Vision  ad on bangla Tribune

রাঙামাটিতে তরমুজের বাম্পার ফলন

জিয়াউল হক, রাঙমাটি১৩:৩৮, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

এবারের মৌসুমে রাঙামাটিতে তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে। উৎপাদিত তরমুজ এখন বাজারের সর্বত্র। তবে বাম্পার ফলন হলেও কাপ্তাই লেকের পানি সময়মতো না কমায় এবার মৌসুমে তরমুজের আবাদ হয়েছে একদম কম, তাই সব চাষি এবার তরমুজ চাষের সুযোগ পাননি।

কাপ্তাই লেকের ধারে হয়েছে তরমুজের বাম্পার ফলন

স্থানীয় চাষি ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, প্রতিবছর শুষ্ক মৌসুম শুরুতেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কাপ্তাই লেকের ভেসে ওঠা জমিতে ব্যাপক হারে তরমুজের চাষাবাদ হয়। ফসলে আসে উচ্চ ফলন। এখানকার উৎপাদিত তরমুজ স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে বাজারজাত হয় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জেলায়।আর অর্থনৈতিকভাবে আয়-উপার্জনে সক্ষম হন চাষিরা। কিন্তু প্রতিবছর ডিসেম্বরের দিকে আবাদ শুরু হলেও এবার মৌসুমে ঠিক সময়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমায় চাষাবাদে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে বিপাকে পড়ে চরম হতাশায় ভুগছেন চাষিরা। অন্যদিকে আবাদ কম হওয়ায় বাজারে তরমুজের দাম চড়া। বড় ও মাঝারি সাইজের প্রতি তরমুজ এখন বিক্রি হচ্ছে গড়ে ১৫০-২০০ টাকায়। আর ছোট সাইজের তরমুজগুলোর দাম গড়ে ৫০-১০০ টাকা।

চাষিরা বলেন, এ মৌসুমে যারা তরমুজের আবাদ করতে পেরেছেন তারা বাম্পার ফলন পেয়েছেন, বিক্রিও করছেন উচ্চ দরে। এতে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়েছেন তারা। আর কাপ্তাই লেকের পানি ঠিক সময়ে না কমায় চাষাবাদে যারা বঞ্চিত হয়েছেন তাদের কপালে উঠেছে হাত। 

জেলার বরকলের কুটকুটি ছড়ার বাসিন্দা তরমুজ চাষি আবদুল জলিল বলেন, তিনি এবার মৌসুমে অল্প পরিমাণ জমিতে তরমুজের আবাদ করতে পেরেছেন। তবে আবহাওয়া ও সঠিক চাষাবাদে ফলন ভালো এসেছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে বাজারে।
রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রমণী কান্তি চাকমা বলেন, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে গেলে প্রচুর আবাদি জমি ভেসে ওঠে। সেই সব জমিতে প্রচুর তরমুজের আবাদ করেন স্থানীয় চাষিরা। আসে বাম্পার ফলন। এতে চাষিদের বিপুল অর্থনৈতিক আয় হয়।  

নৌকায় করে আনা হচ্ছে কাপ্তাই লেকের জেগে ওঠা জমিতে চাষ করা তরমুজ

তিনি জানান, গত বছর জেলায় ২শ’ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। কিন্তু এবার মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত না কমায় চাষাবাদ হয়েছে খুব কম। এবার মৌসুমে কেবল ৪৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ সম্ভব হয়েছে।  এবার মৌসুমে তরমুজের আবাদ হয়েছে লংগদু, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ি ও বরকল উপজেলার কিছু কিছু জায়গায়। আবাদ হয়েছে টোফেল, গ্লোরি ও চ্যাম্পিয়ন জাতের তরমুজের বীজ।

কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কৃষিবিদদের গবেষণার রিপোর্টে জানা যায়, উপযুক্ত আবহাওয়া এবং উন্নত চাষাবাদের কারণে সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে রাঙামাটিতে তরমুজের বাম্পার ফলন হচ্ছে। এবার মৌসুমে আবাদ কম হলেও উচ্চ ফলন এসেছে।

/এআর/টিএন/

লাইভ

টপ