behind the news
Rehab ad on bangla tribune
 
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

সাক্ষাৎকারে দুর্গাপুরের মেয়র তোফাজ্জল হোসেনরিকশা-ভ্যানের টোল আদায় করা হবে না

রাজশাহী প্রতিনিধি১২:২১, মার্চ ১১, ২০১৬

মেয়র তোফাজ্জল হোসেন

রাজশাহীর দুর্গাপুর পৌরসভা নির্বাচনে নৌকা প্রতীকে ৭ হাজার ৯০ ভোট পেয়ে দ্বিতীয়বারের মতো মেয়র পদে নির্বাচিত হয়েছেন তোফাজ্জল হোসেন। এর আগে ১৯৯৭ সালে দুর্গাপুর উপজেলার পানানগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ২০১১ সালে পৌর মেয়র নির্বাচিত হন তিনি।১৩ বছর বয়সী এই পৌরসভায় এখনও তেমন করে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তবে এবার উন্নয়ন তো বটেই এ পৌরসভাকে ডিজিটাল মডেল পৌরসভায় রূপান্তরের স্বপ্ন দেখছেন তিনি। তার সাক্ষাৎকার নিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউন এর রাজশাহী প্রতিনিধি দুলাল আব্দুল্লাহ।

২০০২ সালে ২৫ দশমিক ৬০ বর্গ কিলোমিটার নিয়ে দুর্গাপুর পৌরসভার যাত্রা শুরু হয়। ৯টি ওয়ার্ডে প্রায় ২৮ হাজার মানুষ এই পৌরসভায় বসবাস করছে। পৌরসভায় মোট ভোটার রয়েছে ১৮ হাজার ৮৫৭ জন। তবে ১৩ বছর ধরে এই পৌরসভার যাত্রা শুরু হলেও উন্নয়নের তেমন ছোঁয়া লাগেনি। এসব নিয়ে কথা হয় পৌর মেয়রের সঙ্গে।

বাংলা ট্রিবিউন: আবারও নির্বাচিত হয়েছেন। এজন্য আপনাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। এবার আপনি পৌর এলাকা কী কী সমস্যা চিহ্নিত করেছেন?

তোফাজ্জল হোসেন: পৌর উন্নয়ন বলতে নাগরিকদের যেসব সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার কথা রয়েছে, সে অর্থে তারা এখনও ভোগ করতে পারছে না। বিগত সাড়ে চার বছরে রাস্তাঘাট, ব্রিজ কালভার্ট, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, সড়কে সোডিয়াম লাইটসহ এলাকার বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করেছি। কিন্তু এখনও অনেক সমস্যা রয়ে গেছে। পৌরসভার যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা আছে সরকারের কাছ থেকে প্রকল্প নিয়ে সেগুলো আগে বাস্তবায়ন করব।

বাংলা ট্রিবিউন : আপনি তো এর আগের মেয়াদে মেয়র ছিলেন। তখন এই সমস্যাগুলো সমাধান করতে পারেন নি কেন?

তোফাজ্জল হোসেন: দুর্গাপুর পৌরসভার প্রথম মেয়র পৌর এলাকার কোনও কাজ করেননি। আমি ২০১০ সালে মেয়র নির্বাচিত হয়ে দেখি এলাকার উন্নয়ন তো দূরের কথা এখানকার কর্মকর্তা কর্মচারীদের পর্যন্ত বেহাল অবস্থা। এমন অবস্থায় পৌরসভার দায়িত্ব নিয়ে এলাকার অনেক উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। এর পরও নির্বাচনের আগে উন্নয়নমূলক প্রায় ১০ কোটি টাকার কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। এসব কাজ শেষ হলে আরও অনেক উন্নয়নমূলক কাজ হবে বলে আশা করছি।

বাংলা ট্রিবিউন : কিভাবে এই পৌরসভাকে মডেল পৌরসভায় উন্নীত করতে চান?

তোফাজ্জল হোসেন: দুর্গাপুর পৌরসভাকে ডিজিটাল মডেল পৌরসভায় রূপান্তরে আমি প্রাণপন চেষ্টা করে চলেছি। দুর্গাপুর পৌরসভাটি তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা। পৌরসভাটি তৃতীয় শ্রেণির হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় থেকে তেমন একটা উন্নয়নমূলক প্রকল্প অনুমোদন হয় না। শুধু সরকারি বরাদ্দের দিকে না তাকিয়ে থেকে পৌরসভার উন্নয়নের জন্য বিদেশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক সহায়তাকারী সংস্থা’র সঙ্গে যোগাযোগ করে এরইমধ্যে প্রায় ২০ কোটি টাকার প্রকল্প চুক্তি করেছি। যা বাস্তবায়ন হলে দুর্গাপুর পৌরসভাকে আধুনিক ডিজিটাল পৌরসভায় রূপান্তর করা সম্ভব।

মেয়র

বাংলা ট্রিবিউন: পৌরসভাগুলোর উন্নয়নে সরকার প্রতিবছর যে বাজেট পাঠায় তার কতোটা কাজে লাগে?

তোফাজ্জল হোসেন: দুর্গাপুর পৌরসভার উন্নয়নে সরকার প্রতিবছর যে বাজেট পাঠায় তা শতভাগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করি। কিন্তু যে বাজেট সরকারিভাবে পৌর উন্নয়নের জন্য আসে তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। ফলে একবারে পৌরসভার শতভাগ উন্নয়ন করা সম্ভব হয় না।

বাংলা ট্রিবিউন: একই সড়ক নির্মাণের দুএকবছর পর বারবার ভেঙে যায় কেন?

তোফাজ্জল হোসেন: সরকারি কাজে সব সময় ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা বেশি থাকে। এজন্য উন্নয়ন প্রকল্পের এ রকম বেহাল দশা দেখা যায়। কিন্তু আমার পৌর এলাকার কাজ আমি নিজেই তদারকি করার কারণে তেমন ফাঁকি দিতে পারে না।

বাংলা ট্রিবিউন: উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজের তদারকির ক্ষেত্রে পৌর কর্তৃপক্ষ কতোটা দায়বদ্ধ থাকবে?

তোফাজ্জল হোসেন: পৌরসভার সরকারি কাজের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ শতভাগ দায়বদ্ধ। 

বাংলা ট্রিবিউন: সরকারি কাজে প্রায়ই দেখা যায়, দলের নাম ভাঙিয়ে কিছু ভুঁইফোঁড় যোগ্যতাহীন ঠিকাদার কাজ পেয়ে থাকেন। এ কারণে প্রকৃত ঠিকাদাররা কাজ করার সুযোগ পান না। এ বিষয়ে আপনি কোন পদক্ষেপ নেবেন?

তোফাজ্জল হোসেন: পৌরসভার উন্নয়ন কাজের দরপত্র নিয়ে আমাকে কোনও ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়নি। সে কারণে এ বিষয়ে আমার তেমন কিছু জানা নেই। তবে কখনো যদি এমন সমস্যা হয়, তাহলে দলের অবস্থান থেকে নয়, দায়িত্বের জায়গা থেকে কঠোর হয়ে কাজ করব।

বাংলা ট্রিবিউন : আগামীতে পৌর নাগরিকদের সঙ্গে আপনার সম্পৃক্ততা কেমন থাকবে?

তোফাজ্জল হোসেন: আগামীতে পৌর নাগরিকদের সঙ্গে আমার আরও বেশি সম্পৃক্ততা হবে বলে আশা করছি। কারণ নির্বাচনের পরও আমি পৌর এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ যদি শেষ করতে পারি এবং পৌরসভার যে নাগরিক সেবা আছে তা যদি সঠিকভাবে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে পারি তাহলে আমার সম্পৃক্ততা আরও বাড়বে।

বাংলা ট্রিবিউন: স্থানীয়ভাবে পৌর আয় বাড়ানোর জন্য কী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন ও আগামীতে কী  করতে পারবেন?

তোফাজ্জল হোসেন: পৌরসভার আয় বাড়ানোর তেমন কোনও খাত নেই। তবে এবার পৌর ট্যাক্স বাড়াতে হবে। সর্বসম্মতিক্রমে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: রিকশা-ভ্যানের টোল আদায় বন্ধে নির্বাচনের আগে আপনার প্রতিশ্রুতি ছিল। আপনি এ ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নিবেন?

তোফাজ্জল হোসেন: আমার এলাকায় রিকশা-ভ্যান থেকে আর কোনও টোল আদায় করা হবে না। কেউ আদায় করার চেষ্টা করলে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: পৌর নাগরিকদের বিনোদনের জন্য কী কী করতে চান?

তোফাজ্জল হোসেন: পৌরসভার পক্ষে নাগরিকদের বিনোদনের জন্য তেমন কিছু করার সামর্থ্য আমাদের নেই। আমরা দুর্গাপুরে একটি পার্ক করার জন্য জায়গা খুঁজছি। জমিটা পেয়ে গেলে একটা পার্ক তৈরি করবো।

 

/জেবি/টিএন/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ