behind the news
 
Vision  ad on bangla Tribune

বগুড়ায় বোমা বিস্ফোরণ: নিহত তরিকুল ছিলেন জেএমবি সদস্য!

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি২০:৩৫, এপ্রিল ০৪, ২০১৬

জেএমবিবগুড়ার শেরপুর উপজেলায় জুয়ানপুর কুঠির গ্রামে বোমা বিস্ফোরণে নিহত  দুইজনের মধ্যে একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তার নাম তরিকুল ইসলাম (৩০) এবং তিনি নিষিদ্ধঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্য ছিলেন। তরিকুলের ব্যাগে থাকা তার বড় ভাই কুদরত উল্লাহর পাসপোর্টের সূত্র ধরে তার পরিচয় জানা যায় বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জের পুলিশ সুপার মিরাজ উদ্দিন আহম্মেদ।
পুলিশ জানায়, নিহত তরিকুল ইসলাম (৩০) সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের জামুয়া গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মওলানা আবু বকর সিদ্দিকের ছোট ছেলে। দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা মামলার আসামি তরিকুল কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। জঙ্গী সংগঠনে জড়িত থাকার অপরাধে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে দুই বছর আগে বহিষ্কার করে। এরপর থেকে তরিকুল সিরাজগঞ্জে নিজের গ্রামে এসে জেএমবির কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন। তবে গত কোরবানির ঈদের পর থেকে তাকে নিজ গ্রামে দেখা যায়নি। জঙ্গি সদস্য তরিকুল সম্পর্কে আরও তথ্য জানতে,তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে বলেও জানান পুলিশ সুপার।
এদিকে,তরিকুলের ব্যাগ থেকে উদ্ধারকৃত পাসপোর্টের সূত্র ধরে তার বাবা, ভাই ও বোনসহ ৬ স্বজনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ। সোমবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে তাদের সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের জামুয়া গ্রাম ও বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক, উল্লাপাড়া শাখা থেকে এনে সিরাজগঞ্জ পুলিশ সুপারের কার্যালয় সংলগ্ন ডিবি পুলিশের হেফাজতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

তারা হলেন, তরিকুলের বাবা মওলানা আবু বকর সিদ্দিক (৮০), বড় ভাই বাংলাদেশ ইসলামী ব্যাংক উল্লাপাড়া শাখার সিনিয়র অফিসার মো. সানা উল্লাহ (৪৫), ভাই জামুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লিয়াকত হোসেন (৩৬), বরকত উল্লাহ (৩০), ভাবি মেহবুবা আকতার (৩২) ও বোন সাকেরা খাতুন (২৫)। তাদের সঙ্গে বড় ভাই আহসান হাবিবের দুই শিশু সন্তানও রয়েছে।

ডিবি পুলিশের ওসি ওয়াহেদুজ্জামান জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাদের এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তাদের আটক করা হবে, নাকি জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হবে, এই বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। জেএমবি সদস্য তরিকুলের সঙ্গে বগুড়ায় বোমা বিস্ফোরণের ঘটনাটির সম্পৃক্ততা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ডিবি পুলিশের সেকেন্ড অফিসার রওশন আলী জানান, তরিকুলের বড় ভাই কুদরত উল্লাহের বিরুদ্ধেও জেমএবি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল।  ৮ বছর আগে তিনি জেএমবি সদস্যদের অন্তর্দ্বন্দ্বের জের ধরে রহস্যজনকভাবে নিহত হন। তরিকুলকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করার পর তিনি জোড়ালোভাবে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে জড়িত হয়ে পড়েন।

অন্যদিকে, তরিকুলের আরেক বড় ভাই ইসলামী ব্যাংক উল্লাপাড়া শাখার সিনিয়র অফিসার সানাউল্লাহ জানান, ৬ ভাইয়ের মধ্যে তরিকুল ইসলাম সবার ছোট। ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার সময় সিরাজগঞ্জ আদালত চত্বরে বোমা হামলাকারী হিসাবে তরিকুলকে পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। ৩ বছর হাজতবাসের পর ২০০৯ সালে ওই মামলার রায়ে তিনি বেকসুর খালাস পান। এরপর তিনি আবারও মাদ্রাসায় পড়াশুনা শুরু করেন। গত কোরবানির ঈদের পর থেকে পরিবারের সঙ্গে তরিকুলের কোনও যোগাযোগ ছিল না।

তরিকুল নিখোঁজ হওয়ার পর সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। মেঝ ভাই আহসান হাবিব ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি করেন। আর পঞ্চম ভাই কুদরত উল্লাহ বগুড়ার নজুমা মাদ্রাসায় চাকরিরত অবস্থায় বছর সাতেক আগে গলায় ফাঁস নেওয়া অবস্থায় পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

তবে স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার আগে ও পরে জঙ্গি নেতা শায়ক আব্দুর রহমান ও আতাউর রহমান সানি জামুয়া গ্রামে তরিকুল ইসলামের বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন।

/জেবি/এফএস/ 

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ