আদালতে চাচির স্বীকারোক্তিভাতিজার লাশ লুকিয়ে রাখি সেপটিক ট্যাংকে

Send
কুমিল্লা প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৯:১৯, এপ্রিল ০৫, ২০১৬ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১৯, এপ্রিল ০৫, ২০১৬

কুমিল্লার বরুড়ায় স্কুলছাত্র ইব্রাহিম খলিলকে পারিবারিক বিরোধের জের ধরে হত্যার পর তার লাশ সেপটিক ট্যাংকে লুকিয়ে রাখার কথা স্বীকার করেছেন গ্রেফতারকৃত চাচি হোসনেয়ারা বেগম। মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লার ৭নং আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো.সাইফুল ইসলামের কাছে হত্যার বর্ণনা দিয়ে ১৬৪ ধারায় তিনি এ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে হোসনেয়ারাকে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।ইব্রাহিম খলিল

সূত্র জানায়, জেলার বরুড়া উপজেলার শাকপুর গ্রামের সৌদি প্রবাসী আবুল কাশেমের ছেলে স্থানীয় শাকপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্র ইব্রাহিম খলিল (৭) গত ৩১ মার্চ বাড়ির পাশে ফুটবল খেলতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। এর ৩ দিন পর ২ মার্চ তাদের বাড়ির একটি সেপটিক ট্যাংক থেকে গলায় বিদ্যুতের তার পেঁচানো অবস্থায় ইব্রাহিমের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় নিহতের বাবা আবুল কাশেম খবর পেয়ে সৌদি আরব থেকে গত ১ এপ্রিল দেশে ফেরেন। তিনি বাদী হয়ে বরুড়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের পর নিহত ইব্রাহিমের চাচি সৌদি প্রবাসী আবুল বাশারের স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমকে (৩৫) সোমবার আটক করে।  

মঙ্গলবার বিকালে কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. শাহ আবিদ হোসেন পুলিশ সুপার কার্যালয়ে ডাকা সংবাদ সম্মেলনে জানান, পারিবারিক বিরোধের জের ধরে চাচি হোসনেয়ারা তার ঘরে ডেকে নিয়ে ইব্রাহিমকে গলা টিপে হত্যার পর লাশ ঘরের খাটের নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে রাতে গলায় বৈদ্যুতিক তার পেঁচিয়ে একটি সেপটিক ট্যাংকে লাশ ফেলে দেয়।

ইব্রাহিমের পিতা আবুল কাশেম জানান, তিনি ছেলে নিখোঁজের খবর পেয়ে বাড়িতে আসেন। তার বড় ভাইয়ের স্ত্রী এ ঘটনা ঘটাবে তিনি ভাবতেও পারেননি। তার মা সালেহা বেগম তার ঘরে বেশি থাকেন। এছাড়া ইব্রাহিমকে দাদী বেশি ভালোবাসেন তাই তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তার ধারণা। তিনি এ হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেছেন।

/এআর/

লাইভ

টপ