এখনও রয়েছে কিন্তু পরবর্তী সময়ের পাকা রাস্তার এমন বেহাল দশা যা চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগ সরকার সারা দেশে উন্নয়ন করলেও দ্বিতীয় শ্রেণির এই পৌরসভায় আশানুরূপ উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বলে উল্লেখ করেন বর্তমান মেয়র।

উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে মেয়র বলেন, ‘আমার সময়ের পরে আর কোনও উন্নয়ন হয়নি এই পৌরসভায়। জনগণ আবারও উন্নয়নের জন্য আমাকে ভোটের মাধ্যমে মেয়র নির্বাচিত করেছে। আমি আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা দেশে যেভাবে উন্নয়ন করছেন তার ছোঁয়া পাথরঘাটা পৌরসভায়ও লাগবে। প্রথমেই পৌরভবন নির্মাণ করে পৌরবাসীর প্রাণের দাবি মেটানো হবে। সরকারের যে টাকা আসে এবং পৌরকর নিয়ে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন করা সম্ভব। তবে দ্বিতীয় শ্রেণির এই পৌরসভার তেমন কোনও উন্নয়ন না হওয়ায় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় উন্নয়ন করতে হবে। যেমনটি করেছিলাম প্রথম ও দ্বিতীয়বার পৌর চেয়ারম্যান থাকার সময়। তবে এ বছর উন্নয়ন কাজের জন্য অনেক বেশি সম্ভাবনা রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পৌরবাসীর ভোটে তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়েছি। তাই আমি আমার নির্বাচনি অঙ্গীকার অনুযায়ী পাথরঘাটা পৌরসভাকে উন্নয়নের মাধ্যমে আধুনিক পৌরসভা হিসেবে উপহার দিতে চাই। আমার পৌরসভার ৯ জন কমিশনার ও তিনজন সংরক্ষিত মহিলা কমিশনারকে সঙ্গে নিয়ে চিহ্নিত সমস্যাগুলো আলোচনা করে কাজ করবো। তবে প্রথমেই পৌরভবনের কাজে হাত দিতে চাই। পৌরভবনের জন্য জমি নির্বাচন ও ভবনের জন্য মন্ত্রণালয়ে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা জরুরি হয়ে পড়েছে। পৌরসভাকে নদীর হাত থেকে রক্ষা ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা এবং পৌরসভার প্রতিটি রাস্তা প্রসারিতসহ কাঁচা রাস্তাগুলোও পাকা করা হবে। প্রতিটি পৌরবাসীকে বিদ্যুৎ সরবরাহসহ রোড লাইন, নাগরিকদের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিতকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থসহ সব ধরনের উন্নয়ন কাজ করা হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে পৌরসভাকে ৯০ ভাগ সাজানো হবে।’

কোনও ওয়ার্ডকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে কিনা জানতে চাইলে মেয়র বলেন, ‘সব এলাকা থেকেই আমাকে ভোট দিয়েছেন। তাছাড়া আমি এখন পাথরঘাটার প্রতিনিধি। তাই কম বেশি নয়, সমানভাবে উন্নয়ন করা হবে প্রতিটি ওয়ার্ডে। আগামী ৫ বছরের মধ্যে পাথরঘাটা পৌরসভাকে প্রথম শ্রেণির পৌরসভায় উন্নীত করার চেষ্টা করা হবে। এছাড়াও বিনোদনের জন্য বঙ্গবন্ধু রিভার ভিউ পার্ক, পর্যটন কেন্দ্র, শিশুদের জন্য বিনোদনের ব্যবস্থা, খেলার জন্য নির্ধারিত স্থান নির্মাণ করা হবে।’

সরকার দলীয় মেয়র হওয়ায় দলীয় ঠিকাদারদের প্রভাবের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার হবে। কে নিজ দলের আর কে অন্য দলের তা দেখা হবে না। আমাদের দরকার সবচেয়ে ভালো কাজ আর টেন্ডারের মাধ্যমে যে কাজ পাবে তার থেকে সর্বোচ্চ কাজ আদায়ের চেষ্টা করবো। কেউ সরকারি দলের নাম ভাঙিয়ে কাজ নিয়ে খারাপ কাজ করবে তা বিগত দিনেও হতে দেইনি, এখনও হবে না। নিম্নমানের কাজ করলে সেসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক শাস্তি দেওয়া হবে। তবে শত ভাগ কাজ নিশ্চিত করার জন্য পৌরসভার টিম গঠন করা হবে।

পৌরবাসীর সঙ্গে কেমন সম্পর্ক থাকবে জানতে চাইলে আনোয়ার হোসেন বলেন, ছাত্র জীবন থেকে রাজনীতি করে আসছি। সেই সময় থেকে মানুষের সঙ্গে আমার আত্মার সম্পর্ক। আর পৌরসভার নাগরিকদের সঙ্গে সুসর্ম্পক আছে বলেই তৃতীয়বার নির্বাচিত হয়েছি। আগামী দিনে তরুণদের সঙ্গে আলাদাভাবে গভীর সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে কারণ তরুণদের সহযোগিতা নিয়েই এই পৌরসভাকে এগিয়ে নিতে হবে। সবার সুখে দুঃখে সব সময় পাশে আছি এবং পৌরসভা থেকে তাদের শতভাগ সেবা নিশ্চিত করা হবে।

মো. আনোয়ার হোসেন আকন ছাত্রলীগ থেকে রাজনীতি শুরু করেন। পরে তিনি, উপজেলা পাথরঘাটা উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তিনি ১৯৯৩ ও ২০০৪ সালে নির্বাচিত হয়ে ১০ বছর পাথরঘাটা পৌরসভার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

 

/বিটি/এসটি/

লাইভ

টপ