Vision  ad on bangla Tribune

দুই কলেজের বিরুদ্ধে প্রবেশপত্র প্রদানে অর্থ আদায়ের অভিযোগ

নেত্রকোনা প্রতিনিধি১৭:০১, এপ্রিল ০৩, ২০১৬

নেত্রকোনানেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার খালিয়াজুরি কলেজ ও কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর ডিগ্রি পাবলিক মহাবিদ্যালয়ের এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে বকেয়া ও কেন্দ্র ফি’র কথা বলে প্রবেশপত্র দেওয়ার সময় ৮০০ থেকে এক হাজার টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
কলেজ ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে,  রবিবার থেকে শুরু হওয়া এইচএসসি পরীক্ষায় ওই দুটি কলেজ থেকে ২৫৮ জন শিক্ষার্থী অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে খালিয়াজুরি কলেজের  ৭০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। ওই শিক্ষার্থীরা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষা দেওয়ার জন্য গত পাঁচ দিন ধরে তাদের নিজ নিজ কলেজ থেকে প্রবেশপত্র সংগ্রহ করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, খালিয়াজুরি কলেজের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রবেশপত্র বিতরণে বকেয়া, কেন্দ্র ফি, প্রশ্নপত্র আনার কথা বলে ৮০০ টাকা এবং কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর ডিগ্রি পাবলিক মহাবিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে এক হাজার টাকা করে ফি আদায় করছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। তবে ওই শিক্ষার্থীদেরকে টাকা আদায় করার পর কোনও রকম রশিদ দেওয়া হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুইটি কলেজের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জানান, ফরম পূরণের সময় বোর্ড নির্ধারিত ফির পাশাপাশি অতিরিক্ত টাকা দিতে হয়েছে। এতে কেন্দ্র ফিসহ যাবতীয় পাওনা তারা পরিশোধ করেছে। কিন্তু এখন বিভিন্ন খাতের কথা বলে এই টাকাগুলো নেওয়া হচ্ছে। পরীক্ষায় ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে এই ভয়ে তারা কোনও প্রতিবাদ করছে না।

 এ বিষয়ে খালিয়াজুরি কলেজের অধ্যক্ষ মণিভূষণ সরকার জানান, প্রবেশপত্র বাবদ কোনও টাকা আদায় করা হয়নি। এগুলো যাদের আগে বকেয়া ছিল তা আদায় করা হচ্ছে। কোনও চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে না।

কৃষ্ণপুর হাজী আলী আকবর ডিগ্রি পাবলিক মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ জানান, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রশ্নপত্র সংগ্রহ, পরিবহন খরচ, উত্তরপত্র পাঠানো এবং কেন্দ্র পরিচালনার খরচ বাবদ এসব টাকা নেওয়া হচ্ছে। যারা টাকা দিতে পারছে না তাদের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করেই এই ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

খালিয়াজুরি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন দেশের বাইরে থাকায় তাঁর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আনোয়ার হোসান আকন্দ জানান, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ওয়ালী উল্লাহ ও খালিয়াজুরি উপজেলা একাডেমিক সুপাইভাইজার সাইফুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে টাকা ফেরতসহ দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসক মো. মুশফিকুর রহমান  জানান, প্রবেশপত্র বাবদ অর্থ নেওয়া সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত। বিষয়টি তদন্ত করার জন্য শনিবার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) আনোয়ার হোসান আকন্দকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

/এআর/

samsung ad on Bangla Tribune

লাইভ

টপ