behind the news
Rehab ad on bangla tribune
 
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

রংপুরে জাপার দুর্গে ধস, ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয়

লিয়াকত আলী বাদল, রংপুর০৭:০৯, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

সাবেক স্বৈরশাসক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের ঘাঁটি বলে পরিচিত রংপুরে জাপার দুর্গে ধস নেমেছে। পৌর নির্বাচনে প্রার্থী দিতে না পারা, আবার একটিতে প্রার্থী দিলেও শোচনীয় পরাজয় বরণ করেছেন সেই প্রার্থী। শেষ পর্যন্ত দেশব্যাপী দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে রংপুরের ১১টি ইউনিয়নে দলের প্রার্থীদের শোচনীয় পরাজয়ে জেলা, উপজেলা এমনকি তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মাঝে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে। অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, প্রায় ২০ বছর ধরে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা দলটির জনপ্রিয়তা এখন তলানিতে এসে ঠেকেছে।

ইউপি নির্বাচন রংপুর জাপা

তবে ইউপি নির্বাচনে দলের প্রার্থীদের পরাজয়ের জন্য আওয়ামী লীগের নজিরবিহীন কারচুপি, কেন্দ্র দখল করে জোরপূর্বক ভোট নেওয়াকে দায়ী করে তৃণমূল পর্যায়ের নেতারা বলেছেন, নির্বাচন মোটেও নিরপেক্ষ হয়নি। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগের লাভ হয়নি, হয়েছে বিএনপির। আর ক্ষতি হয়েছে জাতীয় পার্টির। কারণ, রংপুরে বিএনপির রাজনৈতিক ভিত্তি কখনওই ছিলো না, এবার তারা জয়ী হতে না পারলেও তাদের দলের ভিত আরও মজবুত হয়েছে।

অন্যদিকে, জেলা ও মহানগর জাপার শীর্ষ নেতারা মনে করেন, ইউপি নির্বাচনে পরাজয়ের মূল কারণ আওয়ামী লীগের ভোট ডাকাতি, কেন্দ্র আর বুথ দখল, আগেই ব্যালট বাক্স বোঝাই করে রাখা। দ্বিতীয় কারণ হচ্ছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে মহাজোটে থেকে সরকারের দালালি করায় সাধারণ মানুষ দলের প্রতি মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। তা ছাড়া বর্তমান সরকার জাতীয় পার্টিকে ধ্বংস করার চক্রান্ত শুরু করেছে। এর সঙ্গে সরকারে থাকা কিছু উচ্চাভিলাষীদের দালালি। এ অবস্থায় আগামীতে অনুষ্ঠিত ইউপি নির্বাচনে অংশ না নেওয়ার ব্যাপারে মত দেন তারা।

১৯৯০ সালে এরশাদ ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়ার পর তাকে কারাগারে নেওয়া হলে এবং আকস্মিকভাবে তার মনোনয়ন পত্র বাতিল করে দেওয়ায় গোটা রংপুর অঞ্চলে সাধারণ মানুষের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ‘রংপুরের ছাওয়াল’ হিসেবে আকাশচুম্বি জনপ্রিয়তা পেয়ে যান এরশাদ। এরই ধারাবাহিকতায় পর পর দুবার রংপুরের ৫টি আসনে জয়ী হন তিনি। একইভাবে রংপুর অঞ্চলের ২১টি আসনে দলের প্রার্থীরাও জয়ী হন। এতে করে গোটা রংপুর জাতীয় পার্টির দুর্গে পরিণত হয়। কিন্তু পরবর্তীতে  নানা কারণে দলের অবস্থা দিন দিন খারাপ হতে থাকে। সর্বশেষ মহাজোটে যোগদান করে মন্ত্রিত্ব গ্রহণ, এরশাদের বিশেষ দূত হওয়াসহ নানা কর্মকাণ্ডে তৃণমূল পর্যায়ে জাপার অবস্থান একেবারে নড়বড়ে হয়ে পড়ে। এরশাদের অহঙ্কার রংপুর তার দুর্গ-এটা এখন ফাঁপা বুলিতে পরিণত হয়েছে।

দলের নেতা কর্মীরা জানান, অতি সম্প্রতি বদরগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে জাতীয় পার্টির প্রার্থী করার মতো লোক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। অবশেষে অপরিচিত লাতিফুল খাবির নামে এক যুবককে মনোনয়ন দেওয়া হলে নির্বাচনে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। অপরদিকে, হারাগাছ পৌরসভায় মেয়র পদে জাতীয় পার্টি কোনও প্রার্থীই দিতে পারেনি। এরপর ইউপি নির্বাচন শুরু হলে প্রথম দফায় রংপুরের পীরগাছা উপজেলার কল্যানী ইউনিয়নে নির্বাচন হয়। সেখানে জাপা প্রার্থী দিলেও পরাজিত হয়। দ্বিতীয় ধাপে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় গত বৃহস্পতিবার। এখানে ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে ৮টিতে প্রার্থী দেওয়া হলেও বাকি ৩টিতে প্রার্থী পর্যন্ত দিতে পারেনি দলটি। নির্বাচনে ৪জন জাপা প্রার্থী দ্বিতীয় স্থান লাভ করলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের সঙ্গে ভোটের ব্যবধান ছিলো অনেক বেশি। ১১টির মধ্যে ১০টিতে আওয়ামী লীগ, আর একটিতে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী রবিউল ইসলাম জয়ী হন। এ নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয় হওয়ার পর দলের সকল স্তরের নেতাকর্মীদের মাঝে দেখা দিয়েছে হতাশা আর ক্ষোভ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জেলার এক শীর্ষ নেতা জানান, দ্বিতীয় দফা ইউপি নির্বাচনের আগে এরশাদ রংপুরে কয়েকদিন অবস্থানকালে চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সহ কয়েকজন জাপা নেতা তার সঙ্গে দেখা করেন। ইউপি নির্বাচন নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু হবে এরশাদের কাছে তারা এমন নিশ্চয়তা চান। কিন্তু এরশাদ তাদের আশ্বস্ত করতে পারেননি। উল্টো তিনি বলেছেন, চেষ্টা করে দেখবেন। এমনকি দলের প্রার্থীদের তেমনভাবে সহযোগিতাও করা হয়নি। ওই সভায় এরশাদ বলেছিলেন, তিনি নাকি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূতের পদ থেকে পদত্যাগ করতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করেও অনুমতি পাননি।

এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর জাপার সদস্য সচিব এস এম ই্য়াসির বলেন, বর্তমান সরকার জাতীয় পার্টির সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। তারা দলকে নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। ইউপি নির্বাচনে নজিরবিহীন ভোট কারচুপি করে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে জয়ী করানো হয়েছে। রংপুরের পীরগঞ্জে অন্তত ৫ জন প্রার্থী জয়ী হতো বলে তিনি দাবি করেন। একইভাবে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে ৩জন দলীয় প্রার্থী জয়ী হলেও তাদের ফলাফল ভোট কেন্দ্রে প্রকাশ না করে, উপজেলা সদরে এনে প্রকাশ করে তাদের হারিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ যদি এভাবে জাতীয় পার্টির ক্ষতি করতে থাকে, তাহলে এতে তাদের কোনও লাভ হবে না। এতে করে লাভ হবে বিএনপির। সেটা তাদের বোঝা উচিৎ। এ অবস্থায় আগামী ইউপি নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার আগে দলের চেয়ারম্যানের ভাবা উচিৎ বলে মনে করেন তিনি।

অন্যদিকে, এরশাদের ভাতিজা সাবেক এমপি ও জেলা জাপার সদস্য সচিব হোসেন মকবুল শাহারিয়ার বলেন, পীরগঞ্জে উপজেলার ১১টি ইউপিতে নির্বাচন নিরপেক্ষ হয়নি। তাদের দলের প্রার্থীদের জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।  তিনি বলেন, দলের অবস্থা এখনও ভালো, কিন্তু সরকারের দালালি না করে সত্যিকারের বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করা উচিত বলে জানান তিনি।

সার্বিক বিষয়ে  রবিবার এরশাদকে জানাবেন বলেও তিনি জানান।

রংপুর মহানগর জাপার আহ্বায়ক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা অভিযোগ করেছেন, রংপুরের ইউপি নির্বাচনের নামে প্রহসন হয়েছে। এভাবে নির্বাচনে দলের অংশ নেওয়ার কোনও মানেই হয় না বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে, জেলা জাপার আহ্বায়ক সাবেক এমপি মোফাজ্জল হোসেন মাস্টার বলেন, দলের অবস্থান নড়বড়ে হয়ে গেছে। দলকে সংগঠিত করা দরকার। তবে এটা ঠিক হয়ে যাবে বলে জানান তিনি। ইউপি নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়নি জানিয়ে বলেন, তাদের দলের প্রার্থীদের জোর করে হারিয়ে দেওয়া হয়েছে।

/এপিএইচ/টিএন/

/আপ: এইচকে/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ