behind the news
Rehab ad on bangla tribune
 
Vision Refrigerator ad on bangla Tribune

বাড়ছে সোহাগের পরিবারের কান্না

কুমিল্লা প্রতিনিধি২১:১১, এপ্রিল ০৬, ২০১৬

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে মিজানুর রহমান সোহাগের (২১) পরিবারেরও কান্নাও। স্বজনদের অভিযোগ, ১০দিন পেরিয়ে গেলেও তনুর ছোট ভাই আনোয়ারের বন্ধু সোহাগের কোনও খোঁজ কেউ দিতে পারেনি। সোহাগ র‌্যাবের হাতে আটক রয়েছে বলে যদিও তার পরিবার দাবি করছে, র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোহাগ নামে কোনো তরুণকে আটক করা হয়নি। 

সোহাগের ছবি হাতে মা ও বাবা

২০১৫ সালে কুমিল্লা সদর উপজেলার আলেকজান মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন সোহাগ। সেনানিবাস সংলগ্ন কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার নারায়নসার গ্রামের নুরুল ইসলামের দুই ছেলে ও দুই মেয়ের মধ্যে সোহাগ তৃতীয়। শিগগিরই বিদেশ যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি।

সোহাগের বাবা নুরুল ইসলাম জানান, ২৭ মার্চ গভীর রাতে বুড়িচং উপজেলার নারায়ণসার গ্রামের বাড়ি থেকে রাতে সাদা পোশাকে ‘প্রশাসনের লোক’ সোহাগকে তুলে নিয়ে যায়। ৩০ মার্চ বুড়িচং থানায় এ বিষয়ে একটি সাধারণ ডায়রি করেন নুরুল ইসলাম।

নিখোঁজ সোহাগের বাবা জানান, তনু হত্যার খবর টিভিতে দেখে তনুর ছোট ভাইকে তার বন্ধু বলে দাবি করে সোহাগ। এরপর সোহাগ এলাকায় তনু হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে বিক্ষোভ করে। ছেলেকে র‌্যাবের তুলে নিয়ে যাওয়ার পেছনে এ বিষয়গুলোর ভূমিকা আছে বলে মনে করেন তিনি। তিনি যথাদ্রুত ছেলের সন্ধান দাবি করেন।

সোহাগের বড় বোন খালেদা আক্তার বলেন, সোহাগকে ঘুম ডেকে থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। হঠাৎ ঘুম থেকে উঠে কিছু বুঝতে পারছিলো না সে। আমাদের দিকে হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে ছিলো। সোহাগকে নিয়ে যাওয়ার সময় আমরা তাদের পরিচয় জানতে চেয়েছি। সুস্পষ্ট পরিচয় না জানিয়ে উল্টো আমাদের শাসিয়েছে তারা। সোহাগ কোনো অপরাধ করলে তার সাজা হবে। কিন্তু নিখোঁজ থাকাটা আমরা সহ্য করতে পারছি না।

তনুর ভাই আনোয়ার হোসেন জানান, সেনানিবাস সংলগ্ন বুড়িচং উপজেলার কালাকচুয়া কাজীম খন্দকার উচ্চ বিদ্যালয়ে সোহাগের সঙ্গে পড়েছি। এছাড়া তার বাড়ির কাছে কালাকচুয়া এলাকায় আমি ড্রাইভিং শিখতে যেতাম। সেখানে তার সঙ্গে কথা হতো। মাঝেমাঝে বিকালেও ওই এলাকায় গিয়ে তার সঙ্গে আড্ডা দিতাম। সোহাগ নিখোঁজ হয়ে গেছে শুনেছি। তার জন্য খারাপ লাগছে।

বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উত্তম কুমার বলেন, ছেলেকে পাওয়া যাচ্ছে না দাবি করে সোহাগের বাবা থানায় সাধারণ ডায়রি করেছেন। তবে ডায়রিতে তিনি তনু হত্যায় র‌্যাব তাকে আটক করেছে এমন কোনও কথা উল্লেখ করেননি।

র‌্যাব-১১ কুমিল্লা ক্রাইম প্রিভেনশন কোম্পানি-২ এর অধিনায়ক মেজর খুরশিদ আলম জানান, র‌্যাব তনুর ঘটনায় সোহাগ নামে কাউকে আটক করেনি।

উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসের বাসার অদূরে জঙ্গলে তনুর লাশ পাওয়া যায়। ২১ মার্চ তার বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। হত্যার ১৬ দিনেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মৃত্যুর সুস্পষ্ট কারণ নির্ণয় ও অপরাধীদের শনাক্ত করা যায়নি।

/এইচকে/

Ifad ad on bangla tribune

লাইভ

Nitol ad on bangla Tribune
টপ