behind the news
 
Vision  ad on bangla Tribune

গোপালগঞ্জের পদ্মপুকুর বধ্যভূমি একাত্তরের আরেক দীর্ঘশ্বাস

মনোজ সাহা, গোপালগঞ্জ২৩:৩৫, মার্চ ২৬, ২০১৬

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে গোপালগঞ্জের সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন (তৎকালীন সিও ডেভেলপমেন্ট অফিস) জয়বাংলা পুকুরপাড়ে পাকিস্তানি বাহিনী একটি মিনি ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন করে।

এখান থেকে প্রতিদিন পাকিস্তানি বাহিনীর সদস্যরা জেলার এক একটি এলাকায় হামলা চালিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ, হত্যাকাণ্ড, লুটপাট ও নারী নির্যাতন চালাতো। এছাড়া, আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী,  মুক্তিযোদ্ধা,তাদের সহযোগী,আত্মীয়-স্বজন ও মুক্তিকামী মানুষকে ধরে এনে চালানো হতো বর্বর নির্যাতন। তাদেরকে নির্বিচারে হত্যা করে লাশ জয়বাংলা পুকুরপাড়, মধুমতি নদী ও  ইটভাটার ক্লিমে মাটি চাপা দিয়ে রাখা হতো। ফলে এটি বধ্যভূমিতে পরিণত হয়।

পদ্মপুকুর বধ্যভূমিতে অগণিত নিহতদের একাংশের তালিকা

নারীদের নিয়ে এসে তাদের ওপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে সম্ভ্রমহানি করে নির্মমভাবে হত্যা করা হতো।

অধিনায়ক ক্যাপ্টেন ফয়েজ মোহাম্মদ ও সেলিমের নেতৃত্বে পাকিস্তানিজল্লাদরা এখানে কসাইখানা তৈরি করেছিল। পাকিস্তানি বাহিনী এখানে মুক্তিযোদ্ধা গোলাজার চৌধুরীসহ শত শত মানুষকে ধরে এনে অমানবিক নির্যাতন চালিয়ে  হত্যা করে।

এ টর্চারিং সেলে নির্যাতনে শহীদ হওয়া ৪৫ জনের  নাম জানা গেছে। তবে শহীদদের সঠিক সংখ্যা এখনো নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি।

১৯৯৫ সালে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন এ বধ্যভূমিটি সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। সেখানে স্মৃতিফলক নির্মাণ করা হয়। শহীদদের নামের আলাদা আলাদ ফলক স্থাপন করা হয়েছে।

৫ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধের শেষ লগ্নে মিত্র দেশ ভারত প্রবাসী সরকারকে স্বীকৃতি প্রদান করায় হানাদার বাহিনীর মনোবল ভেঙে পড়ে। এ দিন সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে বিভক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা গোপালগঞ্জ শহরে প্রবেশ করেন।

শহীদ গোলজার চৌধুরীর স্মৃতিফলক

চারদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধারা ঘিরে ফেলেছে এমন খবর পেয়ে পাকিস্তানি সেনারা গোপালগঞ্জের মিনি ক্যান্টনমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যান।

মেজর সেলিমের অধীনে হানাদার বাহিনীর একটি দল চলে যায় রাজধানী ঢাকায়। আর অন্য একটি দল চলে যায় ভাটিয়াপাড়ার ওয়ারলেস্ ক্যাম্পে। অবশেষে ৭ ডিসেম্বর ভোর থেকে গোপালগঞ্জের আকাশে উড়তে থাকে স্বাধীন বাংলার বিজয় পতাকা।

শহীদদের রক্ত আর বীর মুক্তিযোদ্ধারে সাহসী যুদ্ধে অবশেষে শক্রমুক্ত হয় গোপালগঞ্জ।

গোপালগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধা লুৎফর রহমান লুথু বলেন, ৭ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ মুক্ত হওয়ার পর স্বজনদের খোঁজে মুক্তিকামী মানুষ ক্যান্টনমেন্টে যান। সেখানে ইটের স্তুপে, সামনের খোলা জায়গায় অসংখ্য মানুষের মাথার খুলি, হাড় ও নারীদের মাথার চুল দেখতে পেয়ে স্বজন হারানোর বেদনায় তারা আপ্লুত হয়ে পড়েন।  

বধ্যভূমিলগ্ন জয় বাংলা পুকুর

ক্যাম্প অধিনায়ক ক্যাপ্টেন ফয়েজ মোহাম্মদ ও সেলিমের কক্ষে মহিলাদের হাতের চুড়ি, শাঁখা,গলার চেইন, শাড়ি, ব্লাউজ পড়ে ছিল। ক্যাম্পের পাশ দিয়ে প্রবাহিত মধুমতি নদীতে  জেলেদের জালে দীর্ঘদিন মানুষের মাথার খুলি ও কংকাল জড়িয়ে পড়তো। বধ্যভূমির শহীদের সঠিক সংখ্যা আজও নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি।

 

/এমএসএম/এইচকে/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ