আদালতের নির্দেশে মামলা গ্রহণ ইয়াবার কারণে পেট কেটে হত্যা করা হয় ভুলুকে

Send
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৫:৫৬, মার্চ ০১, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:০৯, মার্চ ০১, ২০১৬

কক্সবাজারের উখিয়ার আলমগীর ভুলু হত্যার ঘটনায় অবশেষে আদালতে নির্দেশে মামলা নিলেও পলাতক আসামিরা এখনও প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে। উখিয়া থানা থেকে  গত রবিবার হত্যার শিকার ভুলুর স্ত্রী রোজিনা আকতার তার স্বামী হত্যার সুষ্ঠু বিচার ও চিহ্নিত আসামিদের গ্রেফতারের প্রতিকার চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

কক্সবাজারের উখিয়ায় নিহত বুলু

দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক আকবর আহমদ পুলিশের যোগসাজশে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এমনকি বাদীকে নিয়মিত মামলা তুলে নিতে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও উখিয়া থানার ওসি হাবিবুর রহমানের বিরুদ্ধে ওই জামায়াত নেতাকে রক্ষার মিশনে নেমেছেন বলে অভিযোগ করেছেন রোজিনা আক্তার।

রোজিনা আকতারের অভিযোগ, গত দু’মাস আগে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালী এলাকার জামায়াত নেতা আকবর আহম্মদ একই এলাকার মৃত শফিকুর রহমানের দিনমজুর ছেলে আলমগীর ভুলু (৩৮) কে টাকার প্রলোভনে ফেলে প্রতি প্যাকেটে ৪০টি করে ইয়াবার ৫০টি প্যাকেট খেতে দেন এবং তাকে ঢাকায় পাঠান। আলমগীর ভুলু পেটে করে অভিনব কৌশলে ইয়াবা চালান ঢাকায় নিয়ে এলেও তা আর পায়ুপথ দিয়ে বের হয়নি। এসময় প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব করায় ঢাকা থেকে ফিরে ইয়াবার মালিক আকবরের বরাবর শরণাপন্ন হন তিনি। আকবর আহমদ ইয়াবাগুলো বের করে নিতে জোর চেষ্টা চালিয়ে ব্যর্থ হন। এতে ভুলু অসুস্থ হয়ে পড়ায় স্থানীয়ভাবে ডা. মো. শাহজাহানের কাছে চিকিৎসাও করান তিনি। কিন্তু এতেও কোনও কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ভিটে বাড়ি বিক্রি করে চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার চেষ্টা করে ভুলুর পরিবার কিন্তু এতেও সফল হতে পারেনি তারা। এদিকে, মরণ যন্ত্রণায় এভাবে প্রায় সপ্তাহখানেক সময় কেটে যায়। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস-বিচারেও ইয়াবার মালিক আকবরের সঙ্গে বসে কোনও সুরাহা পায়নি ভুলুর পরিবার। গত ১০ ডিসেম্বর আলমগীর ভুলুকে চিকিৎসার কথা বলে ঘর থেকে বের করে নিয়ে যায়। এরপর তার আর কোনও খোঁজ পাওয়া পায়নি।

পরবর্তীতে গত ১জানুয়ারি বালুখালী জুমের ছড়া নামক গহীণ অরণ্য থেকে উখিয়া থানা পুলিশ বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে পেট কাটা অবস্থায় ভুলুর বিবস্ত্র মৃতদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে মরদেহের ময়না তদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়। এরপর বেওয়ারিশ লাশ হিসেবে মরদেহটি কক্সবাজার শহরে দাফন করা হয়।

নিহত ভুলুর স্ত্রী রোজিনার দাবি, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা তার স্বামীর পেট কেটে ইয়াবাগুলো বের করার পর দেহটি জঙ্গলে ফেলে রাখে। বিষয়টি তদন্তকালে ঘটনাস্থল থেকে ভুলুর ব্যবহৃত কাপড়, ভুলুর ছবি, বড় ছেলে আশিকুল হাসনাতের ছবি, একটি মোবাইল ও একটি ৫০ টাকার নোট উদ্ধার করে। এ ঘটনায় রোজিনা আকতার বাদী হয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট নেতা আকবর আহমদকে প্রধান আসামি করে গত ২০শে জানুয়ারি উখিয়া থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। কিন্তু থানা পুলিশ রহস্যজনক কারণে এজাহারটি নথিভুক্ত করেনি।

এমনকি আকবরের লোকজন বাড়িভিটা কেড়ে নিয়ে ভুলুর স্ত্রী ও সন্তানসহ পুরো পরিবারকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তাদের হুমকির কারণে এলাকা ছাড়া হয়ে পথে পথে দিনযাপন করছে এখন নিহত ভুলুর পুরো পরিবার।

এমন মর্মান্তিক ঘটনার পরেও এখনও বিষয়টিকে পাত্তাই দিচ্ছে না উখিয়া থানা পুলিশ। 

এ বিষয়ে উখিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাবিবুর রহমান সব অভিযোগ অস্বীকার বলেন, তিনি কোন জামায়াত নেতাকে চেনেন না। আসামিরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলে অবশ্যই তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

/টিএন/

লাইভ

টপ