কুয়াকাটাকে বিশ্বখ্যাত পৌরসভা করার অঙ্গীকার নতুন মেয়রের

পটুয়াখালী প্রতিনিধি১৭:২৪, মার্চ ১১, ২০১৬

মেয়র আব্দুল বারেক মোল্লা২০১০ সালের কুয়াকাটার লতাচাপলি ইউনিয়ন থেকে ৯টি ওয়ার্ড আলাদা করে যাত্রা শুরু করে কুয়াকাটা পৌরসভা। রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা, ভোটার বিন্যাস, সীমানা নির্ধারণ ও বর্ধিতকরণ জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে গত পাঁচ বছর প্রশাসকের অধীনে চলে এ পৌরসভা। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর এ পৌরসভায় প্রথমবারের মতো মেয়র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে মেয়র পদে নির্বাচিত হন পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল বারেক মোল্লা। সম্প্রতি একান্ত সাক্ষাতকারে বাংলা ট্রিবিউনের মুখোমুখি হয়েছেন নতুন এই মেয়র। সাক্ষাতকার নিয়েছেন রাজিব বসু।

বাংলা ট্রিবিউন: নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে আপনি কতটুকু সচেষ্ট?

বারেক মোল্লা: পরিকল্পিত ও পর্যটন নগরী গড়ে তোলা, যোগাযোগ ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন, সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, বন্যা নিয়ন্ত্রণে বেড়িবাঁধ নির্মাণসহ মানুষকে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। এগুলো বাস্তবায়নে শতভাগ সচেষ্ট থাকবো। তবে প্রয়োজনী অর্থ কতটুকু বরাদ্দ পাওয়া যাবে তার ওপর নির্ভর করবে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন।

বাংলা ট্রিবিউন: পৌরসভার উন্নয়নে আপনার পরিকল্পনা কী?

বারেক মোল্লা: রাস্তাঘাট, পুল-কালভার্ট, বিদ্যুতের খুঁটি, ড্রেনেজ পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থাপনার সঠিক তদারিকসহ পৌরবাসীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে চাই। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পৌরসভা গড়ে তুলতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: পৌরসভাগুলোর উন্নয়নে সরকারি বাজেট কি যথেষ্ট?

বারেক মোল্লা: পৌরসভার উন্নয়নে সরকার প্রতিবছর যে বাজেট বরাদ্দ করে তার শতভাগই কাজে লাগে। তবে এলাকার উন্নয়নের জন্য যথেষ্ট না।

বাংলা ট্রিবিউন: সড়ক নির্মাণের কিছুদিন পরই ভেঙে যায় কেন?

বারেক মোল্লা: নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করলে সড়ক নির্মাণের কিছুদিন পর তা ভেঙে যায়। তাছাড়া রাস্তার দু’পাশ থেকে বালি বা মাটি সরে গিয়ে রাস্তায় ভাঙন দেখা দেয়। তবে পরিকল্পিতভাবে কাজ করলে এ সমস্যা থাকবে না।

বাংলা ট্রিবিউন: নির্মাণকাজ তদারকিতে পৌর কর্তৃপক্ষ কতটা দায়বদ্ধ?

বারেক মোল্লা: এ ধরনের উন্নয়ন ও নির্মাণ কাজের মান রক্ষায় পৌর কর্তৃপক্ষ শতভাগ দায়বদ্ধ। কারণ পৌর এলাকার কাজ তো পৌর কর্তৃপক্ষই করে থাকে।

বাংলা ট্রিবিউন: টেন্ডার বিষয়ে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধে কী পদক্ষেপ নেবেন?

বারেক মোল্লা: সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে উম্মুক্ত পদ্ধতিতে টেন্ডার দিলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ মোকাবেলা করা সম্ভব। এই মন্ত্রণালয়ের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী টেন্ডার আহ্বান করা হলে কোনও সমস্যা হবে না।

বাংলা ট্রিবিউন: পৌরসভার উন্নয়নকল্পে ভবিষ্যত পরিকল্পনাগুলো কী?

বারেক মোল্লা: বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ, সামাজিক বনায়ন, পর্যটন কেন্দ্রে গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা, একশ টয়লেট ও বাথরুম নির্মাণ, বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া, রাস্তা-ঘাট নির্মাণ ও বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা করাই হবে আমার প্রধান লক্ষ্য। এছাড়া কুয়াকাটায় স্থায়ী একশটি পিকনিক স্পট গড়ে তোলা হবে।

/এসএনএইচ/এইচকে/এএইচ/

লাইভ

টপ