ওরা সারাদিন ভিক্ষা করে, আর সন্ধ্যার পর ড্যান্ডি সেবন করে

Send
শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১২:৪২, এপ্রিল ০৩, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৮, এপ্রিল ০৩, ২০১৬

dandi-kay-pic-sreemangal

শিশুরা যে বয়সে বই খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সেই বয়সে কোমলমতি শিশুরা মাদকে আসক্ত হয়ে পড়ছে। মাদকের টাকা যোগাড় করতে তারা সারাদিন ভিক্ষা করে, আর সন্ধ্যা পর ভিক্ষা করে যা উপার্জন হল তা দিয়ে জুতায় লাগানোর আঠা কিনে বিশেষ উপায়ে নেশায় বুঁদ হয়।

 

এমন চিত্র দেখা গেল মৌলভীবকাজারের শ্রীমঙ্গলের ফিনলে চা বাগান সংলগ্ন বধ্যভূমি একাত্তরে। ওই শিশুদের কাছ কৌশলে জানা গেল, কম দামে জুতার লাগানো গাম কিনে পলিথিনের ব্যাগে ঢ়ুকিয়ে শ্বাস নেওয়া হয়, যা থেকে এক প্রকার নেশা তৈরি হয়ে যায়। এ নেশা তাদের কাছে ড্যান্ডি নামে পরিচিত।

 

যে শিশুরা এ নেশায় আসক্ত হচ্ছে তাদের বয়স  ৯ থেকে ১০ বছর। অল্প পয়সায় এই নেশা করা যায় বলে এতে ঝুঁকে পড়ছে এক শ্রেণির শিশুরা। এক জনের কাছ থেকে ছড়িয়ে যাচ্ছে অন্যজনের কাছে। এমনই তথ্য পাওয়া গেল নেশাগ্রস্ত শিশুদের সঙ্গে কথা বলে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, শ্রীমঙ্গল পৌর শহরে নির্মাণাধীন পরিত্যক্ত ভবন ও রেল গাড়ির বগির মধ্যে এবং শ্রীমঙ্গল ৭১ এর বধ্য ভূমিতে শিশুরা এ বিশেষ উপায়ে নেশা করে। সমবয়সী এ শিশুরা দল বেঁধে বিকেলে ও রাতে নেশা করে। তাদের কেউ পিতৃহীন আবার কেউ মাতৃহীন। কেউ কেউ দরিদ্রতার কারণে ছিন্নমূল শিশু হয়ে ঘুড়ে বেড়ায়।

শ্রীমঙ্গলের সাবেক পৌর মেয়র মো. আহাদ মিয়া ও শহরের জালালিয়া সড়কের বিশিষ্ট সমাজ সেবক শাহেদ আহমদের সঙ্গে এক আলাপ চারিতায় বলেন- এ ছোট ছোট বাচ্চারা যদি নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে তাহলে আমাদের সমাজ কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে।

সামাজিক এ অধপতন ঠেকাতে সামাজিক প্রতিরোধের দাবি জানালেন তারা। তারা আরও বলেন- নেশা থেকে অনেক অপরাধের জন্ম হয়। নেশার টাকা জোগাড় করতে প্রথমে চুরি এবং পরে বড় ধরণের অপরাধের দিকে এগিয়ে যাবে এই শিশুরা। তাই সকলে মিলেই তাদের বোঝানোর পাশাপাশি প্রতিরোধ করতে হবে। তবে নেশাগ্রস্ত কয়েকজন শিশুর অভিভাবকের সঙ্গে কথা হলে তারা জানান, আঠা দিয়ে নেশার কথা শুনে তারা শিশুদের বুঝিয়েছেন। কিন্তু তাতে কাজ না হলে মারধরও করেছেন। সঙ্গদোষে তারা জড়িয়ে পড়ছে এই সব ভয়ঙ্কর নেশার জালে। তাদের কাছে কেউ যাতে জুতার গাম বিক্রি না করে সে জন্য দোকানিদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

শ্রীমঙ্গল থানার পুলিশ পরিদর্শক কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কোনও সামাজিক সংগঠন ও সরকারি পৃষ্টপোষকতায় তাদের বাসস্থানসহ অন্য সুযোগ-সুবিধার ব্যবস্থা করা যায়। এই বিষয় নিয়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে তারা কথা বলবেন বলে জানান।

/জেবি/

লাইভ

টপ