Vision  ad on bangla Tribune

রংপুরে যুবকের মৃত্যু নিয়ে পুলিশের ধোঁয়াশা!

রংপুর প্রতিনিধি১৫:৪৪, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

রংপুর

রংপুর নগরীর দেওডোবা এলাকায় সাঈদ (৪০) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ধোঁয়াশা তৈরির অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। পুলিশ একবার বলেছে, অজ্ঞাত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আবার বলেছে পুলিশকে দেখে মোটসাইকেল ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় দৌড়াতে গিয়ে ওই যুবক হার্টফেল করে মারা গেছেন। রংপুর কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সোমবার রাত ৮টার দিকে সাঈদের মৃত্যু হয়। তার কাছে ১০ বোতল ফেনসিডিল ছিল বলেও দাবি করেছে পুলিশ।

এদিকে সাঈদের স্বজনরা অভিযোগ করেছেন, পুরো ঘটনা ধামাচাপা দিতে তাদের কাছ থেকে ময়নাতদন্ত না করে লাশ নিয়ে যাওয়ার আবেদনপত্র নেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ। তবে মঙ্গলবার সকাল থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে শেষ পর্যন্ত লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল মর্গে নিয়ে গেছে পুলিশ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাত ৮টার দিকে রংপুর নগরীর দেওডোবা এলাকায় মোটরসাইকেলে এক যুবককে দেখে কোতোয়ালি থানার এসআই মিজান ও পুলিশের সোর্স মশিউর তাকে ধাওয়া করেন। এ সময় ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যাওয়ার জন্য দৌড় দিলে কিছুদূর যাওয়ার পর রাস্তার পাশে একটি ধানখেতে পড়ে যান এবং সেখানেই মারা যান।

পুলিশ অবস্থা বেগতিক দেখে দ্রুত তার লাশ রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। কিন্তু জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। তারপরও পুলিশ লাশ নিয়ে হাসপাতালের ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে আবারও মৃত ঘোষণা করলে পুলিশ তড়িঘড়ি করে লাশ হাসপাতালের হিমঘরে নিয়ে আসে এবং সেখানেই রেখে চলে যায়। এ সময় সেখানে কর্তব্যরত ধাপ পুলিশ ফাঁড়ির এসআই কিবরিয়া জানান, এক অজ্ঞাতপরিচয় যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ হাসপাতালে নিয়ে এসেছে। লাশের পরিচয় জানা যায়নি।

তবে এই খবর জানাজানি হয়ে যায়। গভীর রাতে জানা যায়, মৃত ব্যক্তির নাম সাঈদ। তার বাবার নাম মতিয়ার রহমান। বাড়ি রংপুরের বদরগজ্ঞ উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নের শালবাগান গ্রামে।

এ ব্যাপারে কোতোয়ালি থানার ওসি এবিএম জাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এক যুবক মোটরসাইকেলে করে ফেনসিডিল নিয়ে বদরগজ্ঞ থেকে রংপুরে আসার সময় নগরীর ডেওডোবা এলাকায় পুলিশ তাকে চ্যালেঞ্জ করলে তিনি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান। এ সময় তার কাছে থাকা ফেনসিডিলের ব্যাগ যেখানে ৫০ বোতল ফেনসিডিল ছিল সেই ব্যাগটি ধানখেতে ফেলে দেন। অনেক খোঁজাখুঁজি করে ১০ বোতল ফেনসিডিল পাওয়া যায়। বাকি ৪০ বোতল নাকি পাওয়া যায়নি। পরে তাকে ধানখেত থেকে অজ্ঞান অবস্থায় রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন। ওসি স্বীকার করেন হাসপাতালে আনার আগেই সম্ভবত ওই যুবক মারা গিয়েছিলেন।

তিনি জানান, মৃত সাঈদের বিরুদ্ধে বদরগজ্ঞ থানায় মাদক আইনে একটি মামলা আছে। বিস্তারিত খবর নিয়ে জানানো হবে।

এদিকে, এসআই মিজান ও পুলিশের সোর্স মশিউর কোনও ডিউটি ছাড়াই কেন সেখানে গেলেন তার কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

রংপুরে যুবকের মৃত্যু নিয়ে পুলিশের ধোঁয়াশা

এদিকে, মঙ্গলবার সকাল থেকে মৃত সাঈদের স্বজনদের ম্যানেজ করার জন্য পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য সাদা পোশাকে হাসপাতালের ডেড হাউজের আশেপাশে অবস্থান নেওয়ায় এ বিষয়ে কেউ কথা বলতে রাজি হননি।

তবে সাঈদের বন্ধু সালাম জানান, পুলিশ তাকে হত্যা করে সাজানো গল্প তৈরি করেছে। তিনি এর বিচার দাবি করেন।

এ ব্যাপারে এসআই মিজানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

 

/বিটি/এফএস/ 

লাইভ

টপ