behind the news
Rehab ad on bangla tribune
 
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

কক্সবাজারে তিন মাসে ২৫ খুন: পুলিশের নজরদারি অপ্রতুল

আবদুল আজিজ, কক্সবাজার১৯:০৩, এপ্রিল ০১, ২০১৬

কক্সবাজারনতুন বছরের তিন মাসে কক্সবাজারে অপরাধ প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলছে। এ কারণে জেলার কয়েকটি থানায় ভেঙে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। খুন, ছিনতাই, অপহরণ, ডাকাতি, গুলিবর্ষণ, বন্দুকযুদ্ধ ও ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় নতুন বছরে বাড়ছে অপরাধ কর্মকাণ্ড। পুলিশের নজরদারি অপ্রতুলতার কারণে এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে জানিয়েছে স্থানীয়রা। অবশ্য পুলিশ বলছেন- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শুধু গত মার্চ মাসে জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১০ জন খুন হয়েছে।
জানা গেছে, গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বের দিকে কক্সবাজার জেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা অবনতির দিকে যাচ্ছে। গত তিন মাসে কক্সবাজার শহর, রামু, চকরিয়া, পেকুয়া, কুতুবদিয়া, মহেশখালী, উখিয়া ও টেকনাফে ২৫টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে শুধু মার্চ মাসে খুন হয়েছে ১০ জন। রাজনৈতিক বিরোধ, আধিপত্য বিস্তার, মুক্তিপণে বাধা, জমি বিরোধ ও পূর্ব শক্রতা এবং নির্বাচনি সহিংসতাসহ বিভিন্ন কারণে এসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে আত্মহত্যা, রহস্যজনক হত্যা ও লাশ উদ্ধারের ঘটনাও রয়েছে। চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, অপহরণ, ফাঁকা গুলিবর্ষণ, বন্দুকযুদ্ধ ও ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড রয়েছে কয়েকটি থানায়। জেলার থানাগুলোর কয়েকটি ঘটনার বিবরণ এরকম-

 

কক্সবাজার সদর: সবচেয়ে বেশি ঘটনা ঘটেছে কক্সবাজার সদর থানায় জেলায়। গত ১৯ জানুয়ারি গভীর রাতে পিএমখালী তোতকখালী এলাকায় আওয়ামী লীগ নেতা নুর উদ্দিন জাসেদকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছিল। ১৬ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কক্সবাজার কলাতলী এলাকার আলোচিত ভূমিদস্যু ইলিয়াছ সওদাগরকে প্রকাশ্যে কুপিয়েছে দুর্বৃত্তরা। ১৪ জানুয়ারি খুরুস্কুল তেতৈয়া ডেইল পাড়া এলাকায় আব্দু শুক্কুর নামে এক ব্যবসায়ীকে মারধর করে ৬০ হাজার টাকার লুট করে দুর্বৃত্তরা। ১২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কক্সবাজার শহরের রুমালিয়ারছড়া এলাকায় ইয়াবার টাকা ভাগবাটোয়ারা নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে পথচারী, মহিলা ও সন্ত্রাসীসহ তিনজন জখম হন। অন্যদিকে ১৭ জানুয়ারি কক্সবাজার শহরের বিডিআর ক্যাম্প এলাকায় ধর্মাংকুর বৌদ্ধবিহার থেকে ছোট বড় ২৩টি মূর্তি চুরি হয়। এছাড়া গত ১৩ ফেব্রুয়ারি চৌফলদন্ডীতে জামাইয়ের ছুরিকাঘাতে শ্বশুর নিহত হয়। ১৭ ফেব্রুয়ারি শহরের বাজারঘাটায় দোকান কর্মচারীকে হত্যা, ১৮ ফেব্রুয়ারি শহরের ঘোনারপাড়ায় সংখ্যালঘু পরিবারের ওপর হামলা, ২৩ ফেব্রুয়ারি হোটেলে তরুণী ধর্ষণ, ২১ ফেব্রুয়ারি তারকামানের হোটেল কক্সটুডে-তে পর্যটক তরুণীর রহস্যজনক লাশ উদ্ধার, একইদিন পর্যটকের একটি মাইক্রোবাসে চুরির ঘটনা ঘটে। ২৯ ফেব্রুয়ারি হোটেল সী-হ্যাভেন হোমে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকা শাহরিয়ার হৃদয় নামের এক বৃদ্ধের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সর্বশেষ, ২৯ মার্চ কক্সবাজার সদর উপজেলায় চৌফলদন্ডীতে যৌতুকের দাবিতে নববধূ হাসিনাকে খুন করে স্বামী ইয়াসিন আরাফাত।

এসব বিষয় নিয়ে সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম হোসেন বলেন, কক্সবাজার সদরে যেসব হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে তাকে আমি হত্যাকাণ্ড বলি না। কারণ এসব হত্যাকাণ্ডে এখনো ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে দাবি করে তিনি আরও বলেন, পৃথিবী যে দিন থেকে শুরু হয়েছে এরপর থেকে কম-বেশি ঘটনা ঘটছে। এতে কারও কিছু করার থাকে না। এসব ঘটনা তো ধীরে ধীরে মোকাবেলা করতে হয়, তাই না?

চকরিয়া উপজেলা: গত দুই মাসে চকরিয়া উপজেলার উল্লেখযোগ্য ঘটনা হচ্ছে। ৩০ জানুয়ারি গৃহবধূকে হত্যা করেছে স্বামী। একইদিন এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ, ৫ ফেব্রুয়ারি চকরিয়া বরইতলী বাজারে রিয়াজ উদ্দিন (১০) নামে এক দোকানের কর্মচারীকে মারধর ও অণ্ডকোষ চেপে হত্যা করা হয়। উদ্ধার করা হয় মাদ্রাসাছাত্রীসহ ২ জনের লাশ। ৬ ফেব্রুয়ারি চকরিয়া কলেজের এক ছাত্রীকে অপহরণ করা হয়। এছাড়া ৭ ফেব্রুয়ারি বখাটেদের হামলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী লাঞ্চিত হওয়ায় ঘটনায় বিক্ষোভ, ৮ ফেব্রুয়ারি ৩ জনকে আহত করে ৬ লাখ টাকার মালামাল লুট, ১২ ফেব্রুয়ারি তরুণীর আত্মহত্যা, একইদিন ৩ বাড়িতে ডাকাতির সময় মহিলাসহ ৩ জন আহত হয়। ১৩ ফেব্রুয়ারি যুবতির আত্মহত্যা, একইদিন চকরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতিকে ধাক্কা দেওয়ার ঘটনায় মহাসড়কে ব্যারিকেড দিয়ে ১০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। ১৪ ফেব্রুয়ারি চকরিয়ায় দেড় লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি চকরিয়া কলেজ অধ্যক্ষের কক্ষে হামলা চালিয়ে অফিসের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রা লুট করে দুর্বৃত্তরা।

এদিকে গত ১১ জানুয়ারি চকরিয়া কৈয়ারবিল মুহুরী পাড়া এলাকায় জমির বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে মহিলাসহ আহত হন সাতজন। ১০ জানুয়ারি চকরিয় কাকারা এলাকায় নুরুল আলমের বসতবাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এসময় নগদ দেড় লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সর্বশেষ, চকরিয়া উপজেলার বরইতলী গ্রামে আলোচিত মুছা কাক্কা বাহিনীর হাতে ছুরিকাঘাতে মোরশেদ আলী (৩০) নামের এক যুবক খুন হয়।

এসব বিষয় নিয়ে কথা বলতে চাইলে চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জহিরুল ইসলামের মোবাইলফোনে রাত ৯টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত বার বার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। একইভাবে ওসি তদন্ত মো. কামরুল আজমের মোবাইলেও একইঅবস্থা হওয়ায় কোনও ধরনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পেকুয়া উপজেলা: ২ ফেব্রুয়ারি পেকুয়া রাজাখালী ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য দেলোয়ার হোসেন প্রকাশে দেলু ডাকাতকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। মুখোশ পরা একদল ডাকাত এসময় ফাঁকাগুলিও বর্ষণ করে। গত ৩০ জানুয়ারি পেকুয়ায় দিন দুপুরে অস্ত্র ঠেকিয়ে এক লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ৯ ফেব্রুয়ারি পেকুয়া জিএমসি উচ্চ বিদ্যালয়ে নকলে বাধা দেওয়ায় দায়িত্বরত শিক্ষিকা মর্জিনাকে লাঞ্চিত করে একদল শিক্ষার্থী। এসময় পুলিশ এগিয়ে আসলে এএসআই নাজিরকেও লাঞ্চিত করে। পরে দুপুর ১টার দিকে ওই শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি রাজাখালিতে দুই গ্রুপের বন্দুকযুদ্ধে শিশুসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ হয় এবং ২৬ ফেব্রুয়ারি পেকুয়ায় ফের গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এদিকে গত ২০ মার্চ পেকুয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাইম্যাখালী গ্রামে মাদকাসক্ত ছেলে আজিজুর রহমান ওরফে মধুর হাতে বৃদ্ধা মা দিলোয়ারা বেগম (৫০) খুন এবং ২৭ মার্চ ওই উপজেলার টৈটং ইউনিয়নের কনকানন গ্রামের সিএনজিচালক মো. হোসাইনের(৩৫) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়া মোহাম্মদ মোস্তাফিজ ভূঁইয়া বলেন, পেকুয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। মাঝে-মধ্যে কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটা ঘটলেও পুলিশের হাতে অপরাধীরা আটক আছে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণ দেখছেন না তিনি। তিনি এ প্রতিবেদককে উদ্দেশ করে বলেন, অস্ত্র উদ্ধার এবং অপরাধীদের আটক করলে সাংবাদিকরা এসব বিষয়ে লিখেন না।

উখিয়া উপজেলা: গত ২৮ জানুয়ারি গভীর রাতে উখিয়া কলেজের ছাত্র ও উখিয়া ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল মামুন শাহীনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যার দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত প্রকৃত হত্যাকারীদের গ্রেফতার করতে পারেনি স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহত শাহিনের চাচাত ভাই ও উখিয়া উপজেলা যুবলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক বশির আহাম্মদ আজাদ বলেন, খুনিরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখে পড়ে না। এছাড়া গত ১ ফেব্রুয়ারি পুলিশ পাহারায় অস্ত্রসহ ডাকাত বেলালের পলায়ন, ১৩ ফেব্রুয়ারি ইয়াবা ব্যবসায়ী আলমগীর ভূলুকে হত্যা করে লাশ ঘুম এবং পরে লাশ উদ্ধার, ১৪ ফেব্রুয়ারি এসএসসি পরিক্ষাদের বিক্ষোভে পুলিশের লাঠিচার্জ এবং ১৬ ফেব্রুয়ারি কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। এছাড়া ২৮ মার্চ উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পে দু’পক্ষের সংঘর্ষে রাকিবুল্লাহ (২৭) নামের এক সন্ত্রাসী নিহত হয়।

এ বিষয়ে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, উখিয়াতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুব ভালো। সম্প্রতি ছাত্রলীগ নেতা হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি পুলিশ গুরুত্বসহকারে দেখছে এবং আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।

রামু উপজেলা: ২৩ জানুয়ারি ঈদগাঁও পোকখালীতে ফারুক নামে এক রিকশাচালককে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনকে আটক করে পুলিশ। গত ১৯ জানুয়ারি গভীর রাতে রামু উপজেলায় গর্জনিয়ার বড়বিল এলাকায় মুক্তিপণ না পেয়ে অপহরণের তিনদিন পর শিশু সহোদরকে হত্যা করে অপহরণকারীরা। হত্যার শিকার মো. ফোরকানের ছেলে হাসান শাকিল (১০) ও মোহাম্মদ হোসানই কাজল (৮) তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র। গত ৬ জানুয়ারি গভীর রাতে ঈদগড় শরিফপাড়া এলাকায় জমির বিরুদ্ধের জের ধরে স্থানীয় বড়বিল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. নুরুচ্ছফাকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এর আগে ২ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে ছালামীপাড়া গ্রামে জমির বিরোধের জের ধরে ছোট ভাইয়ের ছুরিকাঘাতে বড়ভাই ইছা আহমদ খুন হয়। ১২ জানুয়ারি রাতে গর্জনিয়া কাউচপাড়া গ্রামে মহিউদ্দিন নামে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করে দুই লাখ টাকা ছিনিয়ে নেন দুর্বৃত্তরা। এছাড়া ১ ফেব্রুয়ারি ৬ষ্ঠ শ্রেণির একছাত্রের লাশ উদ্ধার, ৪ ফেব্রুয়ারি স্বর্ণের দোকানে হামলা করে ২ ব্যবসায়ীকে আহত করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি রামুর ঈদগড় সড়কে ডাকাতি, ১৫ ফেব্রুয়ারি রামুর থোয়াইংগাকাটা এলাকায় পাষণ্ড স্বামী পিটিয়ে হত্যা করে এক গৃহবধূকে। এছাড়া কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিনড্রাইভ সড়কে অস্ত্রধারী ডাকাতদল সিএনজি ডাকাতি করে এবং ভাঙচুর করে। ২১ ফেব্রুয়ারি উৎসব থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক হিন্দু তরুণী অপহৃত হন।

এ বিষয়ে রামু থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) প্রভাষ কুমার ধর বলেন, জানুয়ারি মাসে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ছিলেন না। তিনি কয়েকদিন হলো রামু থানায় যোগ দিয়েছেন। তিনি যোগদানের পর থেকে প্রতিটি এলাকা পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। নিয়মিত টহল বাড়ানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিত স্বাভাবিক রয়েছে। এরপরও কয়েকটি টুকটাক ঘটনা ঘটলেও তা নিয়ন্ত্রণ রয়েছে পুলিশের।

টেকনাফ উপজেলা: গত ১৮ জানুয়ারি রাতে টেকনাফ হোয়াইক্যাং এলাকায় শ্বশুর বাড়ির লোকজন নির্যাতন চালিয়ে সালমা নামে এক গৃহবধূকে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। গত ২ ফেব্রুয়ারি টেকনাফ হোয়াইক্যংয়ে জমির বিরোধ নিয়ে দু’পক্ষের সংঘর্ষে মাদ্রাসার ছাত্র আব্দুর রহমানসহ ১২ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের সাবরাং ইউনিয়নের কেচুবনিয়ায় চোরাকারবারীদের এলাপাতাড়ি গুলিতে আতংকিত হয়ে পড়ে গ্রামবাসী। ১৬ ফেব্রুয়ারি এক শ্রমিককে কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। ২৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে এক কিশোরীর আত্মহত্যা। ২ মার্চ টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিত মহেষখালীয়া পাড়া এলাকায় দু’পক্ষের সংঘর্ষে ১জন নিহত এবং আহত হয় ১০ জন। এছাড়া সর্বশেষ ২২ মার্চ সীমান্ত উপজেলা টেকনাফ উপজেলার সাবরাং ইউনিয়নের মুন্ডার ডেইল এলাকায় ইউপি নির্বাচনি সহিংসতায় ৩ জন নিহত হয়েছে এবং আহত হয়েছে কমপক্ষে ২০ জন।

এ বিষয়ে টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল মজিদ বলেন, তিনি সবেমাত্র রামু থেকে টেকনাফে যোগদান করেছেন। তিনি যোগদানের পর কোনও ঘটনায় ঘটেনি। অবশ্য, নির্বাচনি সহিংসতায় ৩ জন নিহতের ঘটনায় কোনও কথা না বলেই ফোন কেটে দেন।

মহেশখালী উপজেলা: গত ১৭ জানুয়ারি মহেশখালী মাতারবাড়িতে কোস্টগার্ডের সঙ্গে জলদস্যুদের বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। এসময় তিনটি বন্দুক ও ২৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। তবে কাউকে আটক করা যায়নি। এছাড়া ২ ফেব্রুয়ারি গ্যাসপাইপ নির্মাণকালে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়ে ৩ শ্রমিককে মারধর করা হয়, একইদিন দুর্বৃত্তরা লবণ মাঠে হামলায় চালিয়ে লুট করা হয় নগদ টাকা, ৩ ফেব্রুয়ারি বড় মহেশখালীতে সন্ত্রাসীদের এলোপাতাড়ি গুলিতে ২ পথচারী আহত হয়, ১৭ ফেব্রুয়ারি দু’গ্রুপে বন্দুকযুদ্ধে ডাকাত নিহত, ২৬ ফেব্রুয়ারি মাতারবাড়িতে সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত হয় ১৫ জন। গত ২০ মার্চ মহেশখালী পৌর নির্বাচনে কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দুই পৌরমেয়র সমর্থকদের গোলাগুলিতে ১জন নিহত এবং গুলিবিদ্ধসহ আহত হয়েছে অর্ধশত।

মহেশখালী থানার নবাগত অফিসার ইনজার্জ (ওসি) বাবুল বনিক বলেন, তিনি যোগদান করার পর থেকে দুয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পুরো মহেশখালী উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি যতদিন থাকবেন, ততদিন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি যাতে অবনতি না ঘটে সে বিষয়ে সতর্ক থাকবেন। এছাড়া সন্ত্রাসীরা যত বড় হউক না কেন, তাদেরকে আইনের আওতায় নিয়ে আসবেন।

এদিকে কুতুবদিয়া থানায় গত ২ ফেব্রুয়ারি ভাসমান অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির লাশ উদ্ধারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা ঘটেছে। তবে জেলার অন্যান্য থানার চেয়ে কুতুবদিয়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক রয়েছে।

/এএইচ/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ