Vision  ad on bangla Tribune

গোবিন্দগঞ্জে দুই ইউনিয়নে নির্বিচারে সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি২০:৪২, মার্চ ০৭, ২০১৬


গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে কাটা হচ্ছে রাস্তার গাছগাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কাটাবাড়ি ও সাপমারা ইউনিয়নে নির্বিচারে সড়কের গাছ কাটার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নীতিমালা উপেক্ষা করে ওই দুই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান গাছ কাটা অব্যাহত রেখেছেন।
কাটাবাড়ি ও সাপমারা ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রায় দশবছর আগে কাটাবাড়ি ইউনিয়নের হাউসিপাড়া থেকে সাপমারা ইউনিয়নের কোটালপুর পর্যন্ত সড়কের দেড় কি. মি. অংশে প্রায় ৫০০ ইউক্যালিপটাস জাতের গাছ লাগানো হয়। কিন্তু গাছ কাটার নীতিমালা উপেক্ষা করে দুই ইউপি চেয়ারম্যান গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে গাছ কাটা শুরু করেন। গতকাল রবিবার পর্যন্ত প্রায় ৩০০ গাছ কাটা হয়। যার মূল্য প্রায় সাত লাখ টাকা। এসব গাছের গুড়ি ট্রাক ভর্তি করে প্রতিদিন বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হচ্ছে।
গতকাল রবিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, হাউসিপাড়া-কোটালপুর সড়কের গাছ কেটে একটি ধান সিদ্ধের চাতালের পাশে স্তুপ করে রাখা হয়েছে। পাশেই দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে ছোট ট্রাকে ভড়ানো হচ্ছে। কিছু গাছ সড়কের পাশে ফেলে রাখা হয়েছে। গোটা সড়কজুড়ে কাটা গাছের নীচের অংশ তাকিয়ে আছে। হাউসিপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী মহব্বত আলী বলেন, গাছগুলো যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতো, তেমনি সড়কটির সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছিল।
একই গ্রামের কৃষক আবু বকর বলেন, কয়েকদিনে দুই ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নির্দেশে গাছ কেটে সাবাড় করা হচ্ছে। কিন্তু দেখার কেউ নেই।
গাছ কাটার নীতিমালা অনুযায়ী, এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদের মালিকানাধীন কোনও গাছ বিক্রয় করতে ইউনিয়ন পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
কাটাবাড়ি ইউপির প্যানেল চেয়ারম্যান শাহ আলম গতকাল মুঠোফোনে বলেন, আমাদের ইউনিয়নে গাছ কাটার বিষয়ে পরিষদে কোনও সিদ্ধান্ত হয়নি।
শুধু তাই নয়,এই সিন্ধান্ত অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব আকারে এ সংক্রান্ত উপজেলা কমিটি বরাবর পাঠাতে হবে। উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সদস্য সচিব সহকারী কমিশনার (ভূমি)। অন্য চার সদস্য হচ্ছেন উপজেলা প্রকৌশলী, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তার প্রতিনিধি। কিন্তু উপজেলা পরিষদের সিন্ধান্ত না নিয়েই দুই চেয়ারম্যান গাছ কেটে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল হান্নান বলেন, ওই দুইটি ইউনিয়ন পরিষদ থেকে গাছ বিক্রির অনুমতির জন্য কোনও প্রস্তাব গতকাল রবিবার পর্যন্ত পাইনি।
মুঠোফোনে কাটাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জোবায়ের হাসান দাবি করেন, ইউনিয়ন পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাছ কাটা হচ্ছে। তবে সড়কটির বেশিরভাগ অংশ পাশ্ববর্তী সাপমারা ইউনিয়নে পড়েছে। তবে সাপমারা ইউপি চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন গাছ কাটার কথা অস্বীকার করেন।
এসব বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোটালপুর গ্রামের এক ব্যবসায়ী বলেন, সাপমারা ইউনিয়নের সীমানায় পড়া সড়কে গাছও কাটা চলছে।
/জেবি/টিএন/

লাইভ

টপ