behind the news
Rehab ad on bangla tribune
 
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা: বিক্ষিপ্ত সহিংসতায় ছয় জেলায় নিহত ৮

বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক১৮:৩০, মার্চ ৩১, ২০১৬

বিক্ষিপ্ত সহিংসতা ও অনিয়মের মধ্য দিয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় সম্পন্ন হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় পর্যায়ের ভোট গ্রহণ। এরইমধ্যে নির্বাচনি কেন্দ্রগুলোতে শুরু হয়েছে ভোট গণনার কাজ।

দিনাজপুর ভোট গণনার একটি দৃশ্য

এদিকে, এ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ কালেই চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ, জামালপুরের মেলান্দহ, যশোর সদর, ঢাকার কেরানীগঞ্জ, মানিকগঞ্জের দৌলতদিয়ায় নারী ও শিশুসহ মোট ৮ ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের চর বাউড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রেই আওয়ামী লীগ মনোনীত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষে তিন জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া উল্লিখিত অন্য জেলাগুলোতে একজন করে নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে, ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে ভোট ডাকাতির অভিযোগ এনে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড ও মিরসরাই উপজেলার সবগুলো কেন্দ্রে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে বিএনপি। দেশের আরও বেশ কিছু ইউনিয়নে একই ধরনের ঘোষণা দিয়ে এসব ইউনিয়নে ভোট বাতিল ও নতুন করে ভোট গ্রহণে নির্বাচন কমিশনের প্রতি দাবি জানিয়েছে দলটি।

তবে দিনের শুরুতে সব ভোট কেন্দ্রেই ভোটারদের মধ্যে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। বেশিরভাগ কেন্দ্রে নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।  

আমাদের চট্টগ্রাম ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার বাউরিয়া ইউনিয়নে ভোটকেন্দ্র দখলের লড়াইয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন পুলিশের এক কনস্টেবলসহ অন্তত আরও দশজন যাদের পাঁচজনই হয়েছেন গুলিবিদ্ধ। দ্বিতীয় দফার ইউপি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে দুপুরের দিকে চর বাউরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সন্দ্বীপের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ওবায়দুর রহমান।

নিহতরা হলেন সানাউল্লাহ, ইব্রাহিম ও জামাল। ‍নিহতরা বাউরিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী জালাল উদ্দীন ও একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থী জিল্লুর রহমানের সমর্থক।

আহতদের সংকটজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

ইউপি নির্বাচনের প্রথম পর্যায়ে ভোটগ্রহণকালে বড় ধরনের সহিংসতা না ঘটলেও ভোটগণনাকালে ৯ জন নিহত হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে রাতে এ সহিংসতা আরও বাড়তে পারে।

যশোর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সদর উপজেলার চাঁচড়া ইউনিয়নের ভাতুড়িয়া স্কুল কেন্দ্রে নির্বাচন চলাকালে পুলিশ-সন্ত্রাসী সংঘর্ষে আবদুস সাত্তার বিশে (৬৫) নামে এক ফেরিওয়ালা নিহত হয়েছেন। তার কপালে গুলি ও শরীরের নানা স্থানে বোমার স্প্লিন্টার বিদ্ধ হয়।

বেলা ১১টার দিকে মেম্বার প্রার্থী বিল্লালের সমর্থক সন্ত্রাসীরা গুলিবর্ষণ ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে ঘটাতে ভাতুড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ঢোকে। এ সময় পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় ফেরিওয়ালা আবদুস সাত্তার বিশে এর মাথায় এক রাউন্ড গুলিবিদ্ধ হয়। এছাড়া তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে বোমার স্প্লিন্টারের আঘাতও রয়েছে।

নির্বাচনি সহিংসতার শিকারদের একজন

গুলিবিদ্ধ বিশেকে স্থানীয় জনতা ও পুলিশ বেলা সোয়া ১১টায় যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে আনে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, হাসপাতালে আনার আগেই বিশের মৃত্যু হয়েছে। কপালে গুলিবিদ্ধ হওয়ার কারণেই তিনি মারা যান বলে জানান চিকিৎসক।

জেলার পুলিশ সুপার আনিসুর রহমান জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ দশ রাউন্ড গুলি ছোড়ে।

আমাদের নিজস্ব প্রতিবেদক জানিয়েছেন, ইউপি নির্বাচনে ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের গোলাগুলির মধ্যে পড়ে ১০ বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে। নিহত শিশুটির নাম শুভ ঘোষ।  তার বিস্তারিত পরিচয় জানা যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হযরতপুর ইউনিয়নের মধুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে বলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল বাশার মো. ফখরুজ্জামান জানিয়েছেন।  
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান,নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দুই পক্ষের গোলাগুলির মাঝখানে পড়ে শিশুটি মারা যায়।

হযরতপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের প্রার্থী আয়নাল হোসেন, বিএনপির প্রার্থী নুরুল হক রিপন।
জানা গেছে,কেন্দ্রের বাইরে দুই পক্ষের সমর্থকদের গুলিতে শিশুটি আহত হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়।

জামালপুর প্রতিনিধি জানান, ব্যাপক সহিংসতার মধ্য দিয়ে জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার ইউপি নির্বাচন শেষ হয়েছে। এ সময় ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ইট-পাটকেল নিক্ষেপ, সংঘর্ষ ও গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। নিহতের নাম রফিকুল ইসলাম (৫০)।

মেলান্দহ উপজেলার শ্যামপুর ইউনিয়নের উত্তর বালুরচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর প্রার্থী মর্জিনা বেগম (মাইক প্রতীক) এর সমর্থকদের সঙ্গে মেম্বার প্রার্থী ওয়াহেদ আলী ( টিউব ওয়েল প্রতীক) এর সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় প্রতিপক্ষের  নিক্ষেপ করা ইটের আঘাতে রফিকুল ইসলাম মারা যান।

তবে মেলান্দহ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাসিমুল ইসলাম দাবি করেছেন, রফিকুল ইসলাম হার্ট অ্যাটাকে মারা গেছেন।

নয়া নগর ইউনিয়নের মামা-ভাগিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান  প্রার্থী শফিউল আলমের সমর্থকরা ব্যালট পেপার ছিনতাই করে ছিল মারার চেষ্টা করলে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী এমদাদুল হকের সমর্থকরা তাতে বাধা দেয়।এ সময় তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। সংঘর্ষ থামাতে পুলিশ ৬ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে । পরে কেন্দ্রটির নির্বাচন বন্ধ রাখা হয়। এই ইউনিয়নের মালঞ্চ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থকরা ব্যালট পেপার ছিনতাই করতে গেলে প্রতিপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। এ সময় সেলিম (৩০) নামে এক যুবক আহত হন। পরে পুলিশ ৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে । অন্যদিকে আদ্রা ইউনিয়নের আব্দুল মান্নান উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে দুজন মেম্বর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধলে পুলিশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালায়। পরে কেন্দ্রটিতে ভোটগ্রহণ স্থগিত করে দেওয়া হয়।

নীলফামারীতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি

এ ব্যাপারে মেলান্দহ উপজেলার ইউএনও জন কেনেডি জাম্বিল কেন্দ্র দুটি বন্ধ করার সত্যতা স্বীকার করেন।

অপরদিকে নির্বাচনে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট কারচুপির অভিযোগ এনে বিএনপির তিন চেয়ারম্যান প্রার্থী আদ্রা ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর আলম, মাহমুদপুর ইউনিয়নের নূরে আলম তালুকদার রুনু এবং নাংলা ইউনিয়নের নূরল হক জঙ্গী নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেন। মেলান্দহে মোট ১০টি ইউনিয়নে নির্বাচন হয়েছে। অপর ১টি ইউনিয়নের নির্বাচন মামলার কারণে স্থগিত রয়েছে।

অপর দিকে জামালপুর সদর উপজেলার ১৫ টি ইউনিয়নের নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে । এসব ইউনিয়নে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি জানান,, মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নে ‘ভোট না দেওয়ায়’ এক নারীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে। নিহত নারীর নাম নমেসা বেগম(৫৫)। ইউনিয়নের সদস্য প্রার্থী তোতা  দলবল নিয়ে হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। দৌলতপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল নিশাত বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

মাদারীপুর প্রতিনিধি জানান, সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট সংঘর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক ছাত্র নিহত হয়েছেন। নিহত সুজন মৃধা (২২) মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র। তিনি বেসরকারিভাবে ইউপি বিজয়ী সদস্য প্রার্থী মোতালেব মৃধার নাতি। মাদারীপুর পুলিশ সুপার সরোয়ার হোসেন  বাংলা ট্রিবিউনকে সুজন মৃধার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। নিহতের পরিবারের অভিযোগ পুলিশের গুলিতে সুজনের মৃত্যু হয়েছে।



/টিএন/এইচকে/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ