behind the news
Rehab ad on bangla tribune
 
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

স্বাধীনতার ৪৫ বছরেও অরক্ষিত নরসিংদীর বধ্যভূমিগুলো

আসাদুজ্জামান রিপন, নরসিংদী১৬:৫৭, মার্চ ২৭, ২০১৬

নরসিংদীর পাঁচদোনা বধ্যভূমি। সংরক্ষণ তো হয়ইনি ভিত্তি প্রস্তর ফলকটিও পড়ে আছে অবহেলায়১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের কথা মনে করে এখনও আতকে ওঠে নরসিংদীবাসী। জেলাজুড়ে স্বাক্ষী হয়ে রয়েছে বধ্যভূমিগুলো। স্বাধীনতার ৪৫ বছর অতিবাহিত হলেও অযত্নঅবহেলায় অসংরক্ষিত অবস্থায় বধ্যভূমিগুলোর শেষ চিহ্নটুকু মুছে যাচ্ছে।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ সূত্রে জানা গেছে,  ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদী সদর উপজেলার পাঁচদোনা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকা, শীলমান্দী মাছিমপুর বিল, খাটেহারা ব্রিজ, শিবপুরে ঘাসিরদিয়া, বেলাবর আড়িয়াল খাঁ নদীর পাশে বড়িবাড়ি, রায়পুরার মেথিকান্দা রেল স্টেশনের পার্শ্ববতীস্থান ও মনোহরদী উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মুক্তিযোদ্ধা ও এলাকাবাসীকে ধরে এনে নির্বিচারে হত্যা করে লাশ ফেলে রেখেছিল পাকিস্তানি সেনারা।

এর মধ্যে এলাকাবাসী ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্যোগে চিহ্নিত জেলার ৩টি বধ্যভূমি হলো, বেলাবর বড়িবাড়ি, রায়পুরার মেথিকান্দা ও নরসিংদী সদরের পাঁচদোনা। এসব বধ্যভূমির প্রায় সবগুলোই অরক্ষিত রয়েছে।

নরসিংদীর রায়পুরা বধ্যভূমি

বেলাবর বধ্যভূমি

১৪ জুলাই দিনটিতে বেলাবর বড়িবাড়ি এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, ওইদিন পাঁচ জন মুক্তিযোদ্ধাসহ বেলাব ও তার পাশ্ববর্তী এলাকার ৬৮ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে নির্বিচারে হত্যা করেছিল পাকিস্তান বাহিনী। নিরীহ গ্রামবাসীকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে হত্যা করে তাদের লাশ ফেলে দেওয়া হতো আড়িয়াল খাঁ নদীতে। এরকম অনেক লাশ নদী থেকে উঠিয়ে আড়িয়াল খাঁ নদীর তীরে বড়িবাড়িতে একসঙ্গে মাটিচাপা দেওয়া হয়। এ স্থানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করা হলেও অযত্নআর অবহেলায় স্মৃতিসৌধটির এখন বেহাল অবস্থা। গরু,ছাগল,কুকুরসহ বিভিন্ন প্রাণীর অবাধ বিচরণ দেখা যায় স্মৃতিসৌধ বেদীতে। ভেঙে গেছে স্মৃতিসৌধের অনেকাংশ। এই এলাকার যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী সুবেদার বাশারের লাশটি এলাকাবাসীর উদ্যোগে সমাহিত করা হলেও তাও ঝোঁপ ঝাড়ের মধ্যে অযত্নেপড়ে আছে।

মনোহরদী বধ্যভূমি

মনোহরদী উপজেলার পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ছিল ১৯৭১ সালে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর ক্যাম্প। পাকিস্তানি বাহিনী নিরীহ শত শত মানুষকে ধরে এনে নির্যাতনের পর হত্যা করতো পাশেই ব্র‏হ্ম‏পুত্র নদী তীরের বর্তমানে বিদ্যালয় সংলগ্ন স্থানে। লাশগুলো ফেলা হতো ব্র‏হ্মপুত্র নদীতে কিংবা নদীর তীরে মাটিচাপা দেওয়া হতো। এই জায়গাটিও সরকারিভাবে চিহ্নিত করা হয়নি। দুঃখজনক হলেও সত্য বধ্যভূমির সেই জায়গাটির ওপরে তৈরি করা হয়েছে স্কুলের টয়লেট।

রায়পুরার মেথিকান্দা

রায়পুরার মেথিকান্দা রেল স্টেশনের সংলগ্ন রেল লাইনের পাশের স্থানটিতে ১৯৭১ সালে পাকিস্তান বাহিনী নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছিলো। পার্শ্ববর্তী বর্তমান উপজেলা পরিষদের টর্চার সেলে নির্যাতনের পর হত্যা করা হয় পাঁচ মুক্তিযোদ্ধাসহ প্রায় ৩০ জন নিরীহ মানুষকে। তাদের ওই স্থানেই মাটিচাপা দেওয়া হয়। প্রতি বছর এখানে শহীদদের স্মরণে জড়ো হন মুক্তিযোদ্ধারা। তবে এখনও সেখানে নেই কোনও স্মৃতিস্তম্ভ। বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান, সেক্টর কমান্ডার বীর উত্তম নূরুজ্জামান, বীর বিক্রম খন্দকার মতিউর, বীর বিক্রম শাহাবুদ্দিন ও বীর প্রতিক মোবারক হোসেনসহ অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধার জন্মভূমি রায়পুরা।

পাঁচদোনা বধ্যভূমি, সংরক্ষণ হয়নি তাই পড়ে আছে অযত্ন অবহেলায়

নরসিংদীর পাঁচদোনা লোহাপুল বধ্যভূমি

নরসিংদীর সদর উপজেলার একমাত্র বধ্যভূমি পাঁচদোনার লোহারপুল। মুক্তিযুদ্ধের সময় জেলা সদরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ২৭ থেকে ২৮ জনকে ধরে নিয়ে পাকিস্তান সেনাদের ক্যাম্প নরসিংদীর টেলিফোন এক্সচেঞ্জে আটকে রাখা হয়। নির্যাতন শেষে তাদের নিয়ে যাওয়া হয় বর্তমান ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচদোনা মোড় সংলগ্ন লোহারপুলের নিচে। সেখানে ৪ থেকে ৫ জনকে বসিয়ে রেখে তাদের সামনে ২০ থেকে ২২ জনকে গুলি করে হত্যা করে পাকিস্তানি সেনারা। হত্যার পর সেখানেই মাটিচাপা দেওয়া হয় তাদের। তবে স্থানটিকে স্মরণীয় করে রাখতে আজও সরকারি বা বেসরকারি কোনও উদ্যোগে গ্রহণ করা হয়নি। একটি স্মৃতিফলক থাকলেও তা ভেঙে পড়েছে।

১৯৭১ সালের ১২ ডিসেম্বর পাকিস্তান বাহিনীর পরাজয় ও আত্মসমর্পণের মধ্য দিয়ে নরসিংদী পাকিস্তান হানাদার মুক্ত হয়েছিল।

৭১ সালে দীর্ঘ ৯ মাস নরসিংদী জেলার বিভিন্ন স্থানে শতাধিক খণ্ড যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। ওই খণ্ড যুদ্ধে পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর নির্মমতার শিকার হয়ে শহীদ হন ১১৬ জন বীর সন্তান। এর মধ্যে ছিলেন নরসিংদী সদরের ২৭, মনোহরদীর ১২, পলাশে ১১, শিবপুরের ১৩,রায়পুরায় ৩৭ ও বেলাব উপজেলার ১৬ জন। এছাড়া বহু মা-বোনের আত্মত্যাগের বিনিময়ে নরসিংদী হানাদার মুক্ত হয়।

এ জেলায় মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সমুন্নত রাখতে স্বাধীনতার ৩৪ বছর পর ২০০৫ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিফলক নির্মিত হয়। তবে নরসিংদী শহরের প্রধান প্রধান সড়কগুলো শহীদদের নামে নামকরণ করার কথা থাকলেও তা  আজও বাস্তবায়িত হয়নি।

/এনএস/টিএন/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ