behind the news
 
Vision  ad on bangla Tribune

গুলি বোমাবাজি আর সহিংসতার মধ্য দিয়ে যশোরে ইউপি নির্বাচন চলছে

তৌহিদ জামান, যশোর১৫:৫০, মার্চ ৩১, ২০১৬

বৃহস্পতিবার গুলি-বোমাবাজিতে একজন নিহত, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্য প্রার্থীসহ ৫ জন আহত এবং ৬টি ভোটকেন্দ্র স্থগিত ও নির্বাচনে দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের আটকের মাধ্যমে যশোরে চলছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। এদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ একজনকে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এর আগে বুধবার রাতে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তার করার উদ্দেশ্যে বোমা বানাতে গিয়ে আরও দুই যুবক নিহত হন।

যশোরে একটি ভোটকেন্দ্রে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন এক ফেরিওয়ালা (ভ্যোনে শায়িত)

ফেরিওয়ালা নিহত

যশোর সদরের চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া স্কুল কেন্দ্রে নির্বাচন চলাকালে পুলিশ-সন্ত্রাসী সংঘর্ষে আবদুস সাত্তার বিশে (৬৫) নামে এক ফেরিওয়ালা নিহত হয়েছেন। তার কপালে গুলি ও শরীরের নানা স্থানে বোমার স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।

বেলা ১১টার দিকে মেম্বার প্রার্থী বিল্লালের সমর্থক সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে ভাতুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢোকে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ফেরিওয়ালা আবদুস সাত্তার বিশে এর মাথায় এক রাউন্ড গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতও রয়েছে।

গুলিবিদ্ধ বিশেকে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ বেলা সোয়া ১১টায় যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আনে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই বিশের মৃত্যু হয়েছে। কপালে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণেই তিনি মারা যান বলে জানান চিকিৎসক।

জেলার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দশ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

ধানের শীষের প্রার্থী ও তার ছেলেকে মারধর

সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপশহর ইউনিয়নের এফ ব্লকের শহীদ স্মরণী স্কুল কেন্দ্রে ধানের শীষের প্রার্থী রেজাউল ইসলাম কামাল ও তার ছেলে মেহরাব ইসলামকে মারধর করা হয়। নৌকা মার্কার প্রার্থী এহসানুর রহমান লিটুর সমর্থকরা তাদের ওপর হামলা চালায়।

ভোটগ্রহণের সময় বিএনপি প্রার্থীর ছেলের ওপরে হামলা চালানো হয়

রেজাউল ইসলাম জানান, তারা ভোটকেন্দ্র থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিন-চারজন তাদের দিকে ধারালো অস্ত্র নিয়ে দাওয়া করে। এ সময় ঠেকাতে গেলে তারা বাবা ও ছেলের ওপর হামলা চালায়। এতে মেহরাবের মুখের কয়েক জায়গায় ক্ষত হয়ে যায়। তবে, নৌকার প্রার্থী লিটু দাবি করেন,‘তারা নৌকার (প্রার্থীর সমর্থক) কেউ নয়। অতি উৎসাহী কেউ এই ধরনের হামলা করেছে।’ তিনি দবি করেন, কামাল ভাই ও আমি একসঙ্গে সহাবস্থানে থেকে নির্বাচন করছি।

যুবলীগকর্মী গুলিবিদ্ধ

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নওয়াপাড়া ইউনিয়নের আড়পাড়া স্কুল কেন্দ্রের বাইরে দু’পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার সময় গুলিতে হাসান (৩০) নামে যুবলীগের এক কর্মী আহত হয়েছেন। তার পেট ও পিঠে তিনটি গুলিবিদ্ধ হয় বলে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান।

আহত হাসান যশোর সদরের শাহাপুর এলাকার হারেজ আলীর ছেলে।

সদস্য প্রার্থীকে মারধর

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের চুড়ামনকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রতিপক্ষ ইউপি সদস্যদের হামলায় অপর প্রার্থী শুকুর আলী বিশ্বাস (৪০) আহত হয়েছেন। তাকে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল  ভর্তি করা হয়। তার মাথা ফেটে যায়।

আহত শুকুর জানান, ভোটকেন্দ্রে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ ইউপি সদস্য প্রার্থী মোফাজ্জেল ও আনিস তাকে মারধর করে।

৬টি ভোটকেন্দ্র স্থগিত

যশোর সদরের চারটি ইউনিয়নের ৬টি ভোটকেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে। ব্যালট পেপার ছিনিয়ে নিয়ে তাতে সিল মারা, সিলমারা যুক্ত ব্যালট পেপার জব্দ একং ভোটকেন্দ্রে বোমাবাজি ও গুলিতে একজন নিহত হওয়ার কারণে এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। এ সময় দু’জন প্রিজাইডিং অফিসার, দু’জন সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারসহ ৫ জন আটক হন।

বন্ধ হওয়া ভোট কেন্দ্রগুলো হচ্ছে চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কাশিমপুর ইউনিয়নের বিজয়নগর প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র, উপশহর ইউনিয়নের ই ব্লক শহীদ স্মরণী প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চাঁচড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও গোয়ালদহ প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র।

আটককৃতরা হলেন চুড়ামনকাটি স্কুল কেন্দ্রের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার শেখ আব্দুল্লাহ বিন আকবর, বিজয়নগর স্কুল কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রফিকুল ইসলাম ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ইশরাত জাহান এবং চাঁচড়া ইউনিয়নের গোয়ালদহ প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রবিউল ইসলাম। এই সময় জোর করে ভোট দেওয়ার অভিযোগে আটক হন মহিদুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সোহেল হাসান, সদর ইউএনও কামরুল আরিফ এবং সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসাররা এসব তথ্য জানান। 

উল্লেখ্য, যশোর সদর উপজেলার ১৫ ইউনিয়নে ৩৪জন চেয়ারম্যান প্রার্থী ও ৪৪৬জন ইউপি সদস্য ও ১২৪ জন মহিলা ইউপি সদস্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্য থেকে জনপ্রতিনিধি নির্বাচনে ১৬২ কেন্দ্রে মোট ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৮৫২জন ভোটার ভোট দিবেন।

/টিএন/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ