পরিবারের দাবি হত্যা, থানায় দায়ের আত্মহত্যার মামলা নয় মাস পরিবার বিচ্ছিন্ন রুনার লাশ পাওয়া গেল ঢাকায়

Send
ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:১২, মার্চ ৩০, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:১৭, মার্চ ৩০, ২০১৬

ঢাকার আশুলিয়ার কাইচাবাড়ি এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে গত রবিবার (২৭ মার্চ) রাতে রুনা আক্তারের (১৫) ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

রুনার পরিবারের দাবি, ৯ মাস আগে তাকে অপহরণ করা হয়। তবে তারা এ ঘটনায় স্থানীয় থানায় কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি। এদিকে রুনাকে হত্যার অভিযোগে ‘কথিত অপহরণকারী’ আহাদকে (২৫) পুলিশ গ্রেফতার করে জেল হাজতে পাঠিয়েছে।

লাশ উদ্ধাররুনার বাড়ি ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের মিয়াপাড়া গ্রামে। তার বাবার নাম সাহেবালী মোল্লা।
নিহতের পারিবারের দাবি, ভাঙ্গার আজিমনগর ইউনিয়নের জাঙ্গালপাসা হাজী আব্দুল মজিদ একাডেমির নবম শ্রেণির ছাত্রী রুনাকে ৯ মাস আগে অপহরণ করা হয়। অনেক খোঁজাখুঁজির পর তারা জানতে পারেন কর্নিকান্দা গ্রামের মামুন হাওলাদারের ছেলে আহাদ হাওলাদার (২৫) রুনাকে অপহরণ করে ঢাকায় নিয়ে গেছে। আহাদ এলাকার বখাটে ও মোবাইল প্রতারণা চক্র ওয়েলকাম পার্টির সদস্য হিসেবে পরিচিত।
রুনার বাবা সাহেব আলী বলেন, ‘লোকলজ্জার ভয়ে আমরা এই ঘটনা নিয়ে থানা পুলিশ না করে ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় খুঁজতে থাকি। কয়েকমাস পর আমাদের বাড়ির মোবাইলে একটি অচেনা নম্বর থেকে ফোন করে মেয়ে কয়েকটি কথা বলে। এরপর ওই নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। এভাবে কয়েকবার ভিন্ন ভিন্ন নম্বর থেকে ফোন আসে। আমরা মেয়ের সঙ্গে ভালোভাবে কথাও বলতে পারি নাই । শুধু বুঝতে পারি আমার মেয়ে বেঁচে আছে। এরপর গত রবিবার দুপুরে একটি অচেনা মোবাইল থেকে ফোন করে রুনা তার মাকে বলে,‘ মা আমি ভালো নেই, আমাকে বাঁচাও।’ ফোন বলার সময়ই মনে হলো কেউ রুনার কাছ থেকে ফোনটি কেড়ে নিয়েছে। রবিবার রাতে আহাদের কথিত এক খালু ফোন করে আমাদের মোবাইলে জানায় রুনার অবস্থা ভালো না। ঢাকার আশুলিয়া এলাকার একটি হাসপাতালে সে ভর্তি আছে।’
তার কথামতো রুনার পরিবারের লোকজন আশুলিয়ায় গিয়ে জানতে পারে রুনার লাশ আশুলিয়া থানায় রয়েছে। সোমবার সকালে ময়নাতদন্ত শেষে রুনার লাশ বাড়িতে নেওয়া হয়।

নিহতের মা তাসলিমা বেগম বলেন, ‘বখাটে আহাদ আমার মেয়েকে অপহরণ করে আটকে রেখে নির্যাতন করেছে। ঢাকার ওই ভাড়া বাসায় আহাদ তার বাবা মা ও আমার মেয়েকে নিয়ে থাকত। আমার মেয়েকে তারা নির্যাতন করে মেরে ফেলেছে।আমার মেয়েকে হত্যা করে আহাদের পরিবারের লোকজন ওই বাসা ছেড়ে পালিয়ে গেছে।’

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার এসআই কামরুল ইসলাম মোবাইল ফোনে জানান, একটি মেয়ে আত্মহত্যা করেছে এই খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি ঘরের ভেতর থেকে রুনার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় রুনার স্বামী পরিচয়কারী আহাদ পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক অবস্থায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রুজু করে লাশের ময়নাতদন্ত করে পরিবারের লোকজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর রুনার মৃত্যুর রহস্য উৎঘাটিত হলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

/এসটি/টিএন/

লাইভ

টপ