behind the news
 
Vision  ad on bangla Tribune

দৃক গ্যালারির কর্মকর্তা হত্যা : লাশ ফেলার জন্য ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডে আনা হয়

তানভীর হোসেন,নারায়ণগঞ্জ।।১৯:১৭, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

 ইরফানুল ইসলাম

রাজধানীর দৃক গ্যালারির কর্মকর্তা ইরফানুল ইসলাম ইরফানের লাশ ফেলার জন্যই নারায়ণগঞ্জ আনা হয়েছিল। আর এ জন্য নির্জন স্থান হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডটি। যেখানে এর আগেও এ ধরনের একাধিক ঘটনা ঘটেছে। লাশটি লিংক রোডের পূর্ব পাশে যে লেনে পাওয়া যায়, সেই দিক দিয়ে নারায়ণগঞ্জমুখী যান চলাচল করে। সড়কের কয়েক গজ দূরে পাওয়া যায় লাশটি। সেখানে একটি কাঁচা রাস্তা পাশেই বিল রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা,গাড়িতে করে ইরফানের লাশ আনার পর রাস্তার পাশে পার্ক করে দ্রুত ফেলে দিয়ে পালিয়ে গেছে ঘাতকরা। দিনের বেলা লিংক রোডে কোনও চেকপোস্ট না থাকায় ঘাতকরা সুযোগটি নেয়।

জানা গেছে, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের দুই লেনের সড়কটি ৮ দশমিক ৪ কিলোমিটার। এর মধ্যে চাষাঢ়া থেকে শিবু মার্কেট পর্যন্ত স্থানটি কিছুটা কোলাহলপূর্ণ। কারণ এই স্থানে সড়কের দুই পাশে অনেক স্থাপনা রয়েছে। তবে শিবু মার্কেট পার হয়ে ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের পর স্থানটি অনেকটাই নির্জন যেখান থেকে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল কাউন্সিলর নজরুল ইসলামসহ ৭ জনকে অপহরণ করেছিল র‌্যাব। এছাড়া লিংক রোড থেকে ওই মাসের ১৭ এপ্রিল তুলে নেওয়া হয়েছিল বেলার নির্বাহী রিজওয়ানা সিদ্দিকীর স্বামী গার্মেন্ট ব্যবসায়ী আবু বক্কর সিদ্দিককে। ৩৬ ঘণ্টা পর তাকে ঢাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এছাড়া গত বছর লিংক রোডে উৎসব পরিবহনের একটি বাস থামিয়ে ককটেল বিস্ফারণ ঘটিয়ে ও গুলি করে নুরুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী হত্যা করা হয়। এই রোড থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে একাধিক ব্যবসায়ীকে অপহরণসহ নানা ঘটনা ঘটেছে।

জালকুড়ি বাস স্ট্যান্ড থেকে আবার ভূইগড় বাস স্ট্যান্ড পর্যন্ত স্থানটি আরও নির্জন। একই অবস্থা ভূইগড় থেকে সাইনবোর্ড পর্যন্ত স্থানটিও। এই রোডের আশপাশে তেমন কোনও ঘরবাড়ি নেই। লিংক রোডের ভেতরে থেকে কিছু রোড গিয়েছে বিভিন্ন এলাকায়।

 সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি সরাফতউল্লাহ জানান, লাশ ফেলার জন্যই হয়তো ঘাতকরা নারায়ণগঞ্জ এসেছিল। আর ঘটনাটি দুপুরের পর থেকে বিকেল পর্যন্ত কোনও এক সময় ঘটানো হয়েছে। ইরফানের লাশ নারায়ণগঞ্জ থেকে উদ্ধার করা হলেও মামলা হয়েছে কলাবাগান থানায়। কারণ নিখোঁজের পর ওই থানাতে জিডি করা হয়েছিল। কলাবাগান থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করবে। তবে যে কোনও প্রয়োজনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ তাদের সহযোগিতা করবে।

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছে,শনিবার বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।

লাশ উদ্ধারকারী সিদ্ধিরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবিদ হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান,শনিবার বিকেল সাড়ে ৫টায় যখন লাশ উদ্ধার করা হয় তখন তার পকেটে কোনও ধরনের কাগজপত্র, মোবাইল এমনিক পরিচয় শনাক্ত করার মত কিছু পাওয়া যায়নি। পরে লাশটি অজ্ঞাত হিসেবে মর্গে পাঠানো হয়। ওই সময় তার শরীরে ছিল হলুদ পাঞ্জাবী ও সাদা পায়জামা। লাশের সুরতহালের সময় নিহতের শরীরের তেমন কোনও আঘাতের দাগ পাওয়া যায়নি। তবে গলায় ও গালে নীল রংয়ের ফুলা জখম ছিল। সে হিসেবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে লাশ উদ্ধারের কিছুক্ষণ আগে তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। হয়তো ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই তাকে অপহরণের পর হত্যা করে করা হয়েছে। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন।

/জেবি/

Global Brand  ad on Bangla Tribune

লাইভ

IPDC  ad on bangla Tribune
টপ