behind the news
IPDC  ad on bangla Tribune
 
Vision  ad on bangla Tribune

মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী কামালের স্মৃতিচারণ‘বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নস্যাৎ করা হয়’

দুলাল আবদুল্লাহ, রাজশাহী১৭:৫৭, মার্চ ২৬, ২০১৬

মোহাম্মদ আলী কামাল

মোহাম্মদ আলী কামাল। দেশের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার মহারাজপুর গ্রামে। মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তখন তার বয়স ২১ বছর। থাকতেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএম হলে। বাবা মরহুম সদর আহম্মদ মিঞা ছিলেন রাজনীতি সচেতন মানুষ। তার কাছ থেকেই পেয়েছেন যুদ্ধে যাওয়ার প্রেরণা। মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনা যাক তার নিজের মুখেই-

‘আমি মুক্তিযুদ্ধের সময়কার তিনটি পর্যায়কে খুব গুরুত্বপূর্ণ মনেকরি। ১৯৬৬ সালের ৬ দফা থেকে ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যূত্থান পর্যন্ত, ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচন ও নির্বাচন পরবর্তী প্রতিরোধ যুদ্ধ। মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয়েছিল নির্বাচনের দাবি দাওয়াকে বাস্তবায়ন করার উদ্দেশ্যে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের পর সবাই প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। যা রাজশাহীতে ১৩ তারিখ পর্যন্ত বহাল ছিল।

২৫ মার্চের ক্র্যাকডাউনের পর ২৭ মার্চ চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমরা স্বাধীনতা সংগ্রাম পরিষদ গঠন করি। এই সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে প্রতিরোধ যুদ্ধে অবতীর্ণ হই। এই সংগ্রাম পরিষদ ইপিআর, মুজাহিদ, আনসার ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য নিয়ে গঠিত হয়। এতে ৮০০ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করে। প্রথমদিকে এই সংগ্রাম পরিষদের ছাত্র নেতা ছিলাম। পরে পুরো সংগ্রাম পরিষদকেই নেতৃত্ব দিই। সংগ্রাম পরিষদ গঠন হওয়ার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আমরা সব অবাঙালিদের বের করে দিই। এরপর আমরা রাজশাহীতে পৌঁছাই। রাজশাহীর হরিপুর আমবাগানে ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিনের দলের সঙ্গে মিলিত হই। তাদের সঙ্গে যৌথভাবে রাজশাহী সেনানিবাস অবরুদ্ধ করে রাখি। রাজশাহী দখল করতে পাক হানাদারদের বড় একটি দল ভারী অস্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদে সজ্জিত হয়ে সাঁজায়ো যান নিয়ে ঢাকা থেকে রওনা দেয়। পথে বিড়ালদহে তারা প্রতিরোধের সম্মুখীন হয়। সেখানে ব্যাপক গোলাগুলির পর আমরা পিছু হটতে শুরু করি। পাক হানাদার ১৩ তারিখে রাজশাহী দখল করে নেয়। আমরা দুই ভাগ হয়ে ভারতে চলে যাই। একভাগের নেতৃত্বে ছিলাম আমি। আরেক ভাগের নেতৃত্বে ছিল ক্যাপ্টেন গিয়াসউদ্দিন। আমরা মুজিবনগর সরকার গঠিত হওয়ার পর মালদহের মহদীপুর ক্যাম্পে গিয়ে পৌঁছাই। ওখান থেকে গিয়ে শিলিগুড়ি পানিঘাটা ক্যাম্পে ২৯ দিন প্রশিক্ষণ নিই। প্রথম আমরা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি আগস্টের ১০ তারিখে ৭ নম্বর সেক্টরের শামপুর-কানসাটে। পাগলা নদীর ভারতের দিকে ছিলাম আমরা, শামপুরে ছিল পাক হানাদাররা। এরপর ১৩ আগস্ট যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি কানসাটের কলাবাড়িতে। এরপর বিভিন্ন খণ্ড যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। শিবগঞ্জে প্রতিদিন কোনও না কোনও যুদ্ধ সংঘটিত হতো। সবচেয়ে বড় যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি ১৭ নভেম্বর শিবগঞ্জের আরগাড়া গ্রামে। ওই যুদ্ধে ভারতীয় মিত্র বাহিনী বোমাবর্ষণ করে আমাদের যুদ্ধে সহযোগিতা করেছে। এরপরও অনেক খণ্ড যুদ্ধে অংশগ্রহণ করি। ১৪ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জ মুক্ত করি। ১৫ ডিসেম্বর আমি চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করি। ১৬ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জের কলেজ মাঠে খুব বড় ধরনের সভা হয় যেখানে আমি, ক্যাপ্টেন গিয়াস ও মন্টু ডাক্তার বক্তব্য দিয়েছিলাম। এরপর রাজশাহীতে আসি। অভয়া ব্রিজ ধ্বংস হওয়ায় দুইদিন সময় বেশি লাগে। রাজশাহী ডিসেম্বরের ১৮ তারিখে শত্রু মুক্ত হয়। ১৮ তারিখে আমরা মাদ্রাসা মাঠে সবাই মিলিত হই। এর দুইদিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক বিশাল সভা অনুষ্ঠিত হয়।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে পাক হানাদাররা রাজাকার-আলবদর বাহিনীর সহযোগে যে গণহত্যা চালায় তা ছিল খুবই নৃশংস, মর্মান্তিক ও হৃদয় বিদারক। তা কখনো ভোলার নয়। মুক্তিযুদ্ধের যে আকাক্ষা ছিল বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে তা নস্যাৎ করা হয়।’

 

/বিটি/টিএন/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ